ঢাকা, শনিবার 8 September 2018, ২৪ ভাদ্র ১৪২৫, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিজেএমসি’র কাছে বকেয়া ৫শ’ কোটি টাকা না পেয়ে সঙ্কটে পাট ব্যবসায়ীরা

খুলনা অফিস : বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) কাছে সাধারণ পাট ব্যবসায়ীদের প্রায় ৫শ’ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এ বকেয়া টাকা না পেয়ে ব্যবসায়ীরা অর্থ সঙ্কটে রয়েছে। তারা অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়েছে। 

গত ৩ বছরে এ টাকা জমেছে বলে পাট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। বিজেএমসি’র কর্মকর্তাদের অদক্ষতার কারণে এ পরিমাণ টাকা বকেয়া পড়েছে বলে তারা মনে করেন।

পাট ব্যবসায়ী নেতা মনিরুল ইসলাম বাশার বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭৮ কোটি টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৮০ কোটি, চলতি অর্থবছরে আরও ২৭ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫শ’ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।’

পাট ব্যবসায়ী নেতা শেখ ইমারত হোসেন বলেন, ‘বিজেএমসি কর্মকর্তাদের অদক্ষতার জন্য পাটকলগুলোতে অবিক্রিত ৬শ’ কোটি টাকার পাটজাত পণ্য মজুদ আছে। আর এ কারণেই গত ৩ বছরে পাট ব্যবসায়ীদের ৫শ’ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে।’

সিবিএ নেতা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘পাটের ভরা মওসুমে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে পাট কিনলে প্রতি মণ পাট ২/৩শ’ টাকা কমে কেনা যায়। কিন্তু বিজেএমসি’র এক শ্রেণির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পাটকলে অর্থ ছাড় করাতে সময় ক্ষেপণ হয়। যখন টাকা ছাড় দেয়া হয়, তখন পাট কিনে মিলের লোকসান হয়। চক্রান্ত করে পাটকলগুলোকে পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে পাটখাতের সঙ্গে জড়িত মানুষ সঙ্কটে পড়ছে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, পাট ক্রয় করে মিলে পাট সরবরাহ করার পর্যাপ্ত টাকা নেই ব্যববসায়ীদের কাছে। দেনার দায়ে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে পাট সরবরাহ করা সাধারণ পাট ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হবে। সে ক্ষেত্রে মিলগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

গত বুধবার সাধারণ পাট ব্যববসায়ীদের সমাবেশ খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলস অফিসার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মিলিত পাট ব্যবসায়ী পরিষদ উদ্যোগে এ সমাবেশ হয়। সমাবেশ থেকে এ টাকা পরিশোধের দাবি জানানো হয়। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম বাশার। শেখ ইমাম হোসেনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) ভাইস চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দীন হাওলাদার, সাধারণ পাট ব্যবসায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামীম আহম্মেদ মোড়ল, শ্রমিক নেতা সরদার মোতাহার উদ্দীন, সোহরাব হোসেন, খন্দকার আলমগীর কবিরসহ অনেকে।

বিজেএমসির খুলনা জোনের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা (আরসিও) জেনারেল ম্যানেজার শেখ রহমত উল্লাহ বলেন, ‘গত ৩ বছরে বিজেএমসির খুলনা জোনের আওতায় পাট সরবরাহকারীদের ১৯৮ কোটি টাকা রিজার্ভ রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ছাড় হলেই পাট ব্যবসায়ীরা টাকা পেয়ে যাবেন। এ জন্য আরও ১৫ দিন সময় লাগবে। এ অবস্থায় পাট সরবরাহকারীরা মিলগুলোতে পাট সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে কথা বলে সে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ