ঢাকা, শনিবার 8 September 2018, ২৪ ভাদ্র ১৪২৫, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিএনপি’কে প্রমাণ করতে হবে তাদের নেতাকর্মীরা অপরাধী নয় -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। এখানে সবাই মিলেমিশে থাকবে ও ধর্ম পালন করবে। তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না। সমঅধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম তা অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে গতকাল শুক্রবার হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের অঙ্গ সংগঠন ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের দ্বিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন, পায়রা উড়ানোর মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক, নির্মল রোজারিওসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, বিএনপি’কে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের নেতাকর্মীরা অপরাধী নয়। তিনি জানান সরকারের কাছে ভিডিও ফুটেজ পর্যন্ত রয়েছে। কাজেই বিএনপি নেতাকর্মীরা কে কোথায় কি করছেন তার সব প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। বিএনপি গ্রেফতার নিয়ে যে অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা। এসবে কান দিয়ে জনগণের সময় নষ্ট করার দরকার নেই। এদিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হককে গ্রেফতারের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে। তদন্তে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া না গেলে তার কিছুই হবে না। আদালতে সুপারিশ করা হবে। এটা নিয়ে কারও বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।
অপরদিকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ এদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। কিন্তু পঁচাত্তরের পনের আগস্টের পর সেই ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক মূল নীতিসমূহকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তী সময়ে আমরা যদিও সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। কিšুÍ এখনও পর্যন্ত আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বিস্তার ঘটছে বলে আমরা লক্ষ্য করছি। আমরা মনে করি যে, আজকে বাংলাদেশকে যদি গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে  এগিয়ে যেতে হয় তাহলে এদেশে সকল ধর্মের বিশ্বাসী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সকল ক্ষুদ্র জাতিসত্তাকে সাথে নিয়ে এদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে একটি কথা সবার স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, ২০০১ সালে তথাকথিত নির্বাচনের পর যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে পরে প্রথম সুযোগেই তার পুনরাবৃত্তি ঘটাবে। কেবল তাই নয়, এদেশের গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহকে সমূলে বিনাশে তারা তাদের তৎপরতা চালাবে। তাই আজ প্রয়োজন সকল গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক শক্তির ঐক্য এবং তার মধ্য দিয়ে এদেশের সংখ্যালঘু মানুষের যে অধিকার, তাদের সমমর্যাদা এটা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ