ঢাকা, শনিবার 8 September 2018, ২৪ ভাদ্র ১৪২৫, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিরাপদ সড়ক এখন সবার প্রাণের দাবি

আবু মুনীর : নিরাপদ সড়ক ইংরেজি Safe Road or Secure Route এবং আরবি ‘সালিম সাবিল’ অথবা ‘সীরাতে মুস্তাকীম’। গত ২৯ জুলাই ঢাকার কুর্মিটোলায় একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রীকে বাস চাপা দিয়ে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারা দেশে গড়ে ওঠার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আশা করা হয়েছিল চালকরা যথেষ্ট- সতর্ক ও মানবিক হবে। কিন্তু আমরা তার উল্টো চিত্র দেখছি এখন। চালকের হাতে জিম্মি আমরা। একজন Facebook লিখছেন “নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর Accident মনে হয় বেড়ে গেছে। আর তাই ড্রাইভার গোষ্ঠী যেন জেদ মিটিয়ে ঝাল ঝেড়ে চলেছে মানুষের ওপর। দুর্ঘটনা নামক ঘটনাগুলো প্রত্যেকটাই স্পষ্টত খুন। জেনে বুঝে প্লান করা খুন। খুনিকে আটকানোর কেউ নেই। ভদ্রলোকের মত খুন হয়ে যেতে হবে আপনাকে-আমাকে। ক্যান সাপোর্ট দিসিলেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলন?” সাম্প্রতিক কালে লাখো কিশোর কিশোরীকেই স্কুল কলেজ ছেড়ে কয়েক দিন সড়কে সমবেত হয়ে সেই নিরাপদ সড়কের সেক্টর সম্পৃক্ত অনেকেই দীর্ঘ কালের লাগামহীন ঘুষ, চাঁদাবাজি, দূর্নীতি, দায়িত্ব হীনতার কারণজনিত চরম ব্যর্থতা ও নৈরাজ্যের ছিল এটা প্রতিবাদ। পশ্চিম জার্মানির উত্তরের হ্যামেলিন শহরটিকে বালকেরা দলবদ্ধভাবে ১২৮৪ সালে ত্যাগ করে। তাদের ভাগ্য এবং বালকদের ক্রুসেড নিয়ে জনৈক ইংরেজ কবি ১৮৪২ সালে ‘Pied Piper of Hamelin’ শিরোনামে একটা কবিতা লিখেছেন। Pied Piper শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো; যে ব্যক্তি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বিপথে চালিত করে কিংবা যে নেতা দায়িত্বহীন অঙ্গীকার করে। বাংলাদেশে সংঘটিত এই সাম্প্রতিক সামগ্রিক ঘটনা যদি রাজনীতির জন্য লজ্জাকর না হয় তবে এই দেউলিয়াত্বের কারণে ভবিষ্যতে কেউ ‘Pied Piper of Dhaka’ শিরোনামে কবিতা লিখবেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে কোমলমতি শিশু কিশোররা যে নজির সৃষ্টি করেছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। তাদের দাবি যৌক্তিক, ন্যায্য ও জনগণের প্রত্যাশিত। দেশবাসী তাদের চেতনাকে স্বাগত জানিয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছে। পত্রিকায় দেখলাম বুলগেরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় একটি বাসের ১৭ জন যাত্রী মৃত্যুবরণ করেছে। এতে সেখানকার তিনজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। আগেরকার কথা বাদই দিলাম, এই গত ঈদের সময় থেকে অদ্যাবধি ৩০০ জনেরও অধিক মানুষ সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে। এ জন্য সড়ক পরিবহন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত ছিল, কিন্তু তারা তা করেন নি, এটাই বাংলাদেশের বাস্তবতা। কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি আদায়ের জন্য রাজপথ গরম হয়ে  উঠলে গত ১১ এপ্রিল পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কোটা পদ্ধতিই তুলে দিলাম। দুই মাস যেতে না যেতেই ২৭ জুন একই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বললেন কোটা পদ্ধতি থাকবে। কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর যে অত্যাচার, জুলুম করা হয়েছে এর ক্ষোভ কোনো দিন তাদের মন থেকে মুছে যাবে না। একই কাজ করা হয়েছে নিরাপদ সড়কের দাবি করা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের দাবি যুক্তিযুক্ত বললেও পরে তাদের ওপর চালিয়েছেন স্টিম রোলার। অনেককে মামলা দিয়েছে। এর মাসুল সরকারকে দিতে হবে। ১২ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দাবি মেনে নিতে সরকারকে নতুন আল্টিমেটাম দিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি, হামলাকারীদের বিচার ও পাঁচ দফা দাবির ভিত্তিতে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারির জন্য ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মুল্লা। বিন ইয়ামিন মুল্লা বলেন, ‘কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনে অংশ নেয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সহ অনেক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। ৩১ আগষ্টের মধ্যে দাবি মেনে নেয়া না হলে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে। সরকার এই আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আমরা সরকারের প্রতি আহবান জানাই শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিন। না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোটা আন্দোলনকারীদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। এদিকে তাদের এ সমাবেশ করার কথা ছিল টি.এস.সি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে। কিন্তু বেলা ১১ টা থেকে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে মৌলবাদ বিরোধী ছাত্র সমাবেশ করেন। দেশের সড়কগুলো এখন মৃত্যুর উপত্যকা। সরকার দলীয়দের বেপরোয়া কর্মকান্ডে নিরাপত্তাহীনতায় পুরো জাতি। শুধু নিরাপদ সড়ক নয় নিরাপদ সমাজ গঠন এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি। কারণ এদেশের জনগণ চাই নিরাপদ সড়ক সহ সামাজিক নিরাপত্তা।
প্রাণহানি বাড়লেই বাড়ে তোড়জোড় সড়ক নিরাপত্তায় নেওয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় না। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না নিয়েই সড়ক পরিবহন বিল ২০১৮ সংসদে পাঠিয়ে দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। পরে সংসদ সচিবালয় থেকে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে বিলটি নতুন করে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, কোনো বিল আইনে পরিণত হলে এবং তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয়ের সম্ভাবনা থাকলে সেই বিল সংসদে উত্থাপনের আগে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিতে হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, এ ক্ষেত্রে ভুলটি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। তবে সেটা বড় ধরনের কোনো ভুল নয়। কারণ জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হতে এখনো কয়েক দিন বাকি। এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে বিলটি সংসদে পাঠানো সম্ভব। উক্ত বিলটি রয়েছে কী করলে কী শাস্তি এবং নির্দেশনা।
আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাঃ) বর্ণিত রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “ যে কোনো মুসলমানকে হত্যা করার চেয়ে এই দুনিয়াটি ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহার কাছে অতীব নগন্য।” (তিরমিযী ও নাসায়ী)
আবু সায়ীদ খুদরী (রাঃ) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, “আসমান ও যমীনের সমস্ত বাসিন্দারা যৌথভাবে যদি একজন মুমিনকে হত্যা করে তা হলে আল্লাহ তায়ালা এর শাস্তি স্বরূপ সকলকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।” (তিরমিযী)
হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুলল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ্ বলেন,“আমার ক্রোধ কঠোরতম হয় সেই ব্যক্তির উপর যে এমন ব্যক্তির উপর অত্যাচার করে যার জন্য আমি ছাড়া আর কেউ সাহায্যকারী নেই।” (তাবারাণী)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ