ঢাকা, শনিবার 8 September 2018, ২৪ ভাদ্র ১৪২৫, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিরাপদ সড়কের জন্য করণীয়

মো. ইয়ামিন খান : সড়ক পরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধ এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত মাসের প্রথম কয়েকদিন ধরে চলা স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। কিস্তু উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এখনো কাটেনি। সড়ক দুর্ঘটনায় রাজীবের ডান হাত কেটে যাওয়া, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় পায়েলের মর্মান্তিক মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৯ জুলাই রাজধানীর হোটেল রেডিসনের সামনে জাবালে নূর পরিবহনের ধাক্কায় দিয়া ও করিম নামে দুই কলেজ শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবীতে যে আন্দোলন শুরু করেছিল সেই আন্দোলন অবশ্যই একটি যৌক্তিক আন্দোলন। দিয়া ও করিমের মৃত্যু আমাদেরকে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে, শিক্ষার্থীদের এই ঐক্য দুর্নীতিবাজদের মাথাকে নত করে দিয়েছে, উচ্ছৃঙখল গাড়ির চালক হয়ে গেছে সুশৃঙ্খল; এই আন্দোলন জনগনের মাঝে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা, ফিটনেসবিহীন গাড়ির পরীক্ষা-নিরীক্ষা যা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা করতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার শিক্ষার্থীরা তা প্রমাণ করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে কীভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হয়।
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গণপরিবহনে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়ে জনমনে ভোগান্তির জন্ম হয়েছিল তার অবসান হয়েছে। যাই হোক এই আন্দোলন জাতিকে অনেকটা নাড়া দিয়েছে। তারপরেও তো থামছে না সড়কে মৃত্যুর মিছিল। একটি নিরাপদ সড়কের জন্য দরকার একটি নিরাপদ সমাজ যে সমাজের প্রতিটি মানুষ থাকবে সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার আর অন্যায়, অবিচার, হানাহানি, বিশৃঙ্খলা, অনৈক্য ভূলে সীসা গলানো প্রাচীরের ন্যায় ইস্পাত কঠিন ঐক্যবদ্ধ থাকবে। এ রকম নিরাপদ সমাজের জন্য দরকার অনৈক্য আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী মানুষের মস্তিস্কপ্রসূত সকল জীবনব্যবস্থা আর তন্ত্র-মন্ত্রগুলোকে পরিহার করে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, তওহীদের (এক আল্লাহর হুকুম ছাড়া আর কারও হুকুম মানবো না)  উপর সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ