ঢাকা, শনিবার 8 September 2018, ২৪ ভাদ্র ১৪২৫, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে ১৭ প্রাণ রক্ষা

সাহসী কিশোর সুমনকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন পাবনা জেলা প্রশাসক -সংগ্রাম

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: সুমন হোসেন। ১৩ বছরের টগবগে কিশোর। সাহসী ও প্রাণবন্ত। পাবনার চাটমোহর উপজেলার প্রত্যন্ত হান্ডিয়াল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
পরোপকারের জন্য এলাকায় তার কথা বলাবলি হয়। দারিদ্র্যের বেড়ি পরা সুমন তার এই মানসিকতার জন্য কখনও কখনও বাবা-মায়ের বকাও শুনে থাকে। তবে এবার সে যা করে দেখিয়েছে, তাতে গর্বে বুক ভরে ওঠেছে সবার।
তাদের বাড়ির পাশে চলনবিলে নৌকা ডুবে মরতে বসা ১৭ জনকে একাই উদ্ধার করেছে সুমন। ঘটনা জানতে পেরে তার এই সাহসিতার পুরস্কার দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সুমন এখন এলাকার গর্ব, বাবা-মায়ের অহংকার।
সাহসিতকার পুরস্কার পেলেও সুমনের মনে চাপা কষ্ট রয়েছে। পাঁচজনকে সে বাঁচাতে পারেনি। চোখের সামনে পানিতে ডুবে প্রাণ গেছে তাদের।
গত শুক্রবার সন্ধ্যার কথা। চাটমোহর পাইকপাড়ায় চলনবিলে নৌকা চালচ্ছিল সুমন। সে দেখতে পায়, কিছুটা দূরে একটি বড় ছৈ নৌকার ওপরে কয়েকজন লোক মোবাইলে ছবি তুলছে। হঠাৎ তার চোখের সামনের নৌকাটি ডুবে যায়। তখন সে ভয় পেয়ে সরে পড়েনি। এগিয়ে গেছে নিজের ডিঙি নৌকা নিয়ে। একাই ১০ জনকে তার ডিঙি নৌকায় তুলে ডাঙায় নিয়ে আসে। অন্য সাতজন সাঁতরে এসে তার নৌকা ধরে জীবন বাঁচায়।
সুমনের সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে পাবনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) জসিম উদ্দিন তাকে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছেন। এ টাকা তার পড়াশোনায় সহায়তা করবে বলে মনে করেন ডিসি।
তবে এই স্বীকৃতির পরও সে মনঃকষ্টে আছে। সুমন জানাল, পাঁচজনকে ডাঙায় তুলে আনতে না পারার কথা সে ভুলতে পারছে না। ৫ হাজার টাকা পুরস্কার পাওয়ার পর সে বলল, আমি খুশি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি পড়াশোনা করতে চাই।
চলনবিলের সাংবাদিক ও সমাজসেবক জাকির হোসেন বলেন, সুমনের জন্য এখন এলাকার সবাই গর্বিত।
তার মতো কিশোরের সাহসিকতায় ১৭ জন মানুষ নতুন জীবন পেয়েছে। সে দরিদ্র পরিবারের সন্তান। চার ভাই। বাবার নাম আবদুস সামাদ। পাইকপাড়া গ্রামেই বাড়ি।
তাদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তবে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারলে সে জীবনে ভালো কিছু করে দেখাবে।
ডিসি জসিম উদ্দিন বলেন, বয়স কম হলেও কীভাবে মানুষের বিপদে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে আসতে হয়, সুনম তা দেখিয়ে দিয়েছে। সুমনের সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ৫ হাজার টাকা শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ