ঢাকা, শনিবার 8 September 2018, ২৪ ভাদ্র ১৪২৫, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে স্কুলছাত্রীকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ ॥ ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা এম,এন, উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী নন্দলালপুর গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী ময়েন এর মেয়ে মাসুমা খাতুন ও তাঁর  ক্লাস ফ্রেন্ড শামীম হোসেন কে জোরপূর্বক স্কুল কক্ষে আটকিয়ে মারপিট ও ভয় ভীতি দেখিয়ে নগ্ন ছবি তুলে এবং ভিডিও ধারন করে ১লাখ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগ করেছে পোরজনা গ্রামের প্রভাবশালী মন্টুর ছেলে রানা ও ছাত্তারের ছেলে হাশেমের বিরুদ্ধে । সরে জমিনে অনুসন্ধান করে এবং ভুক্তভুগী স্কুল ছাত্রী মাসুমা ও তাঁর পরিবার সূত্রে জানা যায়, পোরজনা বাজারের স্যান্ডেল ব্যবসায়ী ও ছোট মহারাজপুর গ্রামের মোজাম দীর্ঘদিন ধরেই তার দোকানের সামনে দিয়ে স্কুলে যাওয়া মাসুমাকে ডেকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়ার পাশাপাশি তাঁকে নিয়ে দূরে ঘুরতে যাওয়ার কথা জানায়। এমনকি মোবাইল সেট কিনে দেয়ার পাশাপাশি তাঁকে স্যান্ডেল সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে দেয়ার প্রলোভন দেয় মোজাম।  এতে মাসুমা রাজী না হওয়ায় স্কুলে তাঁর ক্লাস ফ্রেন্ড শামীমের সাথে প্রাইভেট পড়া ও এক সঙ্গে চলাফেরাকে মেনে নিতে পারেনি মোজাম। মাসুমা সাংবাদিকদের আরও জানায়, মোজাম এতে ক্ষুব্দ হয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী রানা ও হাশেমকে লেলিয়ে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে স্কুল ছুটি হওয়ার পর একটি কক্ষে আটকিয়ে শোমীমের মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে মাসুমাকে নগ্ন করে ক্লাস ফ্রেন্ড শামীমের সাথে জোরপূর্বক আপত্তিকর ছবি তোলে। এবং ভিডিও ধারন করে। পরবর্তীতে রানা ও হাশেম কেড়ে নেয়া মোবাইল ও মেমোরিকার্ড শামীমার বাবাকে ফেরৎ দেয়।  এরপর থেকে রানা নিজে তাঁর সহযোগীদের নিয়ে শামীমার গ্রামের বাড়ী নন্দলালপুরে যায়, বাড়ীতে কাউকে না পেয়ে পাশের বাড়ীরর এক মহিলার নিকট মোবাইল নম্বর দিয়ে আসে যোগাযোগের জন্য।  পরবর্তীতে ঐ মোবাইলে শামীমার ভাই যোগাযোগ করলে তাঁদের কাছে ছোট বোনের নগ্ন ভিডিও আছে বলে জানায় ,সেই সাথে প্রথমে, ৫ লাখ পরে ১ লাখ টাকা দাবী করে।  এবং টাকা না দিলে শামীমার ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকী দেয়।  বিষয়টি জানাজানি হলে গত ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে বড়মহারাজপুর মসজিদের সামনে জাদুর বাড়ীতে আপোষ মিমাংসার জন্য দুইপক্ষ একত্রিত হলে অভিযুক্ত রানা ভিডিও ধারন ও টাকা দাবীর কথা স্বীকার করে।  কারণবশত ঐদিন বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।  খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে সত্যতার জন্য অভিযুক্ত রানার বাড়ীতে গিয়ে রানার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অভিযুক্ত হাশেমের সাথে যোগাযোগ করলেও সে ঢাকা পাড়ি জমিয়েছে বলে তার মা জানায়।  এ বিষয়ে ঘটনার মূল হোতা মোজামকে ফোন করে জানতে চাওয়া হলে সে বিষয়টিকে অসম্ভব বলে উড়িয়ে দেন।  এ বিষয়ে স্কুল ছাত্রী মাসুমার বাবা ময়েন দোকানদার জানান, মোজাম ঘটনার মূল নেপথ্যে কাজ করেছে।  আর রানা ও হাশেমকে দিয়ে ভিডিও কে পূজি করে তাঁদের পরিবারকে ব্লাকমেইল করছে। তাঁর কোমলমতি মেয়ের চরিত্র ও ভবিষ্যত জীবন নিয়ে ওরা ছিনিমিনি খেলছেন। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনার সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তিও দাবী করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ