ঢাকা, রোববার 9 September 2018, ২৫ ভাদ্র ১৪২৫, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইসরাইলী বাহিনীর গুলীতে প্রাণ গেল ফিলিস্তিনী কিশোরের ॥ আহত ৩৯৫

৮ সেপ্টেম্বর, মিডিল ইস্ট আই, আনাদুলো এজেন্সি : গাজা সীমান্তে ইসরাইলী সেনাবাহিনীর গুলীতে ১৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনী কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ আরো অন্তত ৩৯৫জন আহত হয়েছেন।

 দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।

নিজেদের বসতভিটায় ফিরে যাওয়ার অধিকারের দাবিতে সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে ফিলিস্তিনীদের বিক্ষোভে শুক্রবার হাজার হাজার লোক অংশ নিয়েছিলেন। এ সময় ইসরাইলী হামলায় অন্তত ৩৯৫ জন আহত হন। রাফাহ অঞ্চলে ১৭ বছর বয়সী বিলাল খাফাজার বুকে গুলী লাগলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারীরা বেলুনে দাহ্য বস্তু যুক্ত করে তা সীমান্তের ওপাড়ে উড়িয়ে দেন। এতে ইহুদী রাষ্ট্রটির ভেতরে কয়েশ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং তাদের কৃষিখামারগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরাইলী সেনাবাহিনী বলেছে, গাজা থেকে নিক্ষেপ করা গ্রেনেডে তাদের নিরাপত্তা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের পর্যবেক্ষণ চৌকিতে তারা বিমান হামলা চালায়।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ শুরু হওয়া বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ১৭৪ ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালেও আহত এক ফিলিস্তিনী তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

১৯৪৮ সালে ইসরাইলী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সাত লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনীকে তাদের বাব-দাদার বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তারা এখন পার্শ্ববর্তী আরব দেশ, গাজা ও পশ্চিমতীরে শরণার্থীর জীবন যাপন করছেন।

আহেদ তামিমির বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনের কর্মী আহেদ তামিমির বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনী প্রতিরোধের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা তামিমির পাশাপাশি তার পরিবারের বিরুদ্ধেও ওই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হয়েছে। শুক্রবার তার বাবা বাসিম আল তামিমি তুর্কি বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, তারা জর্ডান হয়ে ইউরোপ সফরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ইসরায়েলী নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনী তরুণী আহেদ তামিমি ইসরায়েলী এক সেনা সদস্যকে চড় মেরেছিলেন। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ইসরায়েলের সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদদেরও ক্ষুব্ধ করে তোলে। তাকে এমন কি গুলী করে মেরে ফেলার দাবিও উঠেছিল ইসরায়েলে। গত ডিসেম্বরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় তার বয়স ছিল সতের বছর। আট মাস কারাভোগের পর গত ২৯ জুলাই ছাড়া পান তিনি।

ইউরোপে ফিলিস্তিনী প্রতিরোধ আন্দোলন ও ইসরায়েলী জেলে তামিমির কারাভোগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত কিছু অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তামিমির। কিন্তু ইসরায়েল তাদের বিদেশ সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণ ব্যাখ্যা করে কোনও কিছু বলেনি ইসরাইল।

আহেদের বাবা ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম বলেছেন, ইরান যে ফিলিস্তিনের শত্রুদের সঙ্গে মিলে অঞ্চলটিকে বিভক্ত করে ফেলার চক্রান্ত করছে, আহেদ তামিমি সফরে যেতে পারলে সে বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরতে পারতেন। আর সে ভয়েই তার ওপর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

ফিলিস্তিনের আহেদ তামিমি যেন ছোট কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বড় কাগারে ঢুকেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ