ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিদেশি পর্যটকদের একটি ‘বর্ধিত গন্তব্য’ হতে পারে বাংলাদেশ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

মূলত চীন থেকে ভারত ও মিয়ানমারে ভ্রমণরত পর্যটকদের ভ্রমণের বর্ধিত গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে আসার প্রচারণা ও প্রস্তাব দিয়ে বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা যেতে পারে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এমন কথা জানিয়েছেন।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত বেল্ট এবং রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) -এর অধীনে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর পর্যটকদের ওপর অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে চীন।ইউএনবি।

কর্মকর্তারা বলেন, ভারতও তার বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহাসিক জায়গা চীন থেকে আগত পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। চীন এক বছরে বিশ্বের সর্বোচ্চ ১৪৪ মিলিয়ন পর্যটক সরবরাহ করছে।

এদিকে, মিয়ানমারের অন্যতম বৃহত্তম পর্যটক হচ্ছে চীনের মানুষ। দেশটির জনপ্রিয় পর্যটন স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়, ধর্মীয় স্থান মন রাজ্য, পিন্ডায়া, বেগো এবং হপা-এন ধর্মীয় স্থান; প্রাচীন শহর বাগান, ম্রাউক-উ, সমুদ্রসৈকত নাবুল এনগাপাল।

ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) এর পরিচালক তৌফিক রহমান ইউএনবিকে বলেন, ‘ভারত ও মিয়ানমারে ভ্রমণরত পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য আমাদের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের জন্য বাংলাদেশকে একটি বর্ধিত গন্তব্য করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাত উভয়কে একটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে যাতে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আরো সমৃদ্ধ হয়।

সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগমনী ভিসা সহজীকরণ, অভিবাসন, কাস্টমস ইস্যু এবং সমুদ্র ও স্থলবন্দরে আগমনী ভিসার মাধ্যমে বর্ধিত গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটকদের সাহায্য করতে পারে।

তৌফিক রহমান আরো বলেন, ভারত ও মিয়ানমারের ট্যুর অপারেটরদের সাথে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বৃহত্তরভাবে সংযুক্ত থাকতে হবে। যাতে বিদেশি পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশকে একটি বর্ধিত গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।

তিনি বলেন, সমুদ্রের ক্রুজ পর্যটকদের মাধ্যমে পর্যটন খাতে একটি নতুন সুযোগ উন্মোচিত হয়েছে, যার দিকে বাংলাদেশের একটি গভীর মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন।

কর্মকর্তারা বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরের সময়, সংস্কৃতি, শিক্ষা, পর্যটন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিময় ও সহযোগিতা সম্প্রসারণে এবং অন্যান্য ক্ষেত্র যেমন গণমাধ্যম, চিন্তাভাবনা, তরুণ সমাজ, নারী সংগঠন, বেসরকারি গ্রুপ এবং  দু’দেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া প্রচারে দু’দেশ সম্মত হয়।

এছাড়া ইনট্রা-বিমসটেক পর্যটন সহযোগিতার মাধ্যমে পর্যটন খাতে সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, নেপালের কাঠমান্ডুতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিমসটেকের চতুর্থ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো ইনট্রা-বিমসটেক পর্যটনের প্রচার-প্রচারণার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলেন, সদস্য দেশগুলো কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেবে যাতে অতীতের উদ্যোগগুলো বিবেচনা করা হয় এবং 'বিমসটেক অঞ্চলের পর্যটন উন্নয়ন ও প্রচারণার কর্ম পরিকল্পনাসহ অতীতে নেয়া উদ্যোগগুলো গৃহীত ও পুনর্বহাল করা হয়।

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন সংযোগ নিরাপদ ও দ্রুত করার মাধ্যমে পর্যটনকে সহজীকরণের ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলো দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে।

তারা বৌদ্ধ পর্যটন স্থান, মন্দির পর্যটন স্থান, প্রাচীন শহর, ইকো-পর্যটন ও চিকিৎসা পর্যটন উন্নয়ন ও প্রচারের জন্য তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মতে, অনুমান করা হয়, সমগ্র বিশ্বের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন বৌদ্ধ রয়েছে এবং তাদের বেশিরভাগই পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বসবাস করে।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, সরকার দেশে পর্যটনের টেকসই উন্নয়নের দিকে আলোকপাত করছে এবং বৌদ্ধ ঐতিহ্যের মতো পর্যটন সম্পদের উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ