ঢাকা, রোববার 9 September 2018, ২৫ ভাদ্র ১৪২৫, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জনগণ ভোট না দিলে ক্ষমতায় থাকব না -প্রধানমন্ত্রী

গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ জাতীয় কনভেনশন আন্তর্জাতিক সেমিনার, কাউন্সিল অধিবেশন ও বার্ষিক সাধারণ সভা ২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন -পিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার পরপর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় আছে। যদি মানুষ আমাদের ভোট দেয়, আমরা আবারও ক্ষমতায় আসব। আর যদি তারা ভোট না দেয়, আমরা ক্ষমতায় থাকব না।’
গতকাল শনিবার কৃষি ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরেন। কেআইবির সভাপতি এ এম এম সালেহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন কেআইবির মহাসচিব মো. খায়রুল আলম। এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির হার কমাতে তাঁর সরকার সক্ষম হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোর সুবিধা ভোগ করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো অগ্রগতি অর্জন করেছে। আমরা মুদ্রাস্ফীতির হার কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এটি এখন ৫ দশমিক ৪ থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। আমাদের অর্থনীতি এখন শক্তিশালী, যেহেতু আমরা ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখছি। এখন তৃণমূলের সাধারণ মানুষ এসবের সুবিধা ভোগ করছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় ফিরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অগ্রগতির জন্য বড়, মাঝারি ও ছোটমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আমরা এখন সেই কর্মসূচিগুলোর সাথে এগিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, সরকার দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে চায়। বাংলাদেশ এখন সবজি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম, আলুতে অষ্টম, আমে সপ্তম এবং মাছ উৎপাদনে তৃতীয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ এখন পুরোপুরি আত্মনির্ভরশীল। আমরা এখন আমাদের পণ্যের মান বৃদ্ধি করতে যাচ্ছি। সেই সাথে আমাদের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণেও যেতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। স্থানীয় বাজার প্রসারিত হচ্ছে। আমরা দেশের মধ্যে আমাদের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য বিক্রি করতে পারি। একই সঙ্গে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার গবেষণার ওপর গুরুত্ব প্রদান করেছে। গবেষণার মাধ্যমে, সরকার চাল, মাছ ও সবজি উৎপাদন উন্নত করেছে। সরকার কৃষি-সংশ্লিষ্ট সব সুবিধা এবং বিনিয়োগে কৃষকদের সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, এটি সকলেরই কর্তব্য। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে গেছে। আর এগিয়ে গেছে বলেই আমরা কিন্তু আপনাদের (সরকারি চাকরিজীবী) বেতন ১২৩ ভাগ বৃদ্ধি করে দিয়েছি। এত বেতন কোনোদিন কোনো সরকার বাড়াতে পারে নাই। কিন্তু আমরা সেটাও করে দিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নীতি; আমরা খাদ্য উৎপাদনখাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করব, কারও কাছে হাত পাতব না। আর বিএনপির নীতি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা হওয়া যাবে না। বিদেশ থেকে ভিক্ষা আনতে হবে। তাই ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশকে কারও কাছে হাত ভিক্ষার হাত বাড়াতে না হয়।
তিনি  বলেন, ‘সামনে আমাদের নির্বাচন, আমরা একটানা দুই টার্ম থাকলাম। তৃতীয় টার্মে জনগণ ভোট দিলে আসব, আর না দিলে আমরা বলতে পারি না! কিন্তু আমরা চাই যে অগ্রযাত্রাটা শুরু করেছি। সেটা যেন থেমে না থাকে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতি কৃষির ওপর। আমরা সেটাকে গুরুত্ব দিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। আজকে আমরা আমাদের বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। এই সমুদ্র সম্পদ শুধু খনিজ পদার্থ না মৎস্যসহ আরও বহু ধরনের সমদ্র সম্পদ অর্জন করে আমাদের অর্থনীতিকে কাজে লাগাতে পারব। সে জন্য আমরা এরইমধ্যে ব্লু ইকোনমি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে কাজ শুরু করেছি।’
কৃষিবিদদের বিভিন্ন চাওয়া পাওয়ার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপানারা নিজেরাই বলেছেন, নামমাত্র মূল্যে জমি দিয়েছি। যখন যা চেয়েছেন কখনো কার্পণ্য করিনি। তবে পেলেই যে চাইতে হবে, সেটাও ঠিক না। কারণ এটাও মাথায় রাখতে হবে। আমরা কিন্তু কাউকে বঞ্চিত করিনি। বেতন যখন বাড়িয়েছি সকলের জন্যই বাড়িয়েছি।’
কৃষিক্ষেত্রে কৃষিবিদদের অবদানের কথা স্বীকার করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে চাওয়ার কিছু নেই। কাকে কখন কী দিতে হবে আর কতটুকু সুযোগ করে দিতে হবে, সে বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট চিন্তাভাবনা আছে।’
‘আমরা শুধু এইটুকু চাই, আমাদের দেশ যেন ২১০০ সাল পর্যন্ত দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রেখে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। আপনারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন’ বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যাই কিছু করি না কেন? সরকারের হাতে কিছু থাকতেই হয় নইলে বীজ উৎপাদন করব তার কোয়ালিটিও ঠিক থাকবে না। আর বিতরণ ক্ষেত্রে কোন সুশৃঙ্খলা আসে না। সার-বীজ থেকে কৃষি উপকরণ প্রতিটি জিনিস যেন আমাদের দেশের মানুষ সময়মতো পায়, সেটাই তো আমাদের লক্ষ্য। জাতির পিতা সে ব্যবস্থাগুলো করেছিলেন।’
‘কিন্তু দুভার্গ্য, আমরা দেখেছি সেই পদক্ষেপগুলো নষ্ট করে দিয়েছিল, পরবর্তী সরকার যারা এসেছিল। সেটা জিয়া সরকার, এরশাদ সরকার, খালেদা জিয়া সরকার; প্রত্যেকেরই চিন্তাভাবনা একটু বৈরী ছিল।’
যে কারণে সারের জন্য, সারের দাবি করতে যেয়ে ১৮ জন কৃষক নিহত হয়েছিল। আর আজকে বাংলাদেশে সার চাইতে, কৃষকের ধরনা দিতে হয় না। সার কৃষকের হাতে পৌঁছে যায় বলে যোগ করেন তিনি।
জাতির পিতা বলেছিলেন, ভিক্ষুক জাতির কোনো ইজ্জত থাকে না। আজকে আল্লাহর রহমতে আমাদের আর সেই দুর্দশা নেই। আমরা এখন খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করেছি এবং খাদ্য শস্য উৎপাদনে সারাবিশ্বে চতুর্থ স্থান করে আছি।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা ও আয়তনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা আমাদের দিতে হবে। উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমাদের জমির সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আমাদের জমি অত্যন্ত উর্বর। সেটা মাথায় রেখে আমাদের ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।’
কৃষি গবেষণায় সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের দেশ এগিয়ে যাক। আমাদের যেন কারও কাছে হাত পেতে চলতে না হয়। এটাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের নিজস্ব বাজার আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা নিজের দেশেও যেমন বিক্রি করতে পারবো। বিদেশেও রফতানি করতে পারবো। তাই প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি সরকারের সময় সারের দাবিতে লাইনে দাঁড়িয়ে গুলী খেয়ে প্রাণ দিতে হয়েছিল ১৮ জন কৃষককে। সেই প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন সারের জন্য কৃষকদের গুলী খেতে হয় না। সার কৃষকের হাতের মুঠোয় চলে আসে।
তিনি বলেন, ‘১০ টাকায় কৃষকদের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছি। তাদের ভর্তুকির টাকা তাদের হাতে পৌঁছায়। সরকারে এসে তিন দফা সারের দাম কমিয়েছি। যাতে কৃষকরা উৎপাদন বাড়াতে পারেন।’ আগে বর্গাচাষীরা ঋণ পেত না। কিন্তু আমরা প্রথম এই প্রথম ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ