ঢাকা, রোববার 9 September 2018, ২৫ ভাদ্র ১৪২৫, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিয়োগের শর্ত উপেক্ষা করেই চলেছেন বেরোবি ভিসি কলিম উল্লাহ

সংগ্রাম ডেস্ক : ভিসি হিসেবে নিয়োগের শর্ত উপেক্ষা করেই চলেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ। তার নিয়োগের প্রধান শর্ত ছিল সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান। কিন্তু সেই শর্ত বরাবরের মতোই অমান্য করছেন তিনি। বাংলা ট্রিবিউন
গত আগস্ট মাসে তিনি মাত্র পাঁচদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। এর মধ্যে এক রাত ক্যাম্পাসে থেকেছেন। জানা গেছে, ভিসি তার ইচ্ছেমতো ক্যাম্পাসে আসেন। বেশিরভাগ দিনই সকালে এসে বিকেলে ঢাকায় ফিরেন। এর আগেও ভিসির কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ভিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার প্রায় ১১ মাসে (৩৪০ দিন) তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৯০ দিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে তিনি মাত্র পাঁচদিন ক্যাম্পাসে এসেছিলেন যার মধ্যে চারদিন সকালের বিমানে এসে দুপুরে ফিরে গেছেন। এক রাত তিনি ক্যাম্পাসে তার বাস ভবনে অবস্থান করে সকালে আবারও ঢাকায় চলে যান। ১ আগস্ট ভিসি সকালে বিমানে করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন। মাত্র আড়াই ঘণ্টা অবস্থান করে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিমানে ঢাকায় চলে যান। এর ৯ দিন পর ১০ আগস্ট সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। বিকেল ৪টায় বিমানে করে ঢাকায় ফিরে যান। এর তিনদিন পর আবারও ঢাকা থেকে বিমানে করে ক্যাম্পাসে আসেন সকাল ১০টায়। ওইদিন ক্যাম্পাসে তার নিজস্ব বাসভবনে রাতে থাকেন। পরের দিন ১৪ আগস্ট বিকেলে বিমানে রংপুর থেকে ঢাকায় চলে যান। পরের দিন ১৫ আগস্ট সকালে ঢাকা থেকে বিমানে করে রংপুরে আসেন। দুপুর তিনটা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করে আবারও বিমানে ঢাকায় চলে যান। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে আসেন।
এরপর টানা ১৩ দিন ভিসি আর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেননি। ২৯ আগস্ট সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে বিমানে রংপুরে আসেন। ওইদিন বিকেল ৪টায় বিমানযোগে ঢাকায় চলে যান। এরপর আগস্ট মাসের বাকি দুদিন তিনি আর রংপুরে আসেননি। টানা ছয়দিন পর গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে বিমানে বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন। রাতে ক্যাম্পাসে থেকে আবারও ঢাকায় চলে যান। এরপর গত তিন ধরে আর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেননি উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভিসি অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ গত বছর মাত্র ৯০ দিন ক্যাম্পাসে ছিলেন যার বেশিরভাগ সময় তিনি সকালে ঢাকা থেকে বিমানে এসে বিকেলে আবার ঢাকায় ফিরে গেছেন। হাতে গোনা কয়েকদিন ক্যাম্পাসে তার বাসভবনে ছিলেন।
এভাবে ভিসির দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ফাইলপত্র সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দিনের পর দিন পড়ে থাকে। তার অনুপস্থিতির সুযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কর্মকা-ে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের ১৪ জুন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ভিসি হিসেবে অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহকে নিয়োগ দেন। নিয়োগের প্রধান শর্ত ছিল সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান। সেই শর্ত লিখিতভাবে মেনেই তিনি ভিসি পদে নিয়োগ পান। অথচ সেই শর্ত তিনি বারবারই উপেক্ষা করছেন। ফলে তার অনুপস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে। তবুও এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে ২০ মে ‘৩৪০ দিনের চাকরিতে ২৫০ দিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার প্রায় ১১ মাসে (৩৪০ দিন) অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৯০ দিন। অর্থাৎ ২৫০ দিনই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রিপোর্টটিতে বলা হয়, ভিসি বেশিরভাগ সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকেন না। সপ্তাহে দু-একদিন ক্যাম্পাসে থেকে আবার ঢাকায় চলে যান। কোনও কোনও সময় ঢাকা থেকে সকালের ফ্লাইটে সৈয়দপুরে নেমে সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আবার ওই দিন বিকেলের ফ্লাইটে ঢাকায় চলে যান।
এদিকে উপাচার্যের অনুপস্থিতির সুযোগে তার পিএস আমিনুর রহমান এখন অঘোষিত উপাচার্যের ক্ষমতা প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তিনি (উপাচার্য)অনুপস্থিত থাকা মানে কাজ করেন না তা নয়। তিনি কাজ করছেন, ক্যাম্পাসে না থাকলেও তো কাজ করেন।’ আর তার অনুপস্থিতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগ একেবারে মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।
এ সব বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইবরাহিম কবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করবেন না বলে জানান।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ বলেন, ‘আজকাল ডিজিটাল বাংলাদেশে ভার্চুয়াল কাজকর্ম সবখানে চলছে। সবসময় ফিজিক্যালি একটি নিন্দিষ্ট জায়গায় বসে থাকার তো কোনও সুযোগ নাই। মূল বিষয় হচ্ছে কাজ হচ্ছে কিনা সেটা দেখা।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যতগুলো কাজকর্ম আছে সবগুলো আমরা সুন্দরভাবে করতে সক্ষম হয়েছি।’
কর্মস্থলে না থাকার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একটা মহল আর কোনও ইস্যু না পেয়ে এসব বিষয়ের সমালোচনা করছে। কিছু লোক তো সবসময় অসন্তুষ্ট থাকবেই।’
তিনি সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘কী ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ে? নয় বছরে কিছু হয়েছে? সেই জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা কাঠামোতে নিয়ে এসেছি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ