ঢাকা, রোববার 9 September 2018, ২৫ ভাদ্র ১৪২৫, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে টিকে থাকার একমাত্র উপায় সুষ্ঠু নির্বাচন

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে যুব জাগপা আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও যুব জাগপার কেন্দ্রীয় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু বিএনপির জন্য নয়, এদেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য নয়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আওয়ামী লীগের। কিন্তু তারা আজকে নার্ভাস হয়ে গেছে। তাই তারা আবোল-তাবোল বলছে। এই সরকার যদি তাদের ভেতরের আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অধিষ্ঠ থাকতে চায় তাহলে একমাত্র উপায় হলো একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো। এখানে কঠিন সত্য হচ্ছে আওয়ামী লীগ নিজেও জেনে গেছে এদেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এদেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে বলেই তারা আজকে ভীত, সন্ত্রস্ত, আতঙ্কিত। এদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচন বিতর্কের দুর্গন্ধ আজ সারা দেশে এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে যুব জাগপার কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আহ্বায়ক আরিফুল হক তুহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুব জাগপার সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান প্রমুখ।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, এদেশের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান আওয়ামী লীগ করতে পারবে না। এ সমস্যা দূর করতে হলে আজকে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তার মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে এবং একটি সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে হবে। এছাড়া এদেশে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু বিএনপির জন্য নয়, এদেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য নয়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আওয়ামী লীগের। কিন্তু তারা আজকে নার্ভাস হয়ে গেছে। তাই তারা আবোল-তাবোল বলছে। এই সরকার যদি তাদের ভেতরের আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অধিষ্ঠ থাকতে চায় আর এদেশের মানুষের সত্যিকার কল্যাণ চায় তাহলে তার একমাত্র উপায় হলো একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করে জনগণ যাকে চায় সেই ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো।
আওয়ামী লীগের এত ভয় কীসের? প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তারা উন্নয়নের জোয়ারে দেশকে ভাসিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ যদি তাদের ভোট দেয় তাহলে তারা পাবেই। ভোটের মাধ্যমেই তারা পুনরায় সরকার গঠন করবে। তাহলে এত ভয় পাচ্ছে কেন তারা? এখানে কঠিন সত্য হচ্ছে আওয়ামী লীগ নিজেও জেনে গেছে এদেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এদেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে বলেই তারা আজকে ভীত, সন্ত্রস্ত, আতঙ্কিত।
মঈন খান বলেন, রাজনীতি করতে হলে আদর্শ নিয়ে করতে হয়। তারা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতাকে পুঁজি করে রাজনীতি করছে। রাজনীতি কোনোদিন ক্ষমতাকে পুঁজি করে হয় না। রাজনীতি করতে হলে আদর্শ নিয়ে করতে হয়। সে কারণেই খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন এবং তার সেই সৎ সাহস আছে বলেই তিনি সেদিন কারাগারে বলেছিলেন- এই মিথ্যা বিচারের আদালতে আমি আর আসবো না। তার সেই সততা আছে বলেই তিনি বলতে পেরেছেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে যত খুশি শাস্তি দেয়া হোক। সেই শাস্তি দিয়ে খালেদা জিয়াকে কোনোদিন পেছনে হটানো যাবে না। কেননা খালেদা জিয়া কোনোদিন পেছনের দরজা দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন নাই।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টিকারী প্রথম রাজনৈতিক দল। দিন দিন এই বির্তক বেড়েই চলেছে। এর দুর্গন্ধ আজ সারা দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ও ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসে সেই থেকেই নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি। পাকিস্তান আমলেও ভোট নিয়ে এতো বিতর্ক ছিল না। আওয়ামী লীগও ক্ষমতায় এলো, নির্বাচন নিয়ে বিতর্কও শুরু হলো। আর সেই ‘বিতর্কের ঐতিহ্যই’ এখন বহন করে চলেছেন শেখ মজিবুর রহমানের কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সরকারের সমালোচনা করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন নিয়ে সারা দেশে যে তা-ব চালাচ্ছে তাতে জনগণ বুঝে গেছে, আওয়ামী লীগ ভোট চায় না, নির্বাচন চায় না। তারা আবারও জোর করে অগণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় আসতে চায়। কারণ আওয়ামী লীগের মধ্যে এখন বড় ধরনের অন্তর্কোন্দল লেগে আছে। জনগণও আওয়ামী লীগ থেকে বিচ্ছিন্ন। ফলে তারা দেশে গন্ডোগোল লাগিয়ে সেটাকে ইস্যু বানিয়ে বিএনপিকে দোষারোপ করতে চায়।
ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যদি আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু নির্বাচন চাইতো তাহলে তোফায়েল আহমেদের মত নেতা কিভাবে বলতে পারে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এক লক্ষ লোক মারা যাবে? ইনু হিন্দুপল্লীতে গিয়ে কিভাবে বলতে পারে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে হিন্দুদেরকে মারা হবে? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কিভাবে বলতে পারে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ৫ লক্ষ লোক মারা যাবে? এটা তো কোনও মন্ত্রী বলতে পারে না।
আলাল বলেন, দেশে ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি করা তো মন্ত্রীদের কাজ নয়। তারা এসব বলে দেশকে জনমানসকে ঘোলাটে করে সরকারি গোয়েন্দাদের দিয়ে কুকীর্তি করিয়ে বিএনপির ওপর দোষ চাপিয়ে আবারও ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু এবার আর জনগণ তা হতে দেবে না।
বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, পাকিস্তান আমলের স্বৈরশাসকের সময় যেসব নির্বাচন হয়েছে সেই নির্বাচনগুলোতেও এতো বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেই আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলো তখন থেকেই বাংলাদেশের নির্বাচনগুলোতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সেই বিতর্কের ধারা শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা ঐতিহ্যের সাথে বরণ করে চলেছেন।
এই যুবদল নেতা বলেন, গুম-খুন-ক্রসফায়ার-ককটেল কি জিনিস বাংলাদেশের মানুষ জানত না। ককটেল যারা নিয়ে এসেছে সেই হাসানুল হক ইনু এখন আওয়ামী লীগের সাথে। ককটেলের আমদানিকারকরা এখন সরকারের মন্ত্রী।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে ঢুকিয়ে দিয়ে সরকার বিএনপিকে ভাঙতে চেয়েছিল, পারে নাই। এখন বেগম জিয়াকে জেলখানায় রেখে একক নির্বাচন করতে চাচ্ছে আওয়ামী লীগ। সেটাও তারা পারবে না। কারণ জনগণই তাদের প্রতিহত করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ