ঢাকা, রোববার 9 September 2018, ২৫ ভাদ্র ১৪২৫, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিসিক নির্বাচনে পরাজয়ের পর সিলেট আওয়ামী লীগের রাজনীতি উত্তপ্ত হচ্ছে

সিলেট ব্যুরো : গত ৩০ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পরাজয়ের পর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নগরীর রেজিস্টারী মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোকসভা শেষে নেতৃবৃন্দকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন সিলেট সার্কিট হাউসে। দলের মনোনীত প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ তিনি স্পষ্টভাবে জানতে চান। এরপর তিনি বলেন, অনেক অভিযোগ পেয়ে সিলেটে এসেছি। তদন্তে প্রমাণিত হলে দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা বিশ্বাসঘাতকদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এই সভায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ বৈঠকে অঙ্গসংগঠনের মাঝারি সারির নেতারা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতকেও ‘সিলেটে কামরান ও আরিফ দুজনই ভালো’ এ বক্তব্য দেয়ার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। শুধু তাই নয় কাউন্সিলর প্রার্থী দিবা রাণী দে’কে ‘গুন্ডি’ আখ্যায়িত করে তাকে ভোট না দেয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান মন্ত্রী । এ আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে নৌকা প্রতীকে সংখ্যালঘুদের আশানরূপ ভোট না পড়ে ভোট পড়েছে ধানের শীষে। এমনটাই মনে করছেন নেতাকর্মীরা। স্থানীয় কর্মীদের মাঝে কানাঘুষা চলছে কেন্দ্র থেকে সিলেটের অনেক শীর্ষ নেতাকে শোকজ করা হতে পারে। নৌকা প্রতীকের ভয়াবহ পরাজয়ের পর ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট আওয়ামী লীগের রাজনীতি। সিটি নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রকাশ্যে বিরোধ। সেই বিরোধ থেকেই তোষের আগুন এখন সিলেট আওয়ামীলীগে। অতীতে প্রকাশ্যে কোনো বিরোধ ছিলো না। সব নেতারই একে অপরের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক ছিল। সরকারি দল হওয়ায় বিরোধ কখনোই প্রকাশ্য রুপ নেয়নি। এসব দেখিয়ে নেতারা দাবি করতেন সিলেট আওয়ামী লীগে কোনো বিরোধ নেই। আওয়ামী লীগ সিলেটে ঐক্যবদ্ধ- এমনটি মনে করতেন সাধারণ কর্মীরা। ৩০ আগস্ট সিলেটে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে সিলেট আওয়ামীলীগের বিরোধ নিয়ে কথা বলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে পরাজয়ের পেছনে দলের কোন্দলকে দায়ী উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন। একই দিন রাতে সার্কিট হাউসের মতবিনিময় সভায় সিলেটের নেতারা নানা অভিযোগ তুলে ধরে বক্তব্য দেন। কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন নেতার নাম ধরে ধরে অভিযোগ করেন। সব মিলিয়ে যেন ভাল নেই সিলেট আওয়ামী লীগ। শোক সভার দুদিন আগে দিরাই সমিতি আয়োজিত সিলেট প্রেসক্লাবে এক সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা সিলেট আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের কথা তিনি তার বক্তৃতায় তুলে ধরেন। এ ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি ইশারা ইঙ্গিতে প্রকাশ করেন। সিসিক নির্বাচনের পর স্থানীয় একটি পত্রিকার সাথে সাক্ষাতকারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। আরিফ সিলেটের উন্নয়নমূলক কাজকর্ম করে সিলেটের মানুষের মন জয় করেছেন। এ জন্য সিলেটের মানুষ তাঁকে নির্বাচিত করেছে। একই দিনে এই পত্রিকায় অনুরূপ বক্তব্য ছিল নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আদাস উদ্দিনের। যা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার সামিল মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এরপর থেকে আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ ধারণ করে।
সিলেটের নেতাদের মুখোশ খসে পড়ে গত সিটি নির্বাচনে। এই নির্বাচনে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান । অভিযোগ উঠে সিলেটে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরোধের কারণেই সিটি নির্বাচনে পরাজিত হতে হয় কামরানকে। কোনো কোনো নেতার নাম ধরে কামরান বিরোধিতার অভিযোগও তুলেন। রেজিষ্টারী মাঠের সভায় কামরান কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাকে ক্ষমা করে দিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুরোধ করেন। দলের মীর জাফররা ষড়যন্ত্র করে নৌকার বিজয় ঠেকিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভবিষ্যতে আর দলের মনোনয়ন চাইবেননা মন্তব্য করে কামরান বলেন আমি কাঁদলে সিলেটবাসী কাঁদে, কর্মীরা কাঁদে। কামরানের আবেগঘণ বক্তব্যে সিলেট জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ওবায়দুল কাদেরের পাশে বসা সিলেটের শীর্ষ নেতাদের কপালে দুঃখের কালো চিহ্ন যেন  লক্ষ্য করা যায়। কেন্দ্রীয় নেতারা প্রকাশ্যে দলের কোন্দলের কথা তুলে ধরে বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের ক্ষমা নেই। দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সিলেটে পরাজয় নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন- সাংগঠনিক দূর্বলতার কারণেই হেরেছেন কামরান। কাদের বলেন, সিলেটে ভাষণ দিতে আসিনি, সিটি নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে এসেছি। সিলেটে অনেক হয়েছে। কারা কি করেছেন, নৌকাকে ঠেকাতে কারা ষড়যন্ত্র করেছেন, সেই আত্বাবিনাাসীদের প্রতিহত করতে এসেছি। তিনি বলেন, দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী যত ক্ষমতাধারী হোকনা কেন তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যাবস্থা নেয়া হবে। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পরাজয়ে ক্ষুব্ধ ওবায়দুল কাদের সিলেটের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকারও পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ সভার পর রাতে সিলেটের নেতাদের নিয়ে বসেন ওবায়দুল কাদের। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
 বৈঠকে বিগত সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীর পরাজয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সিলেটের নেতারা পরাজয়ের পেছনে বিভিন্ন কারণ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তুলে ধরেন। তারা বিভিন্নভাবে একে অন্যের উপর ইঙ্গিত করে কথাবার্তা বলেন। সভায় উপস্থিত কয়েকজন নেতা গত নির্বাচনে অর্থমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন। এসময় কেন্দ্রীয় নেতারাও তাদের কাছে থাকা সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করেন। সকলের কথা শুনে সবশেষে বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন- বিগত দিনে সারাদেশের সিটিগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মেয়র হয়েছেন। ভিন্ন শুধু সিলেট। এক সময় সিলেট আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে সিলেটে আওয়ামী লীগের অবস্থান তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। আগে আমরা সিলেটে আওয়ামী লীগের অবস্থান নিয়ে গর্ব করতাম, কিন্তু এখন তা আর নেই। তিনি আরো বলেন- এই সিটি নির্বাচনে কে কি করেছেন, সকল তথ্যই আমাদের কাছে আছে। আরো তথ্য আমরা সংগ্রহ করছি। জাতীয় নির্বাচনের আগে এগুলো কাটিয়ে উঠুন নাইলে আরো বিপদে পড়বেন। এসময় জাতীয় সংসদ নির্বাচেনর আগে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগকে আরো চাঙ্গা করার জন্য নেতাদের নির্দেশ দেন তিনি। সিলেটের ১৩টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা ও কমিটির হিসেব-নিকেশ নেন ওবায়দুল কাদের। তিনি সিলেট জেলার নেতাদের কাছে জানতে চান কয়টি উপজেলার কমিটি আছে এবং কিভাবে সেগুলো পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরো জানতে চান এই শোকের মাস আগস্টে কোন উপজেলার নেতারা কি কি কার্যক্রম করেছেন। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান- ছয়টি উপজেলায় আমাদের নতুন কমিটি রয়েছে। এরমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে। আর বাকি ৭টি উপজেলায় পুরাতনদের দিয়েই চলছে। তিনি আরো বলেন- জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা হয়েছে। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডের কথা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সভায় আওয়ামী লীগের অফিসের বিষয় আলোচনায় উঠলে জেলা পরিষদের খালি জায়গা থেকে আওয়ামী লীগকে জায়গার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের।
এদিকে সিটি নির্বাচনের পর থেকেই টালমাটাল হয়ে পড়ে সিলেট আওয়ামী লীগ। শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দেখা দেয় পারষ্পারিক অবিশ্বাস। কেন্দ্রীয় কমিটিও সিলেটের শীর্ষ নেতাদের প্রতি বিরক্ত বলে বিভিন্ন গণামাধ্যমে উঠে আসে। দ্রুতই সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনেরও গুঞ্জন উঠে। পদ প্রত্যাশী অনেক নেতা ইতোমধ্যেই পদ পেতে লবিংও শুরু করে দিয়েছেন। এ অবস্থায় হঠাৎ ঝড়ে টালমাটাল হয়ে পড়া সিলেট আওয়ামী লীগের ঐক্য ফেরাতে মূলত ৩০ আগস্ট বৃহস্পতিবার সিলেট এসেছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। জানা যায়, সাংগঠনিক গতি বাড়ানোর জন্য সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পুরনো কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা থাকলেও দুটি কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি পাওয়ার আশায় তৎপরতা শুরু করেছেন ডজন খানেক নেতা। এছাড়া সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের কারণেই সিলেটের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডও চিন্তিত। তারা কর্মীদের উজ্জীবিত করে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পালে হাওয়া লাগাতে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই সময় আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানকে সভাপতি ও শফিকুর রহমান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষণা করা হয় জেলা কমিটি। ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান মারা যাওয়ার পর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান। পাশাপাশি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। সে সময় মহানগরে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সভাপতি ও আসাদ উদ্দিন আহমদকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিন বছর মেয়াদি এ দুই কমিটির মেয়াদ শেষে আরও প্রায় চার বছর অতিবাহিত হয়েছে।
দুই মেয়াদে সরকারে থাকা আওয়ামী লীগ সিলেটে যে পরিমাণ উন্নয়ন করেছে, বিগত যে কোনও সময়ের তুলনায় তা অনেক বেশি। এমন দাবী কর্মীদের। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের ঘরে যে ফল আসার কথা, তা গেছে প্রতিপক্ষের ঘরে। এর কারণ হিসেবে নেতাকর্মীরা দলের অনৈক্য, গ্রুপিং রাজনীতি, উন্নয়নের প্রচারে ব্যর্থ, সাধারণ মানুষ তথা ভোটারের কাছে না যাওয়া, অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে প্রচার বিমূখ থাকা এবং সর্বোপরি বলয়ভিত্তিক রাজনীতির চর্চা করে ত্যাগী, পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের বাইরে রেখে সুবিধাভোগিদের পদ-পদবিতে নিয়ে আসাকে দায়ি করেন। এছাড়া মেয়াদ অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন একই কমিটি দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি না হওয়ায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল হয়নি। আর এ বিষয়টি খোদ দলের সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা জেনে গেছেন।
এসব প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, একটা নির্বাচনের পর জয় পরাজয় নিয়ে অনেক কথাই থাকে। সংশয় সন্দেহ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এটা ও সত্য, দলের মধ্যে অনৈক্য থাকলে পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। সামনে যেহেতু জাতীয় নির্বাচন সেহেতু আমাদের অবশ্যই বিবেধ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন ঠিক সেভাবে সিলেট আওয়ামীলীগের অবস্থান নয় বলে মন্তব্য আসাদ উদ্দিনের। তিনি বেেলন বড় দলে ঠুকটাক মান অভিমান থাকাটা স্বাভাবিক। কমিঠি গঠনের বিষয়ে আসাদ বলেন, বিষয়টি আমি সংবাদপত্রের মাধ্যমেই দেখেছি। আদৌ কমিঠির বিষয়ে আমার কোন তথ্য জানা নেই।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান জেলা আওয়ামীলীগে কোন বিরোধ কিংবা অনৈক্য নেই দাবী করে বলেন,  মহানগরে বিবাধ থাকতে পারে। সে কারনেই হয়তো সিটিতে পরাজয়। তিনি বলেন, কার্যালয়ের বিষয়ে আমি দলের সাধারণ সম্পাদককে বলেছি, জেলা পরিষদের যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। তবে সেগুলো বেদখ করতে হবে। পরবর্তী ব্যাবস্থা নেবে জেলা পরিষদ। আপাতত ইব্রাহিম স্মৃতি সংসদে জেলা ও মহানগরের কার্যক্রম চলবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ