ঢাকা, রোববার 9 September 2018, ২৫ ভাদ্র ১৪২৫, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় সরকারি খালের মাছ নিয়ে অবৈধ অর্থ বাণিজ্য

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর পার্শ্ববর্তী সাচিবুনিয়া সরকারি খালের দখল নিয়ে বিরোধ থাকায় স্তিতিবস্থার আদেশ জারী করেন আদালত। এ সুযোগে সপ্তাহে দু’দিন খালের মাছ ধরে নিচ্ছেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয়দানকারী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। শুক্র ও সোমবার দুই শতাধিক পেশাদার ও সৌখিন মৎস্য শিকারীকে হুইল (বর্শি) প্রতি ১৫শ’ টাকা করে নিয়ে গত ছয় মাসে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
খালটির বিরোধীয় দু’পক্ষ বাদী-বিবাদী সূত্রে জানা গেছে, সরকারি খালটির দখলস্বত্ব নিয়ে জেলার ডুমুরিয়ার লাইন বিল পাবলার মৃত বাঞ্চারাম সরদারের ছেলে অনিল সরকার গং এবং দক্ষিণ খুলনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাথে বিরোধ দীর্ঘদিনের। মামলা-মোকদ্দমার একপর্যায়ে ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল আদালতের মিস আপীল ০৯/১৬ (সায়রাত) নম্বর আদেশের বিরুদ্ধে অনিল সরদার গং খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে আপীল করেন। সে অনুযায়ী গত ২১ মার্চ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার পারভীন সুলতানা সাক্ষরিত আদেশে ওই সম্পত্তিতে স্তিতি আদেশ জারী করে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সালিশীর জন্য উপস্থিত থাকতে আদেশ দেন।
এদিকে, আদালতের স্তিতি আদেশের এ সুযোগে সাচিবুনিয়ার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয়ে খালটিতে মাছ ধরে বিক্রি শুরু করেন। কয়েক দফায় বিক্রির পর গেল তিন মাসের শুক্র ও সোমবার দু’শতাধিক পেশাদার ও সৌখিন মৎস্য শিকারীকে হুইল (বর্শি) প্রতি ১৫শ’ টাকা করে নিয়ে মাছ ধরতে সহায়তা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন গেলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে গা ঢাকা দেয় জাহাঙ্গীর হোসেন। মুঠোফোনে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘লবণচরা থানায় আসেন; আমি সেখানে যাচ্ছি। এরপর সেলফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
লবণচরা থানার এএসআই রাসেল বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীরকে থানায় এনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেবে’।
এ ব্যাপারে লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘একটা অভিযোগ শুনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে নিয়ে আসা হয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ