ঢাকা, রোববার 9 September 2018, ২৫ ভাদ্র ১৪২৫, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পতন নিশ্চিত বুঝতে পেরে সরকার পালাবার পথ খুঁজছে -মির্জা ফখরুল

গতকাল শনিবার নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয় শীর্ষক মত বিনিময় সভায় কক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পতন নিশ্চিত বুঝতে পেরে সরকার মরিয়া হয়ে পালাবার পথ খুঁজছে। যার জন্য আজ মরিয়া হয়ে শেষ চেষ্টা করছে কীভাবে বিএনপিকে দমন করা যায়, জনগণের ঐক্য বন্ধ করা যায়, জাতীয় ঐক্যকে বন্ধ করা যায়। আমরা বিশ্বাস করি এই  স্বৈরাচারী সরকারকে হটাতে অতি দ্রুত একটি জাতীয় ঐক্য হবে।
গতকাল শনিবার নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। ‘বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।
সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে উপনীত হয়েছে। দেশের মানুষের স্বাধীনতা থাকবে কি থাকবে না, মানুষের বাঁচার অধিকার থাকবে কি থাকবে না তা নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনের উপর। আমরা সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি। আজকেও আমরা সেই লড়াই করছি। লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন,আমরা সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি। আজকেও আমরা সেই লড়াই করছি। লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। আওয়ামী লীগ পরাজিত হচ্ছে, সরকার পথ খুঁজছে। মরিয়া হয়ে পালাবার পথ খুঁজছে।
ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্থানিয় এক হোটেল সভায় বলেছিলেন আমি হয়তো কারাগারে চলে যাব। কিন্তু আপনারা সকল গণতন্ত্রকামী দলকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলবেন। এই স্বৈরাচারী সরকারকে হটাবেন। এখন একটা জাতীয় ঐক্য দরকার।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনাদের একটা ভুল ধারণা আছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি চান না জাতীয় ঐক্যের নেতারা। আসলে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সকলে একমত। ড. কামাল হোসেন ও বি চৌধুরী তো আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেই বলেছেন তার মুক্তি দেয়া হোক। তাদের কিছু দাবি থাকতে পারে। কোনো ভালো কিছুর জন্য তো কিছু না কিছু ছাড় দিতে হবে।
কারাগারে খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য আদালত স্থানান্তরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কারাগারে আদালত স্থানান্তর করা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। সেখানে ক্যামেরা ট্রায়াল করা হচ্ছে। এটা কোনো আদালত নয়। এটাকে বাংলায় বলা যায় গুহা।
কারাগারে আদালত স্থানান্তরের সমালোচনা করে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা আরও বলেন, সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বেআইনি পন্থায় কারাগারে আদালত স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জিয়াউর রহমান কারাগারে আদালত স্থাপন করেছেন। এটা ঠিক না, ওই সময় যে বিচার কাজ হয়েছে সেটি ছিল একটি মার্শাল ল’র অধীন। আজ যা হচ্ছে সেটি মানবতাবিরোধী। বিএনপি মহাসচিব সরকারকে দানব আখ্যা দিয়ে বলেন, দানবীয় একটি সরকার জনগণের উপর চেপে বসেছে। তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দেশের জনগণের ওপর নির্যাতন করছে। নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার শেষ চেষ্টা করছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার অপরাধ কী ? তিনি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন। একারণেই তার সাথে এটা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করে দিচ্ছেন।
মির্জা আলমগীর বলেন, আজকের প্রেক্ষাপট হল, বাংলাদেশ অত্যন্ত সংকটময় মহুর্তে উপনীত হয়েছে। দেশের মানুষের স্বাধীনতা থাকবে কি থাকবেনা, মানুষের বাঁচার অধিকার থাকবে কি থাকবে না তা নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনের উপর। আমরা সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি। আজকেও আমরা সেই লড়াই করছি।
বিরোধীদল ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ দেশের জনগণ কখনও কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়ায়নি। প্রবল শক্তিশালী পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছে। পরবর্তীতে স্বৈরাচারের সাথে যুদ্ধ করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনেছে। এবারও গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে।
মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি  ইসতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব)হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক কর্ণেল (অব.) জয়নাল আবেদীন প্রমুখ। এছাড়া জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। সভা শেষে খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এদিকে গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি জেপির চেয়ারম্যান কাজী জাফরের স্মরণ সভায় অংশ নেন মির্জা ফখরুল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ