ঢাকা, রোববার 9 September 2018, ২৫ ভাদ্র ১৪২৫, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নেপালের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় বাংলাদেশের

স্পোর্টস রিপোর্টার: পারলো না স্বাগতিক বাংলাদেশ। গত কয়েক আসরের মতো এবারও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো লাল-সবুজের দলটিকে। সেমিফাইনালে উঠতে হলে যেখানে কেবল ড্র’ই ছিল যথেষ্ট, সেখানে নেপালের কাছে ২-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপ থেকে সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় সেমিফাইনালে নেপালের সঙ্গী হলো পাকিস্তান। গ্রুপ থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ ও ভুটান। দিনের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ৩-০ গোলে জয় পাওয়ায় সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ড্র করার পরিকল্পনা নিয়েই নেপালের মুখোমুখি হয়েছিল জেমি ডে’র শিষ্যরা ।
আগের দুই ম্যাচে ভুটান এবং পাকিস্তানকে হারানোর কারণে দারুণ উজ্জীবিত ছিল বাংলাদেশ দল। শুরু থেকেই তপু বর্মণরা আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে কাঁপন ধরিয়ে দেয় নেপালের রক্ষণভাগে। কিন্তু দুর্ভাগ্য সঙ্গী হলে যা হয়! ৩৩ মিনিটে গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের অমার্জনীয় ভুলের খেসারত দিয়ে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। রাইট উইংয়ে ফ্রি-কিক পায় নেপাল। শট নেন নেপালের বিমল ঘার্তিমাগার। তার নেয়া দুর্দান্ত শটটি চলে আসে সোজা গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের হাতে। দুই হাত মাথার ওপর বাড়িয়ে বলটি লুফে নেন গোলরক্ষক। কিন্তু হাতে আর বলটি জমিয়ে রাখতে পারলেন না। তার হাত গলে বল চলে গেলো জালে ১-০। পিছিয়ে থাকার পর একের পর এক আক্রমণে নেপালের রক্ষণভাগ ব্যস্ত রাখে বাংলাদেশের ফুটবলাররা। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে গোল দিয়ে এগিয়ে থাকার কারণে পুরোপুরি ডিফেন্সিভ হয়ে যায় নেপাল। বক্সের মধ্যেই তারা ৮ থেকে ৯ জনকে রেখে দেয়। তবুও ম্যাচের একেবারে শেষ মিনিটে (৯০ মিনিট) প্রতি আক্রমণে আরও একবার বল জড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের জালে।
৯০ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে নবযুগ শ্রেষ্ঠ গোল করে নেপালের জয় নিশ্চিত করেন ২-০। আর হতাশায় মুষরে পড়েন বাংলাদেশের খেলোয়াড় থেকে দর্শকরা। খেলা শেষে দর্শকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে নানা স্লোগান দিতে থাকে। যেখানে হারা যাবে না- এমন কঠিন সমীকরণ বাংলাদেশের সামনে, সেখানে গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের অমার্জনীয় ভুল বাংলাদেশকে ঠেলে দিল ব্যাকফুটে। নীলফামারীতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচেও এই গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের ভুলের কারণে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এসেও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করলেন তিনি। অথচ কি সুন্দর ফুটবলই না খেলছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ছোট ছোট পাস, বিল্ডআপ ফুটবল। মাঝমাঠের কর্তৃত্ব। বল পজিশনেও এগিয়ে। প্রথমার্ধে বল পজিশন বাংলাদেশের ছিল সাড়ে ৫৬ শতাংশ, নেপালের সাড়ে ৪৩। অথচ নেপাল গোল পেয়ে গেল খেলার ধারার বিপরীতে। পেয়ে গেলো মানে, পাইয়ে দিলেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল। যাকে একাদশে রাখার পর থেকেই বইছিল সমালোচনার ঝড়।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ যে ইতিহাস গড়লো তাতে অবদান ছিল এ মুহূর্তে দেশের এক নম্বর গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। অথচ তাকে একাদশের বাইরে রেখে কোচ জেমি ডে রাখলেন সোহেলকে। যিনি ছিলেন ক্যাম্পেরই বাইরে। ফুটবল দলের কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ক্যাম্পে যে গোলরক্ষককে রাখেননি কোচ সেই সোহেল সরাসরি একাদশে নীলফামারীতে রাখা হয় শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ফিফা ফেন্ডলি ম্যাচে। জঘন্য এক গোল খাওয়ার পর সোহেলকে খেলানো নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে তখন।কিন্তু ইংলিশ কোচ জেমি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও তাকেই খেলিয়ে যাচ্ছেন। এবার সোহেল দিলেন ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় পরিচয়। বাংলাদেশ কখনো এমন জঘন্য গোল খেয়েছে কিনা তা স্মৃতি হাতড়ে বলতে পারলেন না কেউ। হারের পরই সর্বত্র সমালোচনা শুরু হয় সোহেলকে খেলানোর বিরুদ্ধে। কেন এক নম্বর গোলরক্ষক রানাকে বাইরে রেখে তাকে নামানো হচ্ছে? এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে। জাতীয় দলের চেয়ে ক্লাব প্রীতি প্রাধান্য পেয়েছে কিনা চলছে সেই আলোচনা। সোহেল যে আবাহনীর গোলরক্ষক! জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্বেও আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু। বাংলাদেশের ফুটবলে যে উন্মাদনা ফিরে এসেছিল এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়া আর সাফের প্রথম ২ ম্যাচ জয়ের পর- তা যে স্তিমিত হয়ে গেল সেমিফাইনালে উঠতে না পারায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ