ঢাকা, রোববার 9 September 2018, ২৫ ভাদ্র ১৪২৫, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঢাকায় এসে লাশ হলেন তিনি

স্টাফ রিপোর্টার : রং মিস্ত্রি মনিরংজ্জামান মনির (৩৫)। বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার মনিরামপুরে।  শুক্রবার সকালে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। সর্বশেষ রাত দশটার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এরপর থেকেই মোবাইল বন্ধ। আর গতকাল শনিবার বিকেলে তার লাশ পাওয়া গেল ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে। মনিরের বাবার নাম ওয়ারেস সরদার। ফেনীর খয়রা এলাকায় রং মিস্ত্রীর কাজ করতেন। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। স্ত্রী কাজল রেখা দুই ছেলেকে নিয়ে গ্রামে থাকেন।
নিহত মনিরুজ্জামানের চাচা জুলহাজুল কবির বলেন, গতকাল (শুক্রবার) সকাল ১০টার দিকে মনির ঢাকাগামী একটি বাসে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় রওনা দেন। সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। তার সঙ্গে ২৫ হাজার টাকা ছিল। রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। পরে রাত ১০ টার দিকে স্ত্রীকে ফোন দিয়ে জানান তিনি ঢাকায় পৌঁছেছেন। তিনি ছোট ভাই আফজালের কড়াইলের বাড়িতে যাচ্ছেন। সেখানে রাতে থেকে পরের দিন ফেনীতে যাবেন রঙের কাজ করতে। স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর থেকে তার ফোন বন্ধ পান পরিবারের সদস্যরা।
জুলহাজুল আরও বলেন, সকাল থেকে সারা দিন তারা বিভিন্ন স্থানে মনিরের খোঁজ করেন। পরে বিকেলে ঢাকা মেডিকেলে কলেজের মর্গে গিয়ে মনিরের গলাকাটা লাশ দেখতে পান তারা। ঘটনার পর তার ভাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না।
জানতে চাইলে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিমুজ্জামান বলেন, মনিরের খোঁজ চেয়ে কেউ তাদের কাছে আসেনি। তবে মনিরের ফোন নম্বর নিয়ে তার সর্বশেষ অবস্থান জানার চেষ্টা করছিলেন।
 জেএমবির সদস্য গ্রেপ্তার : জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. নূর আলম (৩১) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১-এর একটি দল।
র‌্যাবের দাবি, নূর আলম নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সক্রিয় সদস্য। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় ৩০০ ফিট রোডের রূপগঞ্জের বোয়ালা ব্রিজের কাছে অভিযান চালিয়ে নূর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে উগ্রবাদী তিনটি বই জব্দ করা হয়। নূর আলমের বাড়ি ঢাকার দক্ষিণ বাড্ডা এলাকায়।
র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নূর আলম জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছেন। তিনি জেএমবির আরও চার সদস্য শোভন ওরফে সুজন ওরফে রাফি, শরিফ ওরফে মনির ওরফে রবিন, মুনতাসীর ওরফে সাদি ওরফে রাইয়ান ও ইমরুল কায়েস ওরফে সাকিব ওরফে সাকির সঙ্গে ৩০০ ফিট এলাকায় সাংগঠনিক কর্মকান্ডকে চাঙা করার লক্ষ্যে একত্র হয়েছিলেন। সেখান থেকে নূর আলমকে গ্রেপ্তার হলেও বাকি চার জঙ্গি পালিয়ে যায়।
র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০০৬ সালে দক্ষিণ বাড্ডার শাহাবা জামে মসজিদের খতিব মো. আক্কাস আলী রশিদের বয়ান শুনে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন বলে গ্রেপ্তারের পর নূর আলম র‌্যাবকে জানিয়েছেন। এরপর তিনি জেএমবির সদস্য হন। নূর আলম রাজধানীর রামপুরার নন্দীপাড়া কোরআন সুন্নাহ একাডেমির মসজিদে প্রতি শুক্রবারের বয়ানে যেতেন। সেখানে প্রতি শুক্রবার নামাজের পর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জেএমবির সদস্যরা জড়ো হতেন। ওই মসজিদে জেএমবির সদস্য মুনতাসীর ওরফে সাদি, জনি ওরফে ফয়সাল, সাইফুল্লাহ ওরফে রাকিব, আনোয়ার ওরফে মঈন, শাহরিয়ার ওরফে বায়েজিদ, ইকবাল ওরফে ইব্রাহিম, রাকিব ওরফে ফাহিম, মিনহাজ ওরফে মিরন, শোভন ওরফে সুজন ও মঈন ওরফে ফাহাদও আসতেন। তাদের মাধ্যমে নূর আলম জঙ্গিবাদে দীক্ষিত হন। তিনি জেএমবির সদস্য সংগ্রহ করতেন। বগুড়া, জামালপুর, কুড়িগ্রাম ও পাটগ্রাম এলাকায় সংগঠনের পক্ষ থেকে দাওয়াতি কাজে অংশ নিয়েছিলেন নূর আলম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ