ঢাকা, রোববার 9 September 2018, ২৫ ভাদ্র ১৪২৫, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অবশেষে গতি পাচ্ছে ডুমুরিয়ার ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স প্রকল্প

খুলনা অফিস: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (আইএলএসটি) প্রকল্পটি অবেশেষে গতি পাচ্ছে। নকশা পরিবর্তনের পর অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য পরিদর্শন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। গত ৪ বছর ধরে প্রকল্পটি ঝুলেছিল। কর্তৃপক্ষ বলছে, ইনস্টিটিউট নির্মাণের নকশা পরিবর্তনের কারণেই এমন দেরি হয়েছে।
খুলনা জেলা প্রাণি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমিষের চাহিদা বৃদ্ধিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেয় প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর।
এ লক্ষ্যে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সরকারি এ দপ্তর। প্রাথমিকভাবে জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুরে ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে জায়গা বাছাই করে এ দপ্তর। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজের জন্য তিন একর জায়গা চূড়ান্ত করে।
এরপর মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয় দুই বছর আগে। যার মূল্য পরিশোধ করা হয় ৭০ লাখ ১৭ হাজার টাকা।
সুত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০১৪ সালের পয়লা জুলাই থেকে শুরুর পর জমি অধিগ্রহণ করে পাইল নির্মাণ শুরু করতেই চলে গেছে চার বছর। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গা পানিবদ্ধ। ভবন নির্মাণের জন্য কাজ দৃশ্যমান করা সম্ভব হয়নি। শুধু জমি অধিগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এর কার্যক্রম। এ অবস্থায় ওই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। তবে খুব শীঘ্রই এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জেলা প্রাণি সম্পদ কর্তৃপক্ষ।
অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. অরুণ কান্তি মন্ডল বলেন, নকশা জটিলতায় এ প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ঝুলেছিল। নতুন করে আবার এর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার আমরা প্রকল্পের স্থানটি ঘুরে দেখে এসেছি। সেখানে ঢাকার একটি টিমও ছিল। এটি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে।
জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে বাস্তববমুখী জ্ঞান আহরণের সুযোগ পাবে। নতুন জাত উদ্ভাবন হবে। স্বনির্ভরতা বাড়বে। গরু ও হাঁস-মুরগির খামার গড়ে উঠবে।
আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি পশু-পাখির রোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এ প্রকল্পে রয়েছে চার হাজার ছয়শ’ বর্গমিটার জমির উপর একাডেমিক ও প্রশাসনিক বহুতল ভবন নির্মাণ, চারশ’ বর্গমিটারের উপর ভেটেরিনারি ও ল্যাবরেটরিজ, পনেরশ’ বর্গমিটারের উপর অডিটোরিয়াম, ক্যাফেটরিয়া ও শিক্ষক ডর্মেরেটরি, পাঁচশ’ বর্গ মিটারের উপর চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ডরমেটরি, চারশ’ বর্গ মিটারের উপর ছোট ও বড় প্রাণীর জন্য ফার্ম, দুশ’ বর্গমিটারের উপর প্রিন্সিপালের বাসভবন, দু’হাজার পাঁচ শ’ ৩০ বর্গ মিটারের উপর ছাত্র এবং ১৫ শ’ ৬০ বর্গ মিটার জমির উপর ছাত্রীদের হোস্টেল নির্মাণ। এছাড়া অবশিষ্ট জায়গায় নির্মাণ করা হবে রাস্তা, ড্রেন, খেলার মাঠ, প্রদর্শনী খামার ইত্যাদি।
এছাড়া ভবন নির্মাণের পাশাপাশি লাইভস্টক ডিপ্লোমা কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন, কারিকুলাম অনুযায়ী বই তৈরি করে প্রিন্ট করা এবং কোর্স চালুরও কার্যক্রমও রয়েছে এ প্রকল্পে। এতে কৃষক ও খামারীদের রোগমুক্ত, সুস্থ্য গবাদি পশু, হাঁস-মুরগী উৎপাদনে পরামর্শসহ অন্যান্য সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ডিম, দুধ ও গোশের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অনন্য অবদান রাখবে। শিশু খাদ্য প্রাপ্তিও নিশ্চিত হবে। নারীরা গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগী লালন-পালনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি করে জীবন মান উন্নয়ন করতে সহায়ক হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ