ঢাকা, রোববার 9 September 2018, ২৫ ভাদ্র ১৪২৫, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নীলফামারী শিশু একাডেমী অনিয়মের আখড়া

নীলফামারী সংবাদদাতা: অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে নীলফামারী শিশু একাডেমীর কার্যক্রম। বছরের ৯মাস অতিবাহিত হতে চললেও হতদরিদ্র শিশুদের আজও পোষাক দেয়া হয়নি। দেয়া হয়নি জুতা। বছরের পর বছর ধরে দেয়া হয়না শিশুদের টিফিন। উপরন্ত শিশুদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে ১ হাজার টাকা গ্রহণ করা হলেও গত ৪-৫ বছর ধরে সে টাকার কোন হদিস নেই। অভিযোগ উঠেছে, ভর্তির ক্ষেত্রে হতদরিদ্র শিশুদের অগ্রাধিকার দেয়ার নিয়ম থাকলেও নানা নিয়মের বেড়াজালে ফেলে উচ্চবৃত্তদের সন্তানদের অবৈধ পন্থায় প্রাক প্রাথমিক ও শিশু বিকাশ বিভাগে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, ভর্তি ফরম প্রদানের সময়ও নানা রকম টালবাহানা করে চাহিদার অতিরিক্ত ফরম বিক্রি করা হয় এখানে। এছাড়া শিশুদের ভর্তির সময় ১ হাজার টাকা আদায় করা হলেও সরকার প্রদত্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, গত ৬-৭ বছর থেকে শিশুদের কোন টিফিন ও পোষাক দেয়া হচ্ছে না। চলতি বছরের ৯ মাস অতিবাহিত হতে চললেও পোষাকসহ জুতা প্রদান করা হয়নি এখনও। ৩০ জন করে দ্ইু বিভাগে মোট ৬০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির নিয়ম থাকলেও ৪০/৫০জন করে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়েছে টাকার বিনিময়ে। শতাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, দায়িত্বরত জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের আচরন মোটই ভাল নয়। তিনি অফিসের চেয়ারে বসেই সিগারেট মুখে অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন।
স্থানীয় অনেকেরও একই অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় কর্মরত মোস্তাক আহমেদ অফিসের বারান্দায় দাড়িয়ে অনেকটা নায়কোচিত ভঙ্গিতে ধুমপান করেন। অভিযোগ উঠেছে, কাগজে কলমে কিংবা নামকাওয়াস্তে অনেক প্রোগ্রাম দেখিয়ে টাকা আতœসাতের। বিভিন্ন দিবসে কোমলমতি শিশুদের বারান্দার ওপর ছেড়াফাটা ব্যানার ও কাপড়ে বসে প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে হচ্ছে। প্রতিযোগিতা ও বিচারকদের ভূমিকা নিয়েও রয়েছে অভিভাবকদের নানা অভিযোগ। ওদিকে গত ১৮ জুলাই’১৮ বিভিন্ন তথ্য চেয়ে জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বরবারে আবেদন করা হলেও অদ্যাবদি তা পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর প্রোগ্রাম অফিসার নাজমূল হক জানান, দুই বিভাগে মোট ৬০ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তির নিয়ম রয়েছে। ভর্তির ক্ষেত্রে হতদরিদ্র শিশুরা অগ্রাধিকার পাবে। শিশু একাডেমীতে টাকা জামানত নিয়ে ভর্তির কোন সুযোগ নেই। শিশুরা নিয়মিত টিফিন ও ড্রেস পাবে। অথচ বছরের পর বছর সব নিয়ম ভঙ্গ করে মোটা অংকের টাকা তছরুপের ঘটনা ঘটেছে নীলফামারী শিশু একাডেমীতে। এ ব্যাপারে নীলফামারী শিশু একাডেমী’র পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক আহসান রহীম মঞ্জিল জানান, শিশুদের সুযোগ সুবিধার বিষয়টি শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কোন সভাতেই উত্থাপিত না করায়, বিষয়টি আমার জানা নেই।
এদিকে গত দুই ধরে জেলার শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদকে তার অফিসে পাওয়া না যাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায় নি। সূত্র জানায়, তিনি দিনাজপুর শহরে বাসা নির্মাণ কাজে ব্যাস্ত থাকায় সপ্তাহে ২-৩ দিন অফিসে আসেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ