ঢাকা, রোববার 9 September 2018, ২৫ ভাদ্র ১৪২৫, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কতিপয় প্রভাবশালীর অত্যাচারে হাতীবান্ধার ১০০ সংখ্যালঘু পরিবার ভারতে পাড়ি জমিয়েছে

মোঃ লাভলু শেখ, (লালমনিরহাট): সরকার দলীয় কতিপয় নেতাদের অত্যাচারে হাতীবান্ধার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ১০০ টি সংখ্যালঘু পরিবার ভারতে গেছে। আরও অনেকে গোপনে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জানাগেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ০৪ নং টংভাঙ্গা ইউনিয়নের বেজগ্রাম ০২ নং ওয়ার্ডের ০৭ টি, বাড়াই পাড়া ০৪ নং ওয়ার্ডের ৩৫০ টি, বাড়াইপাড়া গেন্দুকুড়ি ০৫ নং ওয়র্ডের ৬০০ টি, গেন্দুকুড়ি ০৬ নং ওয়ার্ডের ২৫০ টি, পশ্চিম বেজগ্রাম ০৮ নং ওয়ার্ডের ৪৫০ টি ও পূর্ব বেজগ্রাম ০৯ নং ওয়ার্ডের ৩০০ টি সংখ্যালঘু (হিন্দু) পরিবারের মাঝে প্রায় ১০০ টি পরিবার স্থানীয়ভাবে জমিজমা ও পারিবারিক কোন্দলের জের ধরে স্থানীয় সরকার দলীয় কতিপয় আ’লীগ নেতাদের মারপিট, মিথ্যা মামলা, হামলা ও নানা অত্যাচারের ভয়ে ওইসব পরিবারের লোকজন পর্যায়ক্রমে চোরাপথে কাউকে না জানিয়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভারতে চলে গেছে। তাদের এসব তথ্য অনুসন্ধানে মঙ্গলবার লালমনিরহাট থেকে একদল সাংবাদিক টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ওই সব গ্রামে সরেজমিনে গেলে বর্তমান বসবাসরত সংখ্যালঘু পরিবারের লোকজন ভয়ে মুখ খুলতে নাচাইলেও এক পর্যায়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, বিভিন্ন সমস্যা অপরদিকে কর্মসংস্থান নেই অভাব অনটন সহ নানাবিধ কারনে তারা ভারতে চলে গেছে। ভারতে কি অবস্থায় জীবন যাপন করছে তারা কিছুই জানেনা। বর্তমানে ওই কয়েকটি ওয়ার্ডে ২০০৭ টি সংখ্যালঘূ পরিবার বসবাস করছে। তবে এদের মধ্যে অনেকেই হতদরিদ্র তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের কোন খোজ-খবর রাখে না। বাড়াই পাড়া গ্রামের ভবেন্দ্রনাথ (৬০) জানান , তার ছেলে জুগেশ্বর (২৫) ভারতে চলে গেছে। বর্তমানে কোন খোজ খবর নেই। গোপালকৃষ্ণ বর্ম্মনের ছেলে গনেশ (২৬), মৃত্যু সাম চন্দ্র রায়ের ছেলে সঞ্জয় (৩০), রাজকান্তের ছেলে অনন্ত রায় (২২) জগেন সাবু (৬০) সুনিল (৫৫), গোপালের ছেলে পবিত্র ও কমল (২৮) সহ প্রায় ১০০ টি পরিবার স্থানীয় কতিপয় আ, লীগের নেতার অত্যাচারে কাউকে না জানিয়ে ভারতে চলে যায়। তবে স্থানীয় সরকার দলীয় নেতা কারা অত্যাচার করছে এপ্রতিবেদক জানতে চাইলে তাদের নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে তারা সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, আমরা সেই বৃটিশ আমল থেকে এ জায়গায় বসবাস করলেও বর্তমানে আতঙ্কের জনপদে বসবাস করছি। ভয়ে কোন প্রতিবাদ করতে পারছি না। বাড়াইপাড়া গ্রামের মৃত্যু সাম চন্দ্র রায়ের স্ত্রী বেজবালা (৬৫) জানান আমার ছেলে ভয়ে ভারতে স্ত্রী সন্তান সহ চলে গেছে। কেমন আছে জানি না। আমরা হতদরিদ্র আমাদের কোন খোজ খবর নেয়না স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। অথচ ভোটের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও কোনটাই বাস্তবায়ন করেনি। বেজবালা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৬৫ বছর বয়স হলেও বয়স্ক ভাতা কিংবা সরকারি সাহায্য সহযোগীতা ভাগ্যে জোটেনি। সামনে দুর্গাপূজা নতুন কাপড় পড়িধান করতে পারব কিনা জানিনা। সরেজমিনে গেলে সাংবাদিকরা এসেছে শুনে দলে দলে সংখ্যালঘু পরিবারের লোকজন ছুটে এসে বলেন আমরা সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছিনা। অবহেলিত লাঞ্চিত ও অনেক কষ্ট বহন করে চলতে হচ্ছে। পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা ০১ আসনের সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনকে  তারা চেনেন না। শুধু ভোটের সময় দেখা মিললেও এখন দেখা মিলেনা বলে তারা জানায়। বর্তমান জনবান্ধব শেখ হাসিনা সরকার সংখ্যালঘুদের যথেষ্ঠ সাহায্য সহযোগীতা দিয়ে  প্রশংসিত হলেও তার দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কতিপয় আ, লীগ নেতারা তাহার ইমেজ নষ্ট করার জন্য একের পর এক সংখ্যালঘূ পরিবারদের ওপর অত্যাচার হামলা মামলা করেই চলছে। যা ওই সমস্ত পরিবারের লোকজন ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
০৪ নং টংভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আতিয়ার রহমান আতি এসব তথ্য স্বীকার করে বলেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সরকারি বাজেট বরাদ্দ যাতে না পাই সেজন্য পাটগ্রাম হাতীবান্ধ ০১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আ, লীগের সভাপতি  মোতাহার হোসেন এবং হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বাচ্চু রাজনৈতিক প্রতিহিন্সার বশবর্তী হয়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আমাকে জিম্মী দশা করে রেখেছে। আমি সরকারি সাহায্য না পেলে হতদরিদ্র ওইসব সংখ্যালঘূ পরিবারের মাঝে কি দিব।
স্থানীয় শাসক দলের নানা ষড়যন্ত্রে জরাজির্ণ অবস্থায় আছি। এ ইউনিয়নে প্রায় ৪০০০ সংখ্যালঘু পরিবার রয়েছে।
আমি তাদেরকে কোন প্রকার সাহায্য দিতে পারছি না। তিনি এব্যপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বাচ্চুর সাথে যোগাযোগ করে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ