ঢাকা, সোমবার 10 September 2018, ২৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এশিয়া কাপে অংশ নিতে দুবাই গেল ক্রিকেট দল

স্পোর্টস রিপোর্টার : আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দুবাইয়ে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ ক্রিকেট। বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে এশিয়া কাপের। এশিয়া কাপে অংশ নিতে গতকাল রাতে দুবাই গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে দলের সফরসঙ্গী হয়নি সাকিব আল হাসান। তবে দলের সঙ্গে যাওয়া হয়নি তামিম ইকবাল ও রুবেল হোসেনের। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দুই-একদিন পর যাবেন তারা। সাকিব যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি যোগ দেবেন দুবাইয়ে। আর সিপিএল খেলে দেশে ফেরা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ গেছেন দলের সাথেই। জানা গিয়েছিল দলের সঙ্গে যাবেন না মাহমুদউল্লাহ। তবে দলের সঙ্গী হয়েছেন তিনি। এবারের আসরে নিজেদের প্রত্যাশা ও লক্ষ্য নিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘যদি আত্মবিশ্বাসের কথা বলি, আমার মনে হয় আমরা দল হিসেবে খুব ভালোভাবে যাচ্ছি। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে খুব ভালো ক্রিকেট খেলে আমরা সিরিজ জিতেছি। আর গত এশিয়া কাপটা আমাদের ভালো গেছে। আমরা দুইটি এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছি। এর সাথে এটাও বলবো যে, প্রতিটি দলই ভালো এবং সবাই ভালো ক্রিকেট খেলছে। প্রতিটি ম্যাচই তাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। এভাবে চিন্তা করেই আমরা মাঠে নামবো।’ এশিয়া কাপের জন্য শেষ মুহূর্তে সংযুক্ত হওয়া মুমিনুল হকসহ মোট ১৬ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করা হলেও গতকাল দেশ ছেড়েছেন ১৩ জন খেলোয়াড়। তবে শুধু সাকিব, তামিম আর রুবেল ছাড়াই নয়, মাশরাফিরা দেশ ছাড়বেন দলের ম্যানেজার ও প্রধান নির্বাচককে ছাড়াই। একদম শেষ মুহূর্তে এশিয়া কাপের ম্যানেজারের দায়িত্ব পাওয়া খালেদ মাহমুদ সুজন এবং প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু দলের সাথে যেতে পারবেন না ভিসা জটিলতার কারণে। শুরুতে খালেদ মাহমুদ সুজনের আরব আমিরাতে যাওয়ার কথা চূড়ান্ত না হওয়ায় তার পেপারওয়ার্ক করা যায়নি সময়মতো। যার ফলে মেলেনি ভিসা। আর নান্নুর ব্যক্তিগত ঝামেলার কারণে বিলম্বিত হচ্ছে ভিসা পেতে। এখনো জানেন না ঠিক কবে দলের সাথে যোগ দিতে পারবেন তারা। তবে এশিয়া কাপ শুরুর আগেই যে টুর্নামেন্টের ভেন্যুতে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করছেন প্রধান নির্বাচক নান্নু। অন্যবারের চেয়ে ভিন্ন ফরম্যাটে হবে এবারের এশিয়া কাপ। যেখানে অংশগ্রহণকারী ছয় দল প্রথম পর্বে  খেলবে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে। সেখান থেকে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দলকে নিয়ে সুপার ফোর বা মূল পর্ব। এশিয়া কাপে এবার ভালো করতে চায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানিয়েছেন, এশিয়া কাপ জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশরও। তবে আপাতত অতদূর ভাবছে না বাংলাদেশ। ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করতে চান ওয়ানডে অধিনায়ক। এশিয়া কাপে এবার বাংলাদেশের গ্রুপে শ্রীলংকা ছাড়া আরেক দল আফগানিস্তান। আরেক গ্রুপে পাকিস্তান ও ভারতসহ রয়েছে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা হংকং। ছয় দল থেকে সেরা চারদল যাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। ডাবল লিগ পদ্ধতিতে চার দল প্রত্যেকের সঙ্গে ম্যাচ খেলবে। সেরা দুই দল যাবে ফাইনালে। ২০১২, ২০১৪ এবং ২০১৬ সালে বাংলাদেশে বসেছিল এশিয়া কাপ। তিন আসর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসতে যাচ্ছে এশিয়া কাপ। শেষ তিন আসরে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল ঈর্ষণীয়। ঘরের মাঠে দুবারই বাংলাদেশ খেলেছিল ফাইনাল। কিন্তু শিরোপার স্বাদ পাওয়া হয়নি। 

এশিয়া কাপে সবগুলো দলকেই ফেবারিট মানছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। কাউকেই এগিয়ে রাখছেন না জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক। বাংলাদেশেরও এশিয়া কাপ জয়ের সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন মাশরাফি। সেই সামর্থ্য দলের রয়েছে। রয়েছে ম্যাচ উইনার পারফর্মার। মাশরাফি বলেন ‘অংশগ্রহণকারী দলগুলো যদি দেখেন, তাহলে আমরা খুব বেশি পিছিয়ে নেই। হয়তো ভারত অনেক ভালো দল। পাকিস্তান তাদের ঘরের মাঠে খেলবে। কিছুটা বাড়তি সুবিধা তারা পাবে। তাদের দলে রিস্ট স্পিনার বেশি আছে। তবুও আমার কাছে মনে হয় আমাদের সামর্থ্য আছে তাদেরকে হারানোর। আমার কাছে মনে হয় আমরা খুব বেশি পিছিয়ে নেই।’

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ স্কোয়াড : মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ মিথুন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল ইসলাম অপু, রুবেল হোসেন, আবু হায়দার রনি ও লিটন কুমার দাশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ