ঢাকা, সোমবার 10 September 2018, ২৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন জামাল-মামুনুলরা

স্পোর্টস রিপোর্টার : ব্যর্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছে ফুটবলাররা। আবার দোয়া চেয়েছে আসন্ন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে ভালো ফলের প্রত্যাশায়। দ্রুতই শুরু হবে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি। স্বাগতিক দলের এমন বিদায়ে কোচ জেমি ডে হতাশা প্রকাশ করলেও দলের উন্নতির কথাটা বেশ জোর দিয়েই বলেছেন। ২০০৫ সালে করাচির পর বাংলাদেশ আর কোনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পরপর দুই ম্যাচ জিততে পারেনি। এমনকি এই সাফের আগের সর্বশেষ তিনটিতে ৯ ম্যাচের মধ্যে জিতেছে মাত্র একটিতে। সেই দল এবার পরপর দুই ম্যাচ জিতে বিদায় নিল ৬ পয়েন্ট পেয়ে। দলের উন্নতির এ দিকটাই সামনে আনতে চাইছেন কোচ। এশিয়ান গেমস, ফিফা ফ্রেন্ডলি ও সাফ চ্যাম্পিয়শিপ মিলে ২৫ দিনে ৮টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। জিতেছে ৩টিতে, একটি ড্র করে হার ৪টি। জয়ের হার ৩৭.৫ ভাগ। এই ৮ ম্যাচের মধ্যে ৬টিই বাংলাদেশ খেলেছে র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলের বিরুদ্ধে। পাকিস্তান র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও দলটি অনেক শক্তিশালী। তাদের ৯ জন খেলোয়াড় বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া ফুটবল খেলে। এর মধ্যে ৫ জন খেলেন ইউরোপে।সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এবার আত্মবিশ্বাসী হয়েই শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ভুটান ও পাকিস্তানকে হারিয়ে তার প্রমাণও রেখেছিল তারা। কিন্তু নেপালের কাছে গ্রুপের শেষ ম্যাচ হেরেই বিদায় নিতে হলো তাদের। টানা চতুর্থ আসরে সেমিফাইনালের আগে ছিটকে পড়ল স্বাগতিকরা। এই ব্যর্থতায় ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে ঘরে ফিরে গেছে সমর্থকরা। দেশবাসীর প্রত্যাশা মেটাতে না পারায় ক্ষমা চাইলেন জামাল ভূঁইয়ারা।

নেপালের কাছে এই হারের পর খেলোয়াড়দের অনেকে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। রাত কেটেছে নির্ঘুম। সেমিফাইনালের একেবারে কাছে গিয়েও ব্যর্থ হওয়াকে হৃদয়বিদারক মনে করছেন মিডফিল্ডার ইমন মাহমুদ বাবু, ‘এভাবে সেমিফাইনালের আগে বিদায় নিতে হবে কল্পনাও করিনি। অনেক আশা নিয়ে খেলতে নেমেছিলাম। কিন্তু কাক্সিক্ষত সাফল্যের দেখা পেলাম না। তা-ও আবার ঘরের মাঠে হারতে হলো। এমন বিদায়ে আমরা দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাই। তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি।’ গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেলের ভুলে গোল খাওয়া ম্যাচের গতি পাল্টে দিয়েছে মনে করেন এই মিডফিল্ডার, ‘সোহেলের ভুলে ওই গোলের পর আমরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারিনি। এমন গোল কিছুতেই আশা করা যায় না। তারপরও চেষ্টা করে গেছি সবাই, কিন্তু ম্যাচে সমতা আসেনি।’

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল হতাশা নিয়ে বললেন, ‘গ্রুপের শেষ ম্যাচের পারফরম্যান্সে আমরা সবাই হতাশ। সেমিফাইনালে যেতে পারব, এই চিন্তা হয়তো আমরা করেছিলাম। কিন্তু হলো না। ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে ফেরার আশা রাখছি।’ সমর্থকদের কষ্ট দেয়ায় হতাশ ফরোয়ার্ড সাদ উদ্দিন। তারপরও আগামীতে তাদের সমর্থন চান তিনি, ‘আমাদের পারফরম্যান্সের কারণে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করেছি, সফল হতে পারিনি। তবে আশা করছি সমর্র্থকরা আগামীতে আমাদের সমর্থন দিয়ে যাবেন।’ দুঃখ প্রকাশ করলেন মিডফিল্ডার বিপুল আহমেদ, ‘একবারের জন্যও চিন্তা করিনি, এভাবে গ্রুপ থেকে ছিটকে পড়ব। এভাবে বিদায় নিয়ে বেশ খারাপ লাগছে। যারা মাঠে খেলা দেখতে এসেছেন, তাদের জন্য আরও বেশি খারাপ লাগছে। তারপরও ভবিষ্যতে আপনাদের পাশে চাই। আপনাদের অনুপ্রেরণা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য।’ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন বাদশাও ক্ষমা চেয়েছেন, ‘ক্ষমা করবেন ফুটবলপ্রেমীরা।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ