ঢাকা, সোমবার 10 September 2018, ২৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

উশু অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগ

স্পোর্টস রিপোর্টার: সেচ্ছাচারিতা আর অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ উশু অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। সাফ গেমসে স্বর্ণ জয়ের পর খেলাটি খুব অল্প সময়ে পরিচিতি লাভ করে বাংলাদেশ। চাইনীজ এই মার্শাল আর্ট নিয়ে যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তাদের অনেকেরই জায়গা হয়নি অ্যাসোসিয়েশনে। অ্যাডহক কমিটি দিয়েই চলছে এর কার্যক্রম। সংগঠকদের অন্ত:দন্ধে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকেই স্থান করে নিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশনে। তাই তো সল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠা খেলাটির কার্যক্রমে গতি নেই। বার্ষিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ি কার্যক্রম চলেনা। অর্থের বিনিময়ে প্রশিক্ষণ ছাড়াই খেলোয়াড়দের সার্টিফিকেট দেয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য খেলোয়াড় কোটায় বিদেশে লোক পাঠানো। আর্থিক কার্যক্রমেও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। স্টেডিয়ামস্থ উশু অফিসে অধিক রাত পর্যন্ত একাধিক নারী নিয়ে আড্ডা দেয়াটাকেও অনেকই ভাল দৃষ্টিতে নিচ্ছেনা। এনিয়ে রয়েছে নানা রটনা। স্টেডিয়ামের একাধিক নিরাপত্তা কর্মী জানায়, কোন ফেডারেশনেই রাত কাটানোর কোনো অনুমোদন নেই। কিন্তু উশু অ্যাসোসিয়েশনে প্রায় বৃহস্পতিবারই রাত্রিকালীন আড্ডা হয়। যা স্টেডিয়ামের সুস্থ পরিবেশ নষ্ট করছে। কর্মকর্তারা প্রভাবশালী হওয়ায় এনএসসির গার্ডরা কিছুই বলতে পারেনা। উশুর সাথে সম্পৃক্ত অনেকে খোলোয়াড় ও কর্মকর্তাই এখন অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক কর্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কোর্সের নামে অর্থ নিয়েও অনেককে ডুয়ান (উশুরু আন্তর্জাতিক কোর্স) সার্টিফিকেট না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ উশু অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে। চীনের কোচ দিয়ে কোর্স করানোর কথা বললেও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূঁইয়া নিজেই সেই কোর্স করিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কোর্সে অংশ নেয়া বিকেএসপির উশু কোচ সালমান এল রহমানের কথায়, ‘এবারের ডুয়ান কোর্সে অনেক কিছুই ঘটেছে। প্রথমে আমাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, চীনের কোচ দ্বারা ডুয়ান ট্রেনিং কোর্স করা হবে। যেখানে নয়টি ডুয়ান কোর্স থাকে। বাংলাদেশে এর আগে কখনো এই কোর্স হয়নি। চীনের থাউলু কোচ চেন জিয়াং এবং সান্দা কোচ মাউ নুংসুয়ানের মাধ্যমে কোর্স করানোর কথা বলা হয়েছিল। এই দু’জনেই ফাইট ও সান্দায় অভিজ্ঞ। সে জন্য প্রথমে ২০০০ টাকা করে নিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন। পরবর্তীতে আবার বেল্টের জন্য টাকা চেয়েছিল। প্রথম ডুয়ান থেকে শুরু করে অষ্টম ডুয়ান পর্যন্ত যথাক্রমে ১০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ প্রদান করতে বলা হয়। কোর্সের জন্য থাকা খাওয়া অ্যাসোসিয়েশন দেবে বলেছিল। কিন্তু থাকার ব্যবস্থা করলেও নিজেদের খরচাতেই খেতে হয়েছে আমাদের।’ তিনি যোগ করেন, ‘ছাত্রদেরকে সার্টিফিকেট দেয়া হবে না, তা আগেই বলা হয়েছিল। তাই অধিকাংশ কোচেরা আবেদন করেন। অথচ জুনিয়র অনেকের কাছ থেকেই বেল্ট ও সার্টিফিকেটের জন্য ১০০ থেকে ৮০০ টাকা নিয়েছেন তারা। সবচেয়ে বড় কথা হলো থাউলু ও আর্টে বিশেষজ্ঞ বর্তমান সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু সান্দাতে তিনি কখনো খেলেননি। উনার কোন সার্টিফিকেটও নেই। আন্তর্জাতিকভাবে তিনি আর্টে পাশও করেননি। অথচ চীনের কোচদের বসিয়ে রেখে তিনি কীভাবে সান্দার পরীক্ষা নেন তা আমার বুঝে আসে না। উপরন্তু চীনের কোচদের দিয়ে সার্টিফিকেটে সই করিয়ে নিয়েছেন। পরে নিজেদের মতো করে গ্রেড দিয়েছে পছন্দের প্রশিক্ষণার্থীদের।’ বিকেএসপির এই কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশস্থ চীনা দূতাবাস ১২ লাখ টাকা দিয়েছে খেলা পরিচালনা করতে এবং ডুয়ান কোর্সের সার্টিফিকেট দেয়ার জন্য। তাহলে কেন আমাদের কাছ থেকে এত টাকা নেয়া হল, কেনইবা চারদিনের জায়গায় দু’দিন কোর্স করানো হলো তা বুঝতে পারছি না। তাছাড়া কেনইবা অনুশীলন করাতে আসা চীনের কোচদের সই করে আমাদের সার্টিফিকেট দেয়া হল তাও বুঝিনা। ডুয়ান কোর্সের নামে এটা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই হয়নি।’ সূত্রে জানা গেছে, ডুয়ান কোর্সের নামে প্রহসন করায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে। ফলে বিষয়টি নিয়ে খুব শিগগিরই এক সভায় বসবেন উশু অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে আলমগীর শাহ ভূঁইয়া বলেন, ‘তাদের সব কথা সত্যি নয়। কোর্স ফি নেয়া হয়েছে। ডুয়ানের সার্টিফিকেটের জন্যও অর্থ নেয়া হয়ছে। তবে তাদের খাওয়া দেয়ার কথা বলা হয়নি। তাছাড়া মাঝে মধ্যে চীনের কোচরাও কোর্স করিয়েছেন। এছাড়া যারা সার্টিফিকেট নিতে চায়নি তারা নেয়নি। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। বিষয়টি নিয়ে উশু অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আবদুস সোবহান গোলাপের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ