ঢাকা, সোমবার 10 September 2018, ২৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন -খন্দকার মাহবুব

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : একজন অসুস্থ আসামীকে জোর করে কারাগারে স্থাপন করা আদালতে বিচার করার কোনো নজির নেই। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না করা হলে, তার জীবন বিপন্ন হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। আন্দোলন আদালত প্রাঙ্গণে নয় এখন হবে রাজপথে। এ আন্দোলনে খালেদা জিয়াকে মুক্ত এবং ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা হবে।
গতকাল রোববার প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের ব্যানারে অর্ধশতাধিক আইনজীবী মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান, মো: মনির হোসেন, আবেদ রাজা, সাবেক যুগ্ম জেলা জজ মো: শামসুল আলম, মাওলানা আবদুর রকিব, আনিছুর রহমান খান, আইয়ুব আলী আশ্রাফী প্রমুখ।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আইনজীবীরা রাজপথে নেমেছেন। আন্দোলন এখন আর আদালত অঙ্গনে নয়, রাজপথে করতে হবে। তিনি বলেন, একজন অসুস্থ আসামীকে জোর করে কারাগারে স্থাপন করা আদালতে বিচার করার কোনো নজির নেই। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না করা হলে, তার জীবন বিপন্ন হলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে।
তিনি বলেন, আজ দেশে আইনের শাসন নেই। বিচার বিভাগ ও প্রশাসন সরকারের ইচ্ছায় চলছে। তিনি বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসা করতে হবে। তা না হলে আইনজীবীরা দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।
তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, আজ যখন খালেদা জিয়া কারাগারে, চিকিৎসার অভাবে তার হাত-পা অবস হয়ে যাচ্ছে তখন মনে হচ্ছে যারা সরকারে আছে তাদের মাথা অবস হয়ে গেছে। সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হলেও প্রশাসন ও বিচার বিভাগ থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তা হলে বর্তমান সরকারের সঙ্গে স্বৈর শাসকের পার্থক্য কি? তিনি বলেন, আইনজীবীরা আজ রাস্তায় নেমেছে। প্রয়োজনে প্রধামন্ত্রীর দপ্তরের সামনে যাবে।
 তিনি আরো বলেন, দেশের পুলিশ ও সেনাবাহিনীরও বিবেক আছে। ৭৩ বছর বয়সের সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রীকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান বলেন, সারা বিশ্ব জানে, দেশবাসী জানে একটা মিথ্যা মামলায় প্রহসনের বিচার করে খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন দেয়ার পরও তারা কারাগারে রেখে ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন দিন, ফেয়ার নির্বাচন দিন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে খালেদা জিয়া আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন।
মনির হোসোনে বলেন, গত ৩১ বছরের আইনজীবী হিসেবে প্রাক্টিসে কখনো দেখিনি ফৌজদারী মামলায় কারাগারে বিচার করা হয়। এটা প্রথম দেখছি। আজ দেশের মানুষ বিচার পাচ্ছে না। ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত। ভাত ও ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে আন্দোলনে নেমেছি।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। তিনিই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র এনেছেন। আজ আমরা আইনজীবীরা গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য এখানে এসেছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ