ঢাকা, সোমবার 10 September 2018, ২৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সমাজ-সভ্যতার বিকৃতিকে আইনী বৈধতা

বর্তমান কালটাকে আমরা আধুনিক কাল হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। পাশাপাশি এমন প্রশ্নেরও সৃষ্টি হয়েছে যে, আধুনিককালের সবকিছুই কি গ্রহণীয় কিংবা বর্জনীয়- এখানেই চলে আসে বিবেচনার বিষয়। আমরা মনে করি, কোনোকালের সবকিছুই গ্রহণীয় কিংবা বর্জনীয় হতে পারে না। মানুষের জীবন-যাপনে এবং সমাজের বিকাশে যা সঙ্গত ও শোভন তাই গ্রহণযোগ্য, আর এর বিপরীত বিষয়গুলো বর্জনীয়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, বাস্তব কারণেই সব মানুষের চিন্তা-চেতনা ও জ্ঞানের স্তর একরকম নয়। স্বাভাবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ চিন্তা ও জীবন-যাপনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব তারতম্যের কারণেই মানবসমাজে মানববান্ধব স্বাভাবিক, সঙ্গত, প্রকৃতিসম্মত ভারসাম্যপূর্ণ জীবনপ্রাণালী গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। এছাড়া জ্ঞানবিজ্ঞানে প্রাগ্রসর নয়, এমন সাধারণ মানুষও অভিজ্ঞতার আলোচক সঙ্গত বিষয়টিকে চিনে নিতে পারে। তাই অধিকাংশ মানুষের অভিজ্ঞতাও মানব ইতিহাসে জ্ঞানের বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে এসেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে সমকামিতাকে যখন কেউ বৈধতা দিতে চায় তখন অবশ্যই প্রশ্ন জাগে। মানবসভ্যতায় সমকামিতা কখনো স্বাভাবিক, সঙ্গত ও মানববান্ধব বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়নি। একে সবসময় সমাজ ও সভ্যতার বিকৃতি হিসেবে দেখা হয়েছে। তাই সমকামিতাকে বৈধতা দিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির হিন্দুধর্মের এবং ইসলাম ধর্মের নেতারা। গত ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রায়টি ঘোষণার পরই বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে এ রায়ের সমালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ভারতের শীর্ষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দারুল উলুম দেওবন্দ ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসও রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ভারতের দণ্ডবিধি ৩৭৭ ধারা অনুসারে সমকামিতা দ-নীয় অপরাধ হিসেবেই চিহ্নিত ছিল।
কোনো সুস্থ মানুষ সমাজ-সভ্যতার এই বিকৃতি বিচার-বিচারপতি তো বটেই, কোন মানুষের সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। এই অস্বাভাবিক অবস্থাকে স্বাভাবিক করতে চাইলে তা হবে মানবপ্রকৃতির খেলাপ। নারী ও পুরুষের বৈধ যৌনজীবনই স্বাভাবিক এবং প্রকৃতিসম্মত। এর মাধ্যমেই নবজাতকের জন্ম হয়, মানবজাতির বিকাশধারাও অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া সমকামিতা এইডসসহ নানা অসুস্থতা ছড়িয়ে দেয়। এ কারণে মহান ধর্মসমূহের নির্দেশনায় সমকামিতা নিষিদ্ধ। তাই এটি সিদ্ধ হতে পারে না। পশ্চিমের কিছু দেশ অস্বাভাবিক অবস্থাকে সামাজিক ও আইনী বৈধতা দিয়েছে, সেখানেও তা জনগণের স্বীকৃতি পায়নি। সেখানেও এর বিরুদ্ধে রয়েছে প্রবল প্রতিবাদ। বলা যায়, কোথাও একে মানুষ সাধারণভাবে মেনে নেয়নি। প্রাচ্যের দেশগুলোর জন্যে এটা আরও বেশি সত্য। এই অবস্থায় এ অঞ্চলের কোন আদালত যদি একে বৈধতা দেয় সেটা খুবই দুঃখজনক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ