ঢাকা, সোমবার 10 September 2018, ২৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্যাংক খাত এবং খেলাপি ঋণ

আশিকুল হামিদ : বিষয়বস্তু হিসেবে নিরস বা রসকষহীন হলেও জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে দেশের ব্যাংক খাতকেও মাঝে-মধ্যেই টেনে আনতে হয়। এর পেছনে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কারণও রয়েছে। যেমন গত ৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংক খাত সম্পর্কিত সর্বশেষ এক রিপোর্টে একটি দৈনিকে জানানো হয়েছে, ব্যাংকগুলোতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সুশাসনের অভাবও ‘জেঁকে’ বসেছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যখন বিশেষ করে পরিচালনা পরিষদের ‘অযাচিত’ হস্তক্ষেপের কারণে এমডি ও ডিএমডিসহ কোনো ব্যাংকের শীর্ষ কর্তৃপক্ষই ‘স্বাধীনভাবে’ কাজ করতে পারছেন না। কথা শুধু এটুকুই নয়। হস্তক্ষেপের পাশাপাশি অনেক পরিচালকই ব্যাংকগুলোকে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করিয়ে নিচ্ছেন। এসব উদ্দেশ্যের মধ্যে যে নিজেদের এবং পছন্দের তথা প্রিয়জনদের জন্য শত ও হাজার কোটি টাকার অংকে ঋণ মঞ্জুর করিয়ে নেয়ার বিষয়টি রয়েছে সে কথা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরো অনেক তথ্য-পরিসংখ্যানের উল্লেখও রয়েছে প্রকাশিত রিপোর্টে। তাই বলে দৈনিকটির পক্ষ থেকে কিছু বলা বা মন্তব্য করা হয়নি। ৮ সেপ্টেম্বর ‘উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সুশাসন’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে রিপোর্টে ব্যাংক খাতের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যে পরিচালনা পরিষদের ‘অযাচিত’ হস্তক্ষেপকে দুর্নীতি থেকে কেলাপি ঋণ ও সুশাসনের অভাব পর্যন্ত সবকিছুর জন্য দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা সে পরিষদের সদস্য তথা পরিচালকদের সকলেই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই কারণে একদিকে তাদের কারো বিরুদ্ধেই কোনো ব্যবস্থা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই, অন্যদিকে অনুরোধ বা পরামর্শের নামে তাদের কারো হুকুম অমান্য বা প্রত্যাখ্যান করারও সাহস পান না কোনো ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। সে জন্যই দেশের ব্যাংক খাত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে অবিশ্বাস্য হারে। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ এবং বিভিন্ন খাতে আর্থিক দুর্নীতি ও জালিয়াতির পাশাপাশি অবৈধভাবে বিদেশে টাকা পাচারের মতো অপতৎপরতা নিয়ে দেশে-বিদেশে হৈচৈ পড়ে যাওয়ায় ধারণা করা হয়েছিল, সরকার ও ব্যাংকসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ সতর্ক হবে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরবে। অন্যদিকে বাস্তব অবস্থায় পরিবর্তন তো ঘটেইনি বরং একযোগে সব খাতেই লাফিয়ে বেড়ে চলেছে দুর্নীতি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য-পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে ৮ সেপ্টেম্বরের ওই গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত প্রায় দশ বছরে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে সাড়ে তিন গুণেরও বেশি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। অন্যদিকে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। সাড়ে তিন গুণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি রয়েছে অবলোপনের নামে আরো প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার মন্দ বা কুঋণকে আড়াল করে ফেলার কৌশল। এই অর্থকে যোগ করা হলে দেশে খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ বর্তমানে এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
গোলটেবিল বৈঠকের আলোচনায় জানানো হয়েছে, আইন ও নিয়ম না মেনে বিশেষ করে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দেয়ার ফলেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ এভাবে বেড়ে গেছে। সরকারদলীয় পরিচিতির বিবেচনায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য দেয়ার কারণে শুধু নয়, ঋণের অর্থ নির্ধারিত সময়ে ফেরৎ না দিলে যেহেতু কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় না সে কারণেও ঋণের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। এ ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারি ৫৬টি ব্যাংকের প্রতিটিই কমবেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে। পরিমাণে কম হলেও খেলাপি ঋণ রয়েছে এমনকি বিদেশী ব্যাংকগুলোরও।
আশংকার অন্য এক কারণ হলো, অর্থের পরিমাণের সঙ্গে ঋণ খেলাপি ব্যক্তিদের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেড় লাখের বেশি ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছেন। যুক্তির অবশ্য শেষ নেই তাদের। সময়মতো ঋণ এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ না পাওয়া, রাজনৈতিক সংকটের কারণে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী যথাসময়ে পণ্য পৌঁছাতে না পারা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধর্মঘটসহ শ্রমিক অসন্তোষের মতো অনেক অজুহাতের কথাই জানিয়ে থাকেন ঋণ খেলাপিরা।
অন্যদিকে তথ্যাভিজ্ঞরা মনে করেন, এসবের অধিকাংশই খোঁড়া যুক্তি। আসলে গলদ রয়েছে তাদের উদ্দেশ্যের মধ্যে। বড় কথা, খেলাপি ঋণের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরাসরি জড়িত রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। ব্যাংকের পরিচালকসহ এই নেতারা প্রভাব খাটিয়ে ঋণের ব্যবস্থা যেমন করেন তেমনি আবার খেলাপিদের বাঁচিয়ে দেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কবল থেকেও। ফলে ঋণের অর্থ না দিয়েও পার পেয়ে যান খেলাপিরা। মূলত সে কারণেই বেড়ে চলেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। এভাবে বেড়ে যাওয়াকে ব্যাংক খাতের ইতিহাসে এক বিরল ও অস্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আশংকার দ্বিতীয় কারণ হলো, বর্তমান সরকারের আমলে খেলাপি ঋণের ব্যাপারে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকই এগিয়ে রয়েছে। ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়ার পাশাপাশি সুপারিশের আড়ালে ক্ষমতাসীনদের চাপের কারণেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে চলেছে বলে মনে করেন তথ্যাভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা। ব্যাংক কর্মকর্তাদের ঘুষ-দুর্নীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি না থাকার সুযোগে ব্যাংকিং খাতের চরম অব্যবস্থাপনার কথাও বলেছেন তারা। এভাবে চলতে থাকলে দেশের ব্যাংক খাত তথা সমগ্র অর্থনীতিই মুখ থুবড়ে পড়বে বলেও তথ্যাভিজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার খবর অত্যন্ত আশংকাজনক হলেও ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ রয়েছে বলেই একে বিস্ময়কর বা অস্বাভাবিক মনে করা হচ্ছে না। এ যে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অভিযোগ নয় তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে নিয়মিতভাবেই। প্রসঙ্গক্রমে শেয়ারবাজারের লক্ষ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা থেকে ঘুষ-দুর্নীতির মহোৎসবের অনেক ঘটনারই উল্লেখ করা যায়। কারণ, প্রমাণিত হয়েছে, প্রতিটি কেলেংকারিতে ক্ষমতাসীনদের রথি-মহারথিরাই জড়িত ছিলেন। এখনো তারাই জড়িত রয়েছেন। বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদগুলোর দিকেও লক্ষ্য করা যেতে পারে। যারা পরিচালক হয়েছেন তাদের প্রধান ‘যোগ্যতা’- সবাই অওয়ামী লীগের নেতা বা দলটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এসব পরিচালকও ভালোই দেখিয়ে ছেড়েছেন, যার প্রমাণ দেয়ার জন্য ‘হলমার্ক’সহ দু’চারটি মাত্র কেলেংকারির উল্লেখই যথেষ্ট। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক একাই কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ওদিকে রথি-মহারথিদের হুকুম তামিল করতে গিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তারাও নীরবে বসে থাকেননি। তারাও ঘুষ খেয়েছেন যথেচ্ছভাবে। এভাবে সবার অংশগ্রহণেই সর্বনাশের চ’ড়ান্ত পর্যায়ে এসে গেছে দেশের ব্যাংক খাত।
বলা দরকার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের ব্যাপারে ক্ষমতাসীনদের সততা ও সদিচ্ছার অভাবই পরিস্থিতিকে এতটা ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। কারণ, অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীনরা শুধু ঘুষ-দুর্নীতির মহোৎসবেই মেতে থাকছেন না, এমন আরো কিছু পদক্ষেপও নিয়েছেন, যেগুলোর কারণেও একদিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে অন্যদিকে স্থবির হয়ে পড়েছে জাতীয় অর্থনীতি। যেমন মাঝখানে প্রায় পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ঢালাওভাবে গ্যাসের সংযোগ দেয়া বন্ধ রাখার কারণে বহু শিল্প প্রতিষ্ঠানই উৎপাদনে যেতে পারেনি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। ফলে খেলাপি ঋণও বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এবং একথা সত্যও যে, ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের কবল থেকে রক্ষা করতে হলে সরকারকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য শুধু ঘুষ-দুর্নীতির পথ থেকে সরে আসাই যথেষ্ট নয়, ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনার দিকেও নজরদারি বাড়াতে হবে। কেবলই দলীয় পরিচিতির কারণে কাউকে পরিচালক যেমন বানানো যাবে না, তেমনি কাউকে ঋণও দেয়া চলবে না। বড় কথা, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে সকল ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গক্রমে ব্যাংক খাতের অন্য একটি বিষয়েরও উল্লেখ করা দরকার। এ খবর এরই মধ্যে পুরনো হয়ে গেছে যে, সরকার সকল ব্যাংককে বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হার এক ডিজিটে তথা ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। গত ১ জুলাই ছিল এই নির্দেশ বাস্তবায়নের নির্ধারিত তারিখ। অন্যদিকে সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে ব্যাংকগুলো এমন কিছু চাতুরিপূর্ণ কৌশল অবলম্বন করেছে, যার ফলে সমস্যা উল্টো আরো জটিল হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ী ও মেয়াদী হিসাবে সুদের হার কমিয়ে এমনকি তিন থেকে পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত নামিয়ে আনা এরকম একটি চাতুরিপূর্ণ কৌশল। এ ব্যাপারে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় সংগঠন এবিবি’র যুক্তি হচ্ছে, সরকারই তো সুদের হার এক ডিজিটে নামিয়ে আনতে বলেছে।
আসলেও কি সরকার সেরকম কিছু বলেছে বা নির্দেশ দিয়েছে? বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হার এক ডিজিটে নামিয়ে আনার মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্যসহ অর্থনীতির মন্দা দূর করাই ছিল সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু ব্যাংকগুলো সম্ভাবনাময় সে পথে পা বাড়ায়নি। কাগজেপত্রে সুদের হার এক ডিজিট তথা ৯ শতাংশের নামিয়ে আনার কথা বললেও প্রতিটি ব্যাংককে সাধারণ মানুষের আমানতের বিপরীতে সুদের হার কমানোর ব্যাপারেই বেশি তৎপর দেখা গেছে। কোনো কোনো ব্যাংক এই হার এমনকি তিন শতাংশেও নামিয়ে এনেছে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হারের ব্যাপারে সে একই ব্যাংকগুলো কিন্তু ‘ধীরে চলো’ কৌশল নিয়েছে! 
এমন অবস্থাকে আমানতকারীদের তথা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুদসহ খেলাপি ঋণের অর্থ আদায়, অর্থ পাচার ও ব্যাংকের মূলধন আত্মসাত এবং জালিয়াতির মতো প্রমাণিত বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ী ও মেয়াদী হিসাবে সুদের হার কমানোর কারণে স্বাভাবিক নিয়মেই ব্যাংকে টাকা জমানোর ব্যাপারে সাধারণ মানুষের আগ্রহ অনেক কমে গেছে। সেজন্যই ব্যাংকগুলোতে মারাত্মক তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে এবং পরিশোধের নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোর পক্ষে তাই আর নতুন ঋণ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন এবং আমদানি-রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থারও সুযোগ নিচ্ছেন ঋণখেলাপিরা। ঋণ না পাওয়ার অজুহাতে তারা পুরনো ঋণ পরিশোধ করতেও গড়িমসি করছেন। ফলে বিভিন্ন ব্যাংক তো বটেই, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতিও।
এই সংকট কাটিয়ে উঠে ব্যাংক খাতকে স্বাভাবিক ও লাভজনক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে হলে জাল-জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার এবং কঠোর শাস্তি দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বভিন্ন ব্যাংক থেকে বেরিয়ে গেছে সে অর্থ অবশ্যই ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে।
এসব জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। এভাবেই ব্যাংকের প্রতি সাধারণ মানুষ তথা আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আর আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা গেলে তারল্য সংকট যেমন কাটিয়ে ওঠা যাবে তেমনি সম্ভব হবে নতুন পর্যায়ে ঋণ দেয়ার কার্যক্রম চালু করা। সে লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত সকল ব্যাংককে এই মর্মে নির্দেশ দেয়া, ব্যাংকগুলো যাতে সুদসহ ঋণের অর্থ আদায়ের ব্যাপারে বেশি চেষ্টা চালায় এবং খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরে। এভাবেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ