ঢাকা, সোমবার 10 September 2018, ২৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বৃহত্তর জাতীয়ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ২০ দলীয় জোটের

গতকাল রোববার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিমসহ জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার বিরোধী ‘বৃহত্তর জাতীয়ঐক্য’  কে সাধুবাদ জানিয়েছে ২০ দলীয় জোট। একইসাথে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্য গঠনকে সমর্থনও করেছে তারা। এছাড়া জোটের পক্ষ থেকে বিএনপিকে জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে। এতে ২০ দলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সমর্থন অব্যাহত থাকবে। গতকাল রোববার ২০ দলীয় জোটের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন,সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ যে প্রক্রিয়া চলছে তাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০ দলীয় জোট। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগেও বলে গেছেন যে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তির একটা বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আমরা সেই ঐক্য গড়ে তোলার কাজ করছি। গতকাল (রোববার) জোটের এই সভায় এটাই দৃঢ়তর করা হলো এই বলে যে, ২০ দল এই উদ্যোগকে শুধু সমর্থন করে না, তারা (২০ দল) এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, সভায় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দীদের মুক্তি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ইভিএম ব্যবহার না করা, নির্বাচনকালীন সময়ে সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ,জনাব তারেক রহমানসহ মিথ্যা মামলায় আটক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলায় প্রত্যাহার, হয়রানি বন্ধসহ ন্যুনতম দাবিতে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় দেশের সকল গণতন্ত্রকামী দল, সংগঠন ও ব্যক্তির প্রতি আহবান জানায়।
 জোটের সভায় কারাবন্দী জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবণতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া মূলমামলায় জামিন পাওয়ার পরও নানা কৌশলে আটকিয়ে রাখা, কারাগারের অভ্যন্তরে আদালত স্থাপনের নিন্দা জানিয়ে ২০ দল বলেছে, সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক তৎপরতার প্রকাশ বলে মনে করে। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে রাত ৭টায় ২০ দলীয় জোটের সভা শুরু হয়। প্রায় ঘন্টা খানেক পর বৈঠক শেষ হয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের, এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তাজা, বাংলাদেশ ন্যাপ এর মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচ এম কামরুজ্জামান, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, জাগপার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমদ, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন, ডেমোক্রটিক লীগের মহাসচিব সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ।
জানা গেছে, বৈঠকে আজ বিএনপি ঘোষিত খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিতব্য কর্মসূচিতে জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বৈঠকে জোটের সার্বিক কার্যক্রমে ধীরগতির বিষয়ে আলাচনা হয়েছে। এ সময় শীর্ষ নেতারা জানান, কিছুদিন ধরে জোটের বৈঠকসহ সার্বিক কার্যক্রমে ধীরগতি ছিল এটা সত্য। তবে এটাকে আপনারা খারাপ ভাববেন না। যথা সময়ে জোটের সার্বিক কার্যক্রম আবারো জোরালো করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ