ঢাকা, সোমবার 10 September 2018, ২৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

১৯৯৬ সালে সন্তুলার্মার নেতৃত্বে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা ৩৫ জন বাঙালি কাঠুরিয়াকে নির্মমভাবে হত্যার বিচার দাবি

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : উপজাতি-বাঙালী আদিবাসী ভাই ভাই উপজাতি কোটা নয় পার্বত্য কোটা চালু করার ও ১৯৯৬ সালের ৯ই সেপ্টেম্বার রাঙ্গামাটি জেলার পাকোয়াখালীতে সন্তুলার্মার নেতৃত্বে  উপজাতীয় সন্ত্রাসী কর্তৃক ৩৫ জন বাঙালি কাঠুরিয়াকে নির্মম ভাবে হত্যার বিচার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ।
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্যবাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা এবং পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জি:মোঃ আলকাছ আল মামুন ভুঁইয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সিনিয়র সহ সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ,ন্যাপ ভাষানির সভাপতি মোস্তাক আহমেদ ,ঢাকা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি মাহবুব খোকন,পার্বত্য নাগরিক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক শেখ আহাম্মদ রাজু, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হামিদ রানা, প্রকৌশলী সাহাদাৎ ফরাজি সাকির, মো:ইব্রাহিম খলিল,আলামিন, রোবেল, সাইফুল প্রমুখ।
মানববন্ধনের পর শোক সভার আলোচনায় তিনি বলেন, সন্ত্রাসী সন্তলারমার নেতৃত্বে এপর্যন্ত যে ৩০ হাজার নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছে তার বিচার করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে উপজাতীয় সন্ত্রাসী কর্তৃক ১৯৯৬ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর পাকোয়া খালীতে সন্তুলার্মার নেতৃত্বে ৩৫ জন বাঙালি কাঠুরিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা কান্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ পার্বত্য অঞ্চলে সকল হত্যাকান্ডের বিচার করতে হবে। নিরাপত্তার স¦ার্থে  পার্বত্য অঞ্চলে  প্রত্যাহার কৃত সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ অস্্র উদ্ধার করতে হবে। পার্বত্য এলাকায় উপজাতীয় অস্রধারী কর্তৃক চাঁদা বাজি বন্ধ করতে হবে ।সর্ব ক্ষেত্রে উপ জাতীয় কোটা বাতিল করে পার্বত্য কোটা চালু করতে হবে । পার্বত্য ভূমি কমিশনের নামে পার্বত্য অঞ্চল থেকে বাঙ্গালী শুন্য করার ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। পার্বত্য চুক্তির বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক ধারা বাতিল করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিহীনদের মাঝে খাসভূমি বন্দোবস্থ চালু করতে হবে। আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদের অনির্বাচিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে কর্মসংস্থানের জন্য শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে হবে।
পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্রপরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইব্রাহিম মনির সেইদিনের হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ১৯৯৬ সালের এই দিনে রাঙামাটির লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী পাকুয়াখালী নামক গহীন অরণ্যে তৎকালীন শান্তি বাহিনীর হাতে প্রাণ হারায় ৩৫ নিরীহ বাঙালি কাঠুরিয়া। সেই থেকে পার্বত্য এলাকায় বাঙালিরা এ দিনটিকে পাকুয়াখালী  ট্রাজেডি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। প্রায় দুইযুগ হয়ে গেলেও এখনও এই হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ২১ বছর পরেও বিচার না পেয়ে হতাশায় নিমজ্জিত নিহতদের পরিবার। ১৯৯৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর শান্তিবাহিনী লংগদুর ৩৬ জন কাঠুরিয়াকে ব্যবসায়িক লেনদেনের কথা বলে পাকুয়াখালী নামক গহীন অরণ্যে ডেকে নিয়ে যায় সেখানে কাঠুরিয়াদের তিন দিন আটকে রেখে হাত-পা ও চোখ বেধে নির্যাতন চালিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর হত্যা করা হয়। আটক ৩৬ জন কাঠুরিয়ার মধ্যে ইউনুস নামের একজন কাঠুরিয়া পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। সে খবর দিলে ৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাশগুলি উদ্ধার করে। পার্বত্য নাগরিক পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মো:খলিলুর রহমান কর্তৃক প্রেরিত এক ইমেইলে উক্ত খবর নিশ্চিত করা হয়।
বক্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য এলাকার বাঙালিদের বঞ্চিত করে এক তরফা যে চুক্তি করা হয়েছিল সেই চুক্তির দীর্ঘ ২০ বছর পরও পার্বত্য এলাকা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে অনিরাপদ ও বিপদগ্রস্ত অঞ্চল। এখানে প্রতিদিন রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উপজাতি সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানীতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠেছে। প্রতিদিন উপজাতি সন্ত্রাসীদের গুলীতে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
১৯৯৬ সালের আজকের এইদিনে ৩৫ জন কাঠুরিয়াকে রাঙামাটি জেলার পাকুয়াখালী নামক স্থানে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যাকরা হয়েছিল। কিন্তু এই বর্বরতম হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত পাহাড়ে সাধারণ মানুষ কে ১৯৯৬ সালের মত ই হত্যা করছে উপজাতি সন্ত্রাসী সংগঠন গুলো। শুধুমাত্র পাকুয়াখালী ই নয় ১৯৮৪ সালের ২৯ এপ্রিলে পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় গণহত্যার কোন বিচার হয়নি। ১৯৮৪ হলে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত পাহাড়ে ৩০ হাজারের বেশি বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছে। ১০ হাজারের ঘর বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করে মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে সন্তুলারমার নেতৃত্বাধীন উপজাতি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।
১৯৭১ সালের পর সবচেয়ে বড় মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে এই সন্তুলারমা। তার কোন বিচার না করে খুনি সন্তুলারমাকে মন্ত্রীত্ব দিয়ে রাষ্ট্র  যে তামাশা সৃষ্ট্রি করেছে তা স্বরণ করিয়ে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের গাড়ীতে জাতীয় পতাকা লাগানো ও তাদের মন্ত্রী বানানা।  অন্যান্য বক্তারা বলেন, অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে খুনি সন্তলারমার নেতৃত্বে যে ৩০ হাজার নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছিল তার বিচার করতে হবে। এবং একতরফা সংবিধান ও রাষ্ট্রবিরোধী পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
২ যুগ পরও যে হত্যার বিচার পাইনি বাঙালীরা: দীর্ঘ ২৩ বছরেও বিচার হয়নি রাঙামাটির লংগদু পাকুয়াখালীর ৩৫কাঠুরিয়া হত্যাকান্ডের বিচার। গতকাল ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের শোকাবহ এক কালোদিন। বর্বর এ হত্যাকান্ডের কোন বিচার না পেয়ে হতাশায় নিমজ্জিত নিহতদের পরিবার। ১৯৯৬ সালে ৯ সেপ্টেম্বর এদিনে পার্বত্য চুক্তি সম্পাদনের প্রাক্কালে রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার পাকুয়াখালীর গহীন অরণ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদি সশস্ত্র উপজাতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ তৎকালীন শান্তি বাহিনী (বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি) নামে পরিচিত নির্মমভাবে ৩৫ নিরীহ বাঙালী কাঠুরিয়াকে হত্যা করে। সেদিন থেকে পার্বত্যাঞ্চলের বাঙালিরা এ দিনটিকে ‘পাকুয়াখালী ট্রাজেডি দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের বহু গণহত্যার মধ্যে অন্যতম ঘটনা।
প্রতি বছর এই দিনে স্থানীয় বাঙালিরা রাঙামাটির পাকুয়াখালী ট্রাজেডি দিবস হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে থাকে। দিবস উপলক্ষে লংগদুতে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন ও বাঙালি ছাত্র পরিষদ ‘পাকুয়াখালী ট্রাজেডী দিবস’ হিসেবে পালন করছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের তৎকালীন বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গ্রুপ শান্তিবাহিনী লংগদুর ৩৫ জন কাঠুরিয়াকে ব্যবসায়িক হিসাবের কথা বলে পাকুয়াখালী নামক গহীন অরণ্যে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তিন দিন কাঠুরিয়াদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে নির্যাতন চালিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর হত্যা করা হয় ৩৫ জন কাঠুরিয়াকে। এর মধ্যে ইউনুছ নামের একজন কাঠুরিয়া পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। পরে ৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ ও সেনাবাহিনী পাকুয়াখালী হতে ২৮ জন কাঠুরিয়ার ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। বাকি ৭ জন কাঠুরিয়ার লাশ পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করে বলেন, ৩৫ কাঠুরিয়া হত্যাকান্ডের ঘটনার পর পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের একটি সংসদীয় টিম লংগদু সফর করে এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে আসে। এর পরবর্তী সরকারগুলোও একই আশ্বাস দিয়ে আসলেও এখনো এ ঘটনার মামলার কোন কূল কিনারা হয়নি এবং পুনর্বাসিত হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ