ঢাকা, সোমবার 10 September 2018, ২৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ১২ শিক্ষার্থীর পরিবার

স্টাফ রিপোর্টর : নিখোঁজ’ ১২ জন শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে তাঁদের পরিবার। পরিবারের ভাষ্য, তাদের সন্তানদের পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ধরে নিয়ে গেছে। অভিভাবকরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সন্তানদের নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের বাবা, ভাই ও সহপাঠীরা এই দাবি জানান।
‘নিখোঁজ’ সাইফুল্লাহ বিন মানসুরের বাবা মানসুর রহমান সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, তাঁর দুই সন্তান সাইফুল্লাহ ও সিফাতকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সিফাতকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাইফুল্লাহর সম্প্রতি একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি হয়েছে। ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ নিতে তিনি ঢাকায় এসে ছোট ভাই সিফাতের মেসে ওঠেন। সেখান থেকে দুই ভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
মানসুর রহমানের ভাষ্য, সিফাত ফিরে এসে বলেছেন ডিবি অফিসে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। তাঁদের জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, তাঁরা নিরাপদ সড়ক ও কোটা আন্দোলনে ছিলেন কিনা। তবে সিফাতকে কম নির্যাতন করা হয়েছে।
‘আটক’ করার বিষয়ে ডিবি অফিস থেকে কোনো কিছু না জানানোয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের পরিবার গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। মানসুর রহমান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমাদের আবেদন, সন্তানদের যেন দ্রুত আদালতে হাজির করা হয়। তাদের নিয়ে যেন কোনো নাটক না সাজানো হয়। তারা যদি দোষী হয়, সেটা আদালত দেখবেন।’
সূত্র জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ মহাখালী, তেজকুনিপাড়া ও বিজি প্রেস এলাকা থেকে ৩১ জনকে তুলে নিয়ে যায়। এক দিন পর ১২ জনকে আটকে রেখে বাকি শিক্ষার্থীদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এই আটকের বিষয়ে ডিবি অফিস থেকে শিক্ষার্থীদের পরিবারকে কোনো কিছু জানানো হয়নি।
‘আটক’ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটি, তিতুমীর কলেজ, করটিয়ার সরকারি সা’দত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন মুজাহিদুল ইসলাম, ইফতেখার আলম, জাহাঙ্গীর আলম, তারেক আজিজ, রায়হানুল আবেদীন, মাহফুজ আহমেদ, তারিক আজিজ, মেহেদী হাসান, জহিরুল ইসলাম, সাইফুল্লাহ বিন মানসুর, আল আমিন ও বোরহান উদ্দিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ