ঢাকা, সোমবার 10 September 2018, ২৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভারত থেকে আরো ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে আজ

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু হচ্ছে আজ । বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ সোমবার বিকেলে বিদ্যুৎ গ্রিডলাইন উদ্বোধন করবেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটা উদ্বোধন করা হবে। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণায়ল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হবে।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সোমবার আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন হলে ও রোববার রাত বারোটার পর ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে। সোমবার বাংলাদেশর সময় বিকাল ৪ টা ৪৫ মিনিটে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ আমদানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ভেড়ামারায় স্থাপিত উচ্চ ক্ষমতার সঞ্চালন লাইনের দ্বিতীয় ইউনিটের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ।
এরআগে ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়। বর্তমানে ওই ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়াও ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হচ্ছে। বর্তমানে ভারত থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির করা হচ্ছে। এরসঙ্গে সোমবার আরও নতুন ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পর বিদ্যুৎ আমদানির মোট পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার ৬৬০ মেগাওয়াট।
এ প্রসঙ্গে পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সোমবার বিকেলে হলেও রোববার রাত ১২টায় পরীক্ষামূলকভাবে এই বিদ্যুৎ আসা শুরু হবে।  অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বরের প্রথম প্রহরে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হতে যাচ্ছে। ভারতকে এজন্য ৩০০ মেগাওয়াটের একটি চাহিদা দেওয়া হয়েছে।’
 সোমবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ভেড়ামারা কেন্দ্রে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেবেন। সুধী সমাবেশে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা  উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে, বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কিউ এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সবাই ভেড়ামারায় রয়েছি। আপাতত ভারতকে ৩০০ মেগাওয়াটের একটি চাহিদা দেওয়া হয়েছে। রাত ১২টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা। তবে কোনও কারণে সম্ভব না হলে সকাল ১০টা থেকেই বিদ্যুৎ আসবে।’
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, এই বিদ্যুৎ আমদানির জন্য এরইমধ্যে ভারতের কোম্পানি এনটিপিসি বিদ্যুৎ ভ্যাপার নিগাম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশন (পিটিসি) ইন্ডিয়া লিমিটেডকে নির্বাচিত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। গত ১১ এপ্রিল সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি তাদের দরপ্রস্তাব অনুমোদনও করেছে।
পিডিবি সূত্র জানায়, বর্তমানে স্বল্প মেয়াদে ৩০০ ও ২০০ মেগাওয়াট করে ভারতের এই দুই কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। সরকার স্বল্প ও দীর্ঘÑদুই মেয়াদে ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বল্প মেয়াদ এবং ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ মে পর্যন্ত মেয়াদকে দীর্ঘমেয়াদ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে ভারত থেকে ৬৪০  মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। যার মধ্যে ৫৪০ মেগাওয়াট পশ্চিমবঙ্গ  থেকে ভেরামারা দিয়ে। আর বাকি ১০০ মেগাওয়াট ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা দিয়ে। ২০১৩ সালে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়। ২০১৩ সালে ভারত থেকে প্রথমবারের মতো কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা দিয়ে ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছিল।
পরে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি ভেড়ামারা আন্তঃসংযোগ গ্রিডের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয় ও প্রকল্প প্রহণ করে। প্রকল্পটির নাম রাখা হয় ‘৫০০ মেগাওয়াট এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক কনভার্ট ইউনিট-২’। প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল যেন নতুন করে আরও ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা যায়। এ সময় বাংলাদেশ সরকার সাব-স্টেশন নির্মাণে আন্তজাতিক দরপত্র আহ্বান করে। ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ ৪০৪ দশমিক ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সাবস্টেশন নিমার্ণ প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। পরে ২০১৬ সালে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৮৭৭ দশমিক ৯২ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয় তিন বছর। ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত তিন বছরের আগেই কাজ শেষ হয়ে যায়। এই সাব-স্টেশনের সঙ্গে ভেড়ামারা-ইশ্বরদী ২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ক্রমান্বয়ে ভারত থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, এনভিভিএন (ইন্ডিয়া) থেকে স্বল্প মেয়াদে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৭১ পয়সা দামে প্রতিদিন ৩০০ মেগাওয়াট ও পিটিসি ইন্ডিয়া থেকে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৮৬ পয়সা দামে প্রতিদিন ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। তবে, দীর্ঘ মেয়াদে এনভিভিএন প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা মূল্যে ৩০০ মেগাওয়াট ও পিটিসি থেকে প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৫৪ পয়সা মূল্যে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ