ঢাকা, সোমবার 10 September 2018, ২৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিএনপি আমলে আমাদের অনেক এমপি নির্যাতিত হয়েছেন -শেখ হাসিনা

সংসদ রিপোর্টার: বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগের অনেক সংসদ সদস্য নির্যাতিন হয়েছেন বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় অনেক নেতাকর্মীকে অত্যাচার নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ক্লিনহার্ট অপারেশনের নামে দেড়শ’ মানুষকে হত্যা করা হয়, এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ছিলেন। এখানে অনেক সংসদ সদস্য রয়েছেন যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
বিরোধী দলের হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও সরকারি দলের সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুতে গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অনেক দক্ষ দু’জন সংসদ সদস্যকে হারিয়েছি। এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা একজন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ছিলেন। তিনি একজন প্রাণবন্ত মানুষ ছিলেন। তাকে হারিয়ে দলের অনেক ক্ষতি হয়েছে, যা আর পূরণ হবার নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাজুল ইসলাম চৌধুরীর বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। তিনি মনে প্রাণে চেয়েছিলেন নির্বাচনটা যাতে হয়। এই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে তার আন্তরিকতা ছিল। ওই নির্বাচনটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল।
বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ বলেন, তাজুল ইসলাম ও মোস্তফা রশিদী সুজা এত তাড়াতাড়ি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন এটা আমরা মনে করিনি। তারপরও প্রকৃতির নিয়ম, আমাদের মেনে নিতেই হবে।
তিনি বলেন, তাজুল ইসলাম একজন ভালো পার্লামেন্টিরিয়ান ছিলেন। তিনি সংসদে থাকলে আমাকে আর চিন্তা করতে হত না। তাজুল ইসলামের শূন্যতা কখনও পূরণ হবার নয়।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, মোস্তফা রশিদী সুজা একজন সাহসী মানুষ ছিলেন। তার সাহসী ভূমিকার ফলে খুলনা আওয়ামী লীগ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। ক্লিন হার্ট অপারেশনে তার ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে এজন্য তার অকাল মৃত্যু হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও মোস্তফা রশিদী সুজা দু’জনই সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ ছিলেন। তারা দু’জনই বিনয়ী ও ভালো মানুষ ছিলেন।
তিনি বলেন, তাজুুল ইসলাম একজন চমৎকার সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষ ছিলেন। দু’জনই বিনয়ী, সদালাপী মানুষ ছিলেন।
সরকারি দলের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, সুজা জীবনে অনেক অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে দলের প্রতি আনুগত্য ছিলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর একজন আদর্শিক কর্মী ছিলেন। শুধু রাজনীতিই নয়, তিনি একজন ভালো ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন। সত্য ও ন্যায়ের জন্য তিনি কখনও মাথানত করতেন না।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ও বিএনপি-জামায়াত তার মতো জনপ্রিয় নেতাকে নির্যাতন করে হত্যা করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিল।
সেলিম বলেন, তাজুল ইসলাম ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক মানুষ। তিনিও ন্যায়ের জন্য সারাজীবন লড়াই করেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, তার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ক্লিনহার্ট অপারেশনের নামে তার ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে এর ফলে তার কিডনি, লিভারসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অকেজো হয়ে অকাল মৃত্যু হয়েছে। এই ক্লিনহার্ট অপারেশনকে বিএনপি জামায়াতের সময় ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছে।
জাতীয় পার্টির সদস্য এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, তাজুল ইসলাম একজন সংগ্রামী নেতা ছিলেন। ছাত্র জীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। অনেক দুঃসময়ে তিনি দলের প্রতি আনুগত্য ছিলেন। তাজুল ইসলাম একজন সদালাপী মানুষ ছিলেন। তিনি এমন একজন নেতা ছিলেন যার কাছে না বলতে কিছৃু ছিল না। তার কাছে যে কোনো কাজে গেলে হাসি মুখে তা করে দিতেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা. সরকারি দলের সদস্য মীর শওকত আলী বাদশা, আব্দুস সালাম মোর্শেদী, মনিরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, নুরুল ইসলাম উমর, ফখরুল ইমাম আলোচনায় অংশ নেন। পরে সর্বসম্মতভাবে সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহিত হয়।
যাদের নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে তারা হলেন, এস, এম মোস্তফা রশিদী, দশম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য, সাবেক হুইপ, মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, দশম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী কল্পরঞ্জন চাকমা, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মোজাফফর হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ শরীফ খসরুজ্জামান, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুর রউফ মিয়া, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলে এলাহী, সাবেক সংসদ সদস্য আলফাজ উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মান্নান ম-ল এবং সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারা হাবীব।
এছাড়া খ্যাতিমান সাংবাদিক সমকাল পত্রিকার সম্পাদক গোলাম সারওয়ার সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. আয়ুব বখত জগলুল, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক এএইচএম মোয়াজ্জেম হোসেন, মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন, ভাষা সংগ্রামী হালিমা খাতুন, ভাষা সৈনিক আব্দুল বাতেন, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নৃত্যগুরু বজলার রহমান বাদল, ডেইলি অবজারভারের নির্বাহী সম্পাদক আনিস আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক মেজর (অব.) কামরুল হাসান ভূইয়া, ‘একাত্তরের জননী’ খ্যাত লেখক রমা চৌধুরী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি মোস্তাক হোসেন, দক্ষিণ সুদানে গুলীতে নিহত বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশরাফ সিদ্দিকী, বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া আক্তার মিম ও আব্দুল করিম, মুজিবনগর সরকারের গার্ড অব অনার প্রদানকারী আনসার সদস্য লিয়াকত আলী, ইটিভির সিনিয়র সাংবাদিক মামুনুর রশিদ এবং প্রখ্যাত অভিনেত্রী রানী সরকারের মৃত্যুতে সংসদে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের কেরালায় ভয়াবহ বন্যা, ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণেও সংসদের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
শোক প্রস্তাবে মৃত্যুবরণকারী সকলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।
পরে মৃত্যুবরণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তাদের আত্মার শান্তি এবং মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সরকারি দলের সদস্য বজলুল হক হারুন।
এর পর সংসদের রীতি অনুযায়ী দিনের অন্যান্য কর্মসূচী স্থগিত করে অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ