ঢাকা, সোমবার 10 September 2018, ২৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে জমিদার বাড়িগুলো প্রবাভশালীদের দখলে

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : রাউতারা জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ

এম,এ,জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে জমিদারী শাসনের নানা স্মৃতি। রাউতারা রাজা রাধেক বাবুর আর পোতাজিয়ার জমিদার নির্মল চক্রবর্তি, পাড়কোলার জমিদার অসীম চাকী, পোরজনার জমিদার মুকুন্দ্রনাথ এর জমিদারী স্মৃতি আজও কালের সাক্ষি হয়ে আছে। এক সময়ের দুর্দান্ত প্রতাপশালী এই সব জমিদাররা তাদের জমিদারী এলাকায় নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করে দাপটের সাথে নিজেদের জমিদারী পরিচালনা করে আসলেও সময়ের বির্বতনে সে সব জমিদারী কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। এসব প্রজাদের প্রতি জমিদাররা বৈষম্যমূলক আচারণ, নিপীড়ন চালাত। জমিদার বাবুদের দাপটে প্রজা সাধারণরা অসহায় জীবন যাপন করত। জমিদাররা বিলাস বহুল জীবন যাপন করত। জমিদারবাড়ী গুলো সে সময়ের সবচেয়ে আকর্ষনীয় স্থাপত্যশৈলীর মধ্যে অন্যতম ছিল। জমিদার বাড়ীগুলোর ভবনের কারুকার্য সবাইকে মুগ্ধ করে। জমিদারদের অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতপ্রজা বিদ্রোহ শুরু হলে এবং ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মূলত প্রভাবশালী জমিদাররা তাদের জমিদারী গুটিয়ে পাড়ি জমায় ভারতে। তারপর থেকেই জমিদার বাড়ী গুলোর ভবন আর সম্পত্তি দখলে চলে যায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের। বর্তমানে শাহজাদপুর উপজেলার রাউতারা, পোতাজিয়া, পোরজনা, পাড়কোলা ও শাহজাদপুরের কয়েকটি স্থানে জমিদার বাড়ীর ধ্বংসাবশেষ লক্ষ করা যায়। বিলাস বহুল জমিদার বাড়ীর জানালা, দরজা, সহ মূল্যবান জিনিস পত্র খোয়া গেছে অনেক আগেই্। সরে জমিনে ঘুরে জমিদার বাড়ীর বেহাল দশা লক্ষ্য করা গেছে। ভবনের ভিতরের দেয়াল খসে পরেছে, ইট, সিমেন্ট, পাখর চুন, সুড়কি সিমেন্ট ঢালাই ধসে শ্যাওলা জমে জরাজীর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। জমিদার বাড়ী গুলোর পাশ্ববর্তী বাসিন্দারা জানায়, জমিদাররা অবৈধভাবে প্রজাদের উপর জুূলুম নির্যাতন চালাত বিশেষ করে মুসলমান প্রজারাছিল তাদের সবচেয়ে বৈষম্য আর নীপিড়নের শিকার। তাই উপমহাদেশ থেকে এ দেশ পাকিস্তান হওয়ার পর নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। আর তখন থেকেই অযত্ন অবহেলায় জমিদার বাড়ী ধ্বংসস্তুপে পরিণিত হতে থাকে। অনেক জমিদার বাড়ীই এখন ভূতড়ে বাড়ী হিসেবে পরিচিত। আবার কোন কোন জমিদারী ভবন গরু ছাগলের আখড়ায় পরিণিত। কোথাও আবার বিভিন্ন সরকারী অফিস কার্যক্রম চলছে। এক সময়ের রাজা , প্রজা আর জমিদারদের শাসন কার্যে মুখরিত জমিদার বাড়ী গুলো এখন শুধূই স্মৃতি। অযত্ন অবহেলা আর রক্ষনা বেক্ষনের অভাবে তা হারিয়ে যেতে বসছে ইতিহাস থেকে।
তবে এসব জমিদার বাড়ী গুলো রক্ষনাবেক্ষন করে সংস্কার করা হলে পর্যটন আকর্ষণ বাড়াতে পারবে। আর এতে সরকারও পেতে পারে রাজস্ব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ