ঢাকা, সোমবার 10 September 2018, ২৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জ্বীনের বাদশা জানে না সাংবাদিক আসবে

জ্বীনের বাদশা মো. আমিনুল ইসলাম

গৌরীপুর ময়মনসিংহ থেকে শেখ বিপ্লব : জ্বীন আর কালী দিয়ে সকল রোগের চিকিৎসার নামে একটি দালালচক্র অপ্রাপ্ত বয়স্ক মাদরাসার ছাত্রকে জ্বিনের বাদশা সাজিয়ে এলাকায় বিক্রি করছে মাদক, রোগ সারানোর নামে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বিসকা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গুনজর আলীর এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সরেজমিনে গেলে, কাঁচামাল বিক্রেতা মোঃ নুরুল ইসলামের ছেলে জ্বীনের বাদশা মোঃ আমিনুল ইসলাম (১৪) তার নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় ছোট্ট একটি ঘরে লালশালু কাপড় দিয়ে চারপাশ মোড়ানো ভিতরে দান বাক্স, একটি মাটির তৈরি ডিবায় মোমবাতি,আগর বাতি জালানো অপ্রাপ্ত বয়স্ক জ্বীনের বাদশা খালি গায়ে তপসায় মগ্ন। বাড়ির চারপাশে শতাধিক লোকের জমায়েত আর কিছু স্থানীয় দালাল ও গাজা সেবনকারীরা ঘুরছে। পার্শ্ববর্তী গ্রাম গুলো থেকে আসা কিছু মহিলাদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, বেশ কয়েক দিন যাবত শুনছি আজ আসছি এখনো ওনার সাথে দেখা হয়নি অপেক্ষায় আছি। এলাকাবাসী জানায়, যত সব অদ্ভোত চিকিৎসা করা হয় এখানে রোগিকে লংকা পুড়ে তার ধূয়ার উপর চেপে ধরে রাখা, লাঠি পিটা, ঝাড়ু পিটা ও বিভিন্ন ছেকাসহ ঝাড়ফুক, তাবিজ কবজ দেয়া হয়। দিনরাত চলে গাজা সেবিদের আড্ডা, ঢাকডুল পিটিয়ে গান আর মহিলাদের উন্মাদ নগ্ন নৃত্য। জ্বীনের বাদশার সাথে দেখার করা চেষ্টার এক পর্যায়ে তিনি বাহিরে আসেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষীপ্ত হয়ে বলেন আমাকে তো জ্বীন বলেনি, আজ সাংবাদিক আসবে। আর রোগ বালাইয়ের কথা জানতে চাইলে তিনে বলেন সকল রোগের চিকিৎসা করেন জ্বীন আর মা কালী দিয়ে। তিনি আরো বলেন গেল রমজানে স্বপ্নে প্রাপ্ত হই এ সব কিছুই। এখানে কোন অশ্লীল নাচ হয় না তবে বিভিন্ন মাজারের পাগলরা আসে মাঝে মাঝে। এলাকাবাসী আরো জানায়, আমিনুল ইসলাম জ্বীনের বাদশা হওয়ার পর এ গ্রাম থেকে মৃত মনির উদ্দিন সরকারের ছেলে মৃত আমির সুলতান (১১৪) ও সাবান আলী (৯০) এর দুটি লাশ করব থেকে লাশ চুরির ঘটনা ঘঠে। তার বড় ভাই জিয়াদুল ইসলাম (২২) ময়মনসিংহ শহরে অটো রিক্সা চালায় বাড়ী ফিরে গভির রাতে। জ্বীনের বাদশার বাবা ও বড় ভাই এক সাথে বসে গাজা সেবন আর বিক্রি করে। কেউ কিছু বললে তাকে কুপাতে যায়। জ্বীনের বাদশা সকল অভিযোগ তুরিতেই উড়িয়ে দেয়। লাশ গায়েবের কথাও জ্বীনের বাদশা কিছু জানে না বলেন। এ ব্যাপারে তারাকান্দা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মাহাবুবুল হকের সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ