ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশে মানসিক রোগির সংখ্যা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

পুলিশের দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে ২০১৭ সালে আত্মহত্যার মামলা হয়েছে সাড়ে ১৩ হাজারের মতো।অথচ ২০১৬ সালে তা ছিল তিন হাজার বেশি। কত লোক তার চেষ্টা করেছেন সেই বিষয়ক তথ্য পাওয়া যায়নি।অর্থাৎ- এক বছরে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে চার গুণেরও বেশি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আত্মহত্যায় মৃত্যুর সংখ্যা সড়ক দুর্ঘটনার চেয়েও বেশি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রচুর মনোযোগ ও সরকারি তহবিল পায় এমন রোগে মৃত্যুর চেয়েও আত্মহত্যায় মৃত্যুর সংখ্যা বহুগুন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের দেয়া তথ্য মতে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ বা প্রায় ৫ কোটি মানুষ কোন না কোন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। এই তথ্য ২০১৬ সালের।

কিন্তু বাংলাদেশে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছে আড়াইশোর একটু বেশি।

আর মানসিক রোগীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল মাত্র দুটি।বড় সরকারি হাসপাতালের কয়েকটিতে অল্পকিছু ব্যবস্থা রয়েছে।কিছু বেসরকারি কেন্দ্র রয়েছে যা মাদকাসক্তির ও মনোরোগের চিকিৎসা একসাথে করে।

আলাদা করে থেরাপিস্ট বা কাউন্সেলর এদেশে নেই বললেই চলে। মনোরোগ চিকিৎসকেরাই ঔষধও দেন আবার কাউন্সেলিং- এর চেষ্টা করেন।

এই অপ্রতুল চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণ কি? এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের মনোবিজ্ঞানী ডাঃ মেখালা সরকার বলছেন, "যখন এমবিবিএস পড়ে তখন স্টুডেন্টরা ঠিক করে নেয় কোন সাবজেক্টে যাবে। যে সাবজেক্টের গুরুত্ব বেশি সেটার দিকেই তাদের ঝোঁক বেশি। আমাদের দেশে প্রচুর জনসংখ্যা, আমাদের রিসোর্স খুব সীমিত। সেই প্রভাবতো সব সেক্টরেই পড়বে। বিশেষায়িত ডাক্তারতো এমনিতে সবক্ষেত্রেই কম"।

তিনি বলছেন, মনোবিজ্ঞানী বা মনোরোগ চিকিৎসক হতে গেলে বাংলাদেশে পড়াশুনা করার জায়গাও খুব সীমিত।কিন্তু সেই তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।

আত্মহত্যার প্রবণতায় ভোগা মানুষদের জন্য কোন হেল্পলাইন নেই।

মানসিক চিকিৎসার ব্যাপারে যথেষ্ট সরকারী সহায়তা এদেশে কেন গড়ে উঠছে না?

এ ব্যাপারে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলছেন, "সাধারণত বাংলাদেশের মতো দেশে সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ বেশি থাকে। আমরা সংক্রমণ রোগ নিরসনের জন্য হাসপাতালভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব বেশি দিয়েছি। আমরা মানসিক রোগকে আগে এতটা গুরুত্ব দেইনি।"

কিন্তু সেটি পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানালেন, "আমরা এখন যেটা করছি, সারা দেশে যত চিকিৎসক আছেন, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী আছেন, তাদেরকে আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। যারা কাউন্সেলিং দেয়া, বিশেষ করে সনাক্ত করা ও রেফার করার কাজটি করতে পারবেন।"

একটি জরুরী হেল্প লাইনেরও চিন্তা চলছে বলে জানালেন তিনি। বাংলাদেশেই ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্যসেবায় ১৬২৬৩ হেল্প-লাইন রয়েছে সেখানে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য আলাদা বাটন সংযুক্ত করা যায় কিনা সেটির চিন্তা চলছে বলে জানিয়েছেন ডাঃ আজাদ।

বিশ্বের অনেক দেশে সরকারিভাবে আত্মহত্যা প্রবণতায় ভোগা মানুষদের জন্য রয়েছে জরুরী হেল্পলাইনসহ নানা ধরনের সেবা।

বাংলাদেশে মানসিক রোগীকে প্রায়শই চেইন দিয়ে বেধে রাখা হয়

ডাঃ মেখালা সরকার বলছেন, "একটা হেল্প লাইন খুবই জরুরী। কারণ যখনই আত্মহত্যার মতো একটা চিন্তা মাথায় আসে। সেক্ষেত্রে কিন্তু অনেকে একটা শেষ উপায় খোঁজে। সেই সাহায্যের শেষ জায়গাগুলো খোঁজে। কোথাও ফোন করলে সেখানে কথা বলতে পারলে তা সুইসাইড প্রিভেনশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে"

বাংলাদেশে এমন কিছু নেই। খুব সীমিত আকারে 'কান পেতে রই' নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি মানসিক সহায়তার হেল্পলাইন তৈরি করেছে।

নিজের পরিবারে এমন ঘটনার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের উদ্যোগেও কিছু ব্যবস্থা গড়ে উঠছে।

কিছু ফেসবুক গ্রুপও রয়েছে। কিন্তু এই সব উদ্যোগ সমস্যার তুলনায় খুবই সীমিত।

বাংলাদেশে আত্মহত্যা ও মানসিক রোগীদের সম্পর্কে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও খুব নেতিবাচক।

এমন পরিস্থিতিতে খুব অল্প কজনই নিজেকে সামলানোর নানা কায়দা নিজেই তৈরি করে নিচ্ছেন।

কিন্তু যারা তা পারছেন না তারা কোন না সময় নিজের জীবন শেষ করে দেয়ার চেষ্টা করছেন। হাজার হাজার লোক তাতে সফলও হচ্ছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ