ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ৯০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে ২০৪১ সালের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ৯০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

বহরমপুর-ভেড়ামাড়া আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সোমবার বিকালে গণভবন থেকে শেখ হাসিনা এবং নয়াদিল্লি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যৎ সংযোগ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ‘আগরতলা-আখাউড়া ডুয়েল গেজ রেল সংযোগ নির্মাণের বাংলাদেশ অংশ’ প্রকল্প এবং  বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন’ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন।

কলকাতা থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং আগরতলা থেকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন।

শেখ হাসিনা বলেন, উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশের আরো শক্তি প্রয়োজন। সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করার পরিকল্পনা করছে।

এক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশা করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আশা করছেন, বাংলাদেশে আরো এক হাজার বিদ্যুৎ সরবরাহে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন নরেন্দ্র মোদি।

‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর কাছে একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। কারণ বছরের পর বছর ধরে দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং ভালোবাসা অটুট রয়েছে,’ উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনগণের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে দু'দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। উভয়পক্ষই ব্লু ইকোনমি ও সামুদ্রিক সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ গবেষণা এবং অন্যান্য নতুন নতুন ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশ ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে। আরো তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গত সাড়ে নয় বছরে ৩,২০০ মেগাওয়াট থেকে ২০০০০ মেগাওয়াটের বেশি বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার আরো ১৩,৬৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৫৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে।

রেল খাতে সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ খাতে উভয় দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্গো পরিবহনের জন্য প্রাক-১৯৬৫ রেল সংযোগ পুনরায় চালু করার কাজ করছে দু’দেশ।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, উভয় দেশ শিগগিরই যৌথভাবে ঢাকা ও টঙ্গীর মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ দ্বৈত গেজ রেল ট্র্যাক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবে। ভারতের অর্থায়নে লাইন অফ ক্রেডিটের মাধ্যমে পরিচালিত টঙ্গী ও জয়দেবপুরের মধ্যে দ্বৈত গেজ ট্র্যাকের পরিমাণ দ্বিগুণ করবে।

আগামীতে উভয় দেশ আরো যৌথ উদ্যোগের অনুষ্ঠানে যোগ দেবে বলে আশা করেন শেখ হাসিনা।

নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশকে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধনকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সুবর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।

সেই সাথে আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন সহযোগিতার একটি নিদর্শন বলেন তিনি।

নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৬৫’র বেশি রেলপথ পুনর্বহালে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রশংসা করেন।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে তার দেশ একটি গর্বিত অংশীদার হতে চায়।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

রেলমন্ত্রী মজিবুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ড. গওহর রিজভী এবং ড. তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার ওপর একটি ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।-ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ