ঢাকা, মঙ্গলবার 11 September 2018, ২৭ ভাদ্র ১৪২৫, ৩০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

১০ সেপ্টেম্বর, রয়টার্স : নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন এ ঘোষণা দেবেন। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করলে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

১৯৯৭ সালের ১৭ জুলাই রোম স্ট্যাচু গৃহীত হয়। এ নীতিমালা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে রোম স্ট্যাচু কার্যকর করতে ১২০টি দেশের স্বীকৃতির প্রয়োজন ছিল। ১২০ দেশের স্বীকৃতির পর ২০০২ সালের ১ জুলাই থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার কার্যক্রম শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র এ আদালতকে স্বীকৃতি দেয়নি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন রোম নীতিমালায় স্বাক্ষর করলেও প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ তা প্রত্যাহার করে নেন। এই আদালত সাধারণত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের অভিযুক্ত করে থাকে। সোমবার ওয়াশিংটনে রক্ষণশীল গোষ্ঠী  ফেডারেলিস্ট সোসাইটিতে বক্তব্য রাখবেন ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। হোয়াইট হাউসে যোগদানের পর এটাই তার প্রথম বড় ধরনের বক্তৃতা। এরইমধ্যে বোল্টনের বক্তব্যের খসড়া লিপি হাতে পাওয়ার দাবি করেছে রয়টার্স। এর ভিত্তিতে রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবারের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান ঘোষণা করবেন বোল্টন।

বক্তব্যের খসড়ায় লেখা হয়েছে, ‘আমাদের দেশের নাগরিক ও আমাদের মিত্রদেরকে এ অবৈধ আদালতের অন্যায্য বিচার থেকে সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’ বোল্টন তার বক্তব্যে, ওয়াশিংটনে অবস্থিত প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়ারও ঘোষণা দেবেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করতে ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এ ঘোষণা দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে পিএরও’র ওয়াশিংটন কার্যালয়ের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। বোল্টন তার বক্তব্যে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু ও মিত্র হিসেবে উল্লেখ করবেন এবং দেশটির পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করবেন।

 বোল্টনের বক্তব্যের খসড়া থেকে আরও জানা গেছে, আফগানিস্তান যুদ্ধে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগ নিয়ে অপরাধ আদালত যদি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে তবে ট্রাম্প প্রশাসন এর বিরুদ্ধে জবাব দেবে। এ ধরনের তদন্ত শুরু হলে, বিচারপতি ও প্রসিকিউটরদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ওই বিচারপতি ও প্রসিকিউটরদের আর্থিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তাদের বিচার করা হতে পারে।

বোল্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মৃত। বক্তব্যে তিনি বলবেন, ‘আমরা আইসিসিকে সহযোগিতা দেব না। আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগ দেব না। আইসিসিকে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হবে। তাদের সকল অভিপ্রায় ও উদ্দেশ্যের জন্য আইসিসি আমাদের কাছে এখনই মৃত।’

উল্লেখ্য, নাইন ইলেভেনের হামলার পর ২০০১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযান শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ অভিযান শেষ হয় ২০১৪ সালে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী এখনও আফগান সেনাদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ