ঢাকা, মঙ্গলবার 11 September 2018, ২৭ ভাদ্র ১৪২৫, ৩০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জরিমানা দিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন মালয়েশিয়ায় অবৈধরা

সংসদ রিপোর্টার : প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বি.এসসি বলেছেন, মালেয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত কর্মীরা আর্থিক জরিমানা দিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন
গতকাল সোমববার জাতীয় সংসদে মো: শফিকুল ইসলাম শিমুলের (নাটোর-২) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এর আগে বিকাল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে মালয়েশিয়া সফরকালে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করার জন্য সে দেশের সরকারের কাছে অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রি-হায়ারিং প্রোগ্রাম চালু করে। যার মেয়াদ ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়। একই সাথে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। যেখানে বলা হয়, যারা অবৈধভাবে আছে তাদের কোন প্রকার শারীরিক শাস্তি ব্যতিত শুধু আর্থিক জরিমানা দিয়ে তারা দেশে ফিরতে পারবেন।
মন্ত্রী বলেন, বৈধ হওয়ার জন্য রিহায়ারিং কর্মসূচিতে নাম নিবন্ধকারী কর্মী/শ্রমিকদের ভিসা প্রাপ্তির কার্যক্রম চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে। এর মাধ্যমে ভিসা গ্রহণ করে তারা বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবেন।
বিদেশগামী কর্মীদের হয়রানি ও প্রতারণার হাত থেকে রক্ষার বিষয়ে তৎপরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মীদের বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করা হলে কর্মসংস্থান ও অভিবসী আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধের ধরণ ও মাত্রাভেদে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট ভিজিলেন্স টাস্কফোর্স নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্টসমূহের কার্যক্রম নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বলেও জানান মন্ত্রী।
কোন দেশে যেতে কত খরচ
বিশ্বের ১৬টি দেশে কাজ করার জন্য যেতে কত টাকা করে খরচ হবে তা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সরকারি দলের মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম এ-সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসনে সিঙ্গাপুরে (প্রশিক্ষণসহ) দুই লাখ ৬২ হাজার ২৭০ টাকা, সৌদি আরবে একলাখ ৬৫ হাজার টাকা, মালয়েশিয়ায় একলাখ ৬০ হাজার টাকা, লিবিয়ায় একলাখ ৪৫ হাজার ৭৮০ টাকা, বাহরাইনে ৯৭ হাজার ৭৮০ টাকা, সংযুক্ত আরব আমিরাতে একলাখ সাত হাজার ৭৮০ টাকা, কুয়েতে একলাখ ছয় হাজার ৭৮০ টাকা, ওমানে একলাখ ৭৮০ টাকা, ইরাকে একলাখ ২৯ হাজার ৫৪০ টাকা, কাতারে একলাখ ৭৮০ টাকা, জর্ডানে একলাখ দুই হাজার ৭৮০ টাকা, মিশরে একলাখ ২০ হাজার ৭৮০ টাকা, রাশিয়ায় একলাখ ৬৬ হাজার ৬৪০ টাকা, মালদ্বীপে একলাখ ১৫ হাজার ৭৮০ টাকা, ব্রুনাইয়ে একলাখ ২০ হাজার ৭৮০ টাকা ও লেবাননে একলাখ ১৭ হাজার ৭৮০ টাকা ব্যয় হবে।
নজরুল ইসলাম বাবুর প্রশ্নর জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সারাদেশে নিবন্ধন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে ৯ হাজার ৯৩৩ জনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। পরে ২০১৬ সালে অধিক হারে কর্মী পাঠাতে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘জিটুজি প্লাস’ সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর আওতায় এখন পর্যন্ত দুই লাখ ২৫ হাজার ৬০৬ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে।
গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ১৬৫টি দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। এ অর্থবছরে জুলাই ও আগস্ট মাসে সৌদি আরবে ২৭ হাজার ৮১১ জন এবং মালয়েশিয়ায় ৩৪ হাজার ৮৮১ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে।’
আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭ সালে সৌদি আরবে মোট পাঁচ লাখ ৫১ হাজার ৩০৮ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট একলাখ ৭২ হাজার ৩৭৯ জনকে পাঠানো হয়েছে।’
নুরজাহান বেগমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ১৯৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৬৫টি দেশে এককোটি ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ২০৬ জন কর্মী কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে গেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ