ঢাকা, মঙ্গলবার 11 September 2018, ২৭ ভাদ্র ১৪২৫, ৩০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ডাকাতিকালে খুনের ঘটনায় গাজীপুরে ৭ জনের ফাঁসির আদেশ

গাজীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুরে ডাকাতি কালে ব্যবাসায়ী মিলন ভূঁইয়াকে খুনের ঘটনায় ৭ জনকে ফাঁসির দন্ডাদেশ ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। রায়ে ওই মামলার অপর এক আসামীকে ৫ বছরের সশ্রম দন্ডাদেশ ও ১০হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদন্ডের রায় দেয়া হয়েছে।  সোমবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক একেএম এনামুল হক ওই রায় দিয়েছেন।
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী হলো গাজীপুরের কাপাসিয়ার তরগাও এলাকার জলিল মেম্বারের ছেলে রাজিব হোসেন ওরফে রাজু (২২),একই এলাকার মনতাজ উদ্দিন ওরফে মোন্তার ছেলে মোঃ শফিকুল ইসলাম ওরফে পারভেজ (২৬),গাজীপুর সদরের গজারিয়া পাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে মোঃ কাইয়ুম (২৫), কিশোরগজ্ঞের পাকুন্দিয়া থানার বুরুদিয়া এলাকার এমদাদুল হক ওরফে রেনু মিয়ার ছেলে মোঃ রাজিব হোসেন (২২), গাজীপুরের কাপাসিয়ার ধরপাড়া এলাকার মৃত আফছার উদ্দিনের ছেলে ফারুক হোসেন (২৫), জামালপুরের ইসলামপুর থানার পূর্ববালিয়াদহ এলাকার মৃত শহিদুজ্জামানের ছেলে মোঃ আলী হোসেন ওরফে হোসেন আলী (২৭), কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার সুকানদীঘি এলাকার মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী ওরফে ছোট আলী (২০)। এছাড়া ৫ বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামী হল কিশোরগজ্ঞের হোসেনপুর থানার শাহেদল এলাকার মোঃ আব্দুর রশিদের ছেলে মোঃ মাসুদ ওরফে মামা মাসুদ (৩২)।
গাজীপুরের পিপি আরিছ উদিাদন আহম্মদ ও কোট পরিদর্শক মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, গাজীপুর মহানগরের পশ্চিম লক্ষীপুরা এরাকার হাবিবুর রহমানেরর ছেলে মিলন ভূঁইয়া সেন্টারিংয়ের ব্যবসা করতো। গত ২০১১সালের ২৬ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ী মিলন ভূইয়া তার মামাতো ভাই শাহজানকে সঙ্গে নিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়ে শ্রীপুরের বাঘের বাজার থেকে ব্যসায়িক কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাড়ি ফিরছিল। এসময় গাজীপুর সদরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ৪নং গেইটের ২০০গজ পশ্চিমদিকে ১০/১২জন ডাকাত তাদের  গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে মিলন ভূইয়া মোটর সাইকেল চালিয়ে চলে যেতে চাইলে আসামীরা তাকে গজারি গাছের ডাল দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং মিলনের সঙ্গী শাহজাহানকে এসময় মারধোর করে। এসময় মিলনের টাকা,মোবাইল সেট, মোটর সাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে ডাকাতরা তাকে দাড়ালো অস্ত্রের আঘাতে খুন করে। কিশোর শাহজাহান ডাকাতদের হাতে পায়ে ধরে ওখান থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে এসে ঘটনা জানায়। বাড়ির লোকজন মিলনের মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় নিহতের মামা আকতার হোসেন পরদিন বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১০জনকে অভিযুক্ত করে ওই মামলার চার্জসিট আদালতে দাখিল করেন। গত ২০১৭সালের ১জুন আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ৪আসামীর স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী এবং ৮জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে দীর্ঘ শুনানির পর সোমবার ওই রায় দেন আদালত। এছাড়া ওই মামলার আসামী ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার বকশীপাড়া এলাকার রমজান আলীর ছেলে মোঃ এনামুল হক (২৮) ও কিশোরগজ্ঞের কটিয়াদি থানার আছমিতা এলাকার আঃ জব্বারের ছেলে শামছুল হকের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় ওই মামলা থেকে তাদের খালাস দেয়া হয়েছে। আসামীদের মধ্যে মোঃ রাজিব হোসেন, ফারুক হোসেন, মোঃ আলী হোসেন ওরফে হোসেন আলী পলাতক রয়েছে। রায় ঘোষণার সময় অপর আসামীরা আদালতের কাঠগরায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মো. হারিছ উদ্দিন আহম্মদ এবং আসামী পক্ষে মোহাম্মদ খালেদ হোসেন ও হাফিজুলালাহ দরজী সহ একাধিক আইনজীবী মামলা পরিচালনা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ