ঢাকা, মঙ্গলবার 11 September 2018, ২৭ ভাদ্র ১৪২৫, ৩০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এমপি পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে নির্যাতন দুর্নীতি মাদক লুটপাটসহ নানান সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ‘নির্যাতন-সন্ত্রাস-দুর্নীতি-মাদক প্রতিরোধ কমিটি বরিশাল-৪’ নামের সংগঠন।
বরিশাল-৪ আসনের ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, দুর্নীতি, এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক লুটপাট ও জমি দখলের অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের একাংশের নেতা-কর্মীরা।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনটির আয়োজন করা হয় ‘নির্যাতন-সন্ত্রাস-দুর্নীতি-মাদক প্রতিরোধ কমিটি বরিশাল-৪’ নামে। তবে এই কমিটির নামে সাংবাদিক সম্মেলন হলেও উপস্থিত যারা ছিলেন, তারা সবাই ওই এলাকার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইকবাল হোসেন মাতব্বর, স্থানীয় জয়নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সেকান্দার আলী, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য মাহে আলম ঢালী, হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলতাফ মাহমুদ, হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।
বরিশাল-৪ আসনটি মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা ও কাজিরহাট থানা নিয়ে গঠিত। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করেন প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব এবং মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। ছয় পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী কর্মকা-, সন্ত্রাসী কর্মকা-, নিয়োগ-বাণিজ্য, নির্বাচন-বাণিজ্য, কমিশন-বাণিজ্য, মাদক বিক্রয়, লুটপাট, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন, জাটকা নিধন-বাণিজ্য, দখল-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে আসছে সংসদ নির্বাচনে পঙ্কজ নাথকে মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, পঙ্কজ নাথের জনপ্রিয়তা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। তিনি প্রার্থী হলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। তাই পঙ্কজ নাথের পরিবর্তে যেকোনো যোগ্য ও আওয়ামী লীগ আদর্শে বিশ্বাসী একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের সদস্য সচিব ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সাগর বলেন, ‘পঙ্কজ দেবনাথের খবরদারি, জুলুম, অন্যায় ও অত্যাচারের কারণে এলাকায় দলের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। তার অপকর্মের জন্য এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভাবমূর্তি সংকট দেখা দিচ্ছে। শুধু তিনি একা নন, তার অনুপস্থিতিতে তার ছোট ভাই মনোজ নাথ, চাচাতো ভাই রামকৃষ্ণ নাথ, ভাগ্নে রিপন নাথের ইশারায় চলে প্রশাসনের অবৈধ বাণিজ্য ও লুটপাট। দলীয় কোনও নেতাকর্মী তার বিরুদ্ধে গেলেই প্রশাসনের দ্বারা মিথ্যা মামলা দায়ের এবং সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, ‘পঙ্কজ দেবনাথের নির্যাতন, সন্ত্রাসী হামলা ও মামলার ভয়ে অসংখ্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আজ এলাকাছাড়া। এলাকার যুব সমাজের হাতে তিনি মাদক ও অবৈধ অস্ত্র তুলে দিয়েছেন। পঙ্কজ দেবনাথের সঙ্গে মাদক ও চোরাচালানকারীদের সুসম্পর্কের কারণে মেহেন্দিগঞ্জের ইলিশা নদী দিয়ে কালীগঞ্জ রুটে মাদক দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করে।’
আনোয়ার হোসেন সাগর আরও বলেন, ‘পঙ্কজ দেবনাথ ১/১১-এর সময় শীর্ষ দুর্নীতিবাজ হিসেবে গ্রেফতার হন। বর্তমানে তার নির্বাচনি এলাকা বরিশাল-৪ আসনসহ রাজধানীর উত্তরা ও ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল বাড়ি, অভিজাত এলাকায় নামে-বেনামে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট ও গার্মেন্টস রয়েছে। ভারতেও তার একাধিক বাড়ি ও মার্কেট রয়েছে। তিনি হুন্ডি, মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দেশের বাইরে শত শত কোটি টাকা পাচার করেছেন।’
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০১৭ সালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৫ জন নৈশপ্রহরী কাম দফতরি অবৈধভাবে নিয়োগ দেয় পঙ্কজ দেবনাথ। এর জন্য প্রত্যেকের কাজ থেকে ৫-৭ লাখ টাকা নেন তিনি। এছাড়াও হাইস্কুল ও কলেজে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ডোনেশনের নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০-১৫ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেন এই এমপি।
আরও অভিযোগ করা হয়, পঙ্কজ দেবনাথ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নামে তার নিজস্ব সন্ত্রাসী ও ক্যাডার বাহিনী গঠন করে খেয়াঘাট, টেম্পো স্ট্যান্ড, জলাশয়, লঞ্চঘাট, হাট-বাজার, নদীর বালু, মাছের পাড়া, খাদ্য গোডাউন, ভূমি অফিস, ইটভাটা থেকে লাখ লাখ  টাকা লুটপাট করেছেন। তিনি সরকারি খাস জমি বরাদ্দের নামেও বাণিজ্য করেছেন। দখল বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের অসাংগঠনিক কার্যক্রম, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ও লুটপাটের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের আহ্বায়ক ও হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইকবাল মাতুব্বর বলেন, ‘আমাদের দাবি পঙ্কজ দেবনাথের এসব অপকর্ম ও দুর্নীতির যাতে সুষ্ঠু তদন্ত করা হয়। এছাড়াও এমন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে যাতে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া না হয়। তার এসব হরিলুটের অপরাধে তাকে বিচারের সম্মুখীন করারও দাবি জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ