ঢাকা, মঙ্গলবার 11 September 2018, ২৭ ভাদ্র ১৪২৫, ৩০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যাত্রীবন্ধু মোজাম্মেল হক চৌধুরীর মুক্তি দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: যাত্রীবন্ধু মোজাম্মেল হক চৌধুরীর মুক্তির দাবি জানিয়েছে-বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
গতকাল সোমবার জাতীয়  প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সামসুদ্দীন চৌধুরী এই তথ্য জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এড. সুলতানা কামাল, মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সহধর্মিনী রিজু আক্তার চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি খায়রুল আমিন, যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দীন আহেমদ, নির্বাহী সদস্য আমান উল্যাহ মাহফুজ, ঢাকা মহানগর যাত্রী কল্যাণ সমিতির সদস্য মনিরুজ্জামান, মো. ফারুকসহ আরও অনেকে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, যাত্রী স্বার্থ বিরোধী সড়ক পরিবহন আইন পাসের বিরুদ্ধে কথা বলায় মালিক-শ্রমিকদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে যাত্রী আন্দোলনের মহাসচিব বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব যাত্রীবন্ধু মোজাম্মেল হক চৌধুরী। মোজাম্মেল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে যাত্রী কল্যাণ সমিতি যাত্রীদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করে আসছিল। সকল মহল এ আন্দোলনকে নৈতিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন। সড়ক নিরাপত্তায় সরকার যাতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে সে জন্য সহায়ক শক্তি হিসেবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি কাজ করে।
এই সংগঠনের উদ্দেশ্য কাউকে দায়ী করা নয়, যাত্রী সাধারণের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ দেখিয়ে দেওয়া। দেশের ১৬ কোটি যাত্রীকে যারা জিম্মি করেছেন তারা গুটিকয়েক। এই অপশক্তি কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়ে ভুল বুঝিয়ে নিজেদের অপকর্ম, সড়কে নৈরাজ্য চালানোর জন্য মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। এই হুমকি-ধামকি তাকে যাত্রী অধিকার আন্দোলন থেকে বিরত করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির আজকের তারিখে পূর্বের নিধারিত কর্মসূচি ‘কার স্বার্থে সড়ক আইন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল মোজাম্মেল হক চৌধুরীর। কিন্তু কায়েমীস্বার্থে একটি গোষ্ঠীর প্রতিহিংসার শিকারে আজ তিনি কারাগারে। একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। দোষ তার একটাই তিনি সড়কে মানুষ হত্যার প্রতিবাদ করেন, সোচ্চার থাকেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি একটি নিবন্ধিত সংগঠন দাবি করে তিনি বলেন, এই সংগঠন যাত্রীর অধিকার, যাত্রী সচেতনতা নিয়ে কাজ করে।
তিনি জানান, প্রতিদিন রাস্তায় মৃত্যুর মিছিল অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। কয়েকদিন আগে বুলগেরিয়ায় ১৭ জন যাত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে সে দেশের ৩ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। অথচ এদেশে শত শত লোক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে, কোন জবাবদিহিতা নেই। মোজাম্মেল হক চৌধুরী সড়কে মানুষ হত্যার বিচার চায়। সড়কে অবৈধ গাড়ী, অবৈধ চালক, অবৈধ কর্মকান্ডের অবসান চায়। প্রতিনিয়ত যাত্রী হয়রানি, যাত্রী হত্যা, ভাড়া নৈরাজ্যের অবসান চায়। এটাই তার অপরাধ। বর্তমান অবস্থা এমন পর্যায়ে এসেছে, বাড়ি থেকে বের হয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কিনা এর নিশ্চয়তাই নেই, এর একমাত্র কারণ সড়কে নৈরাজ্য।
এ সময় মোজাম্মেল হক চৌধুরীর স্ত্রী বিজু আক্তার চৌধুরী বলেন, 'আমি এখন কোনো কথা বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই। শুধু প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ যেন আমার স্বামীকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেয়া হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতি সব যাত্রীর পক্ষ থেকে শুধু এটুকুই বলেছে যে রাস্তায় বের হলে যেন তারা নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেন। এমন নিরীহ একটি সংগঠনের নেতাকে যদি রিমান্ডে নেয়ার মতো ঘটনা ঘটে হবে হতবাক হতে হয়। অথচ সব ক্ষেত্রে শোনানো হচ্ছে সরকার গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখছে, তাদের উন্নয়নের কোনো তুলনা নেই।
তিনি বলেন, 'এমন উন্নয়ন হচ্ছে যে, রাস্তায় প্রতিদিন ১০ জনের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। উন্নয়নের নানা ক্ষেত্র আছে, কিন্তু সব জায়গায় মানুষের সব সময় সম্পৃক্ত হতে হয় না। কিন্তু মানুষকে প্রতিদিন পথে নামতে হয়, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হয়। এটি মৌলিক অগ্রাধিকারের জায়গা। রাষ্ট্র যদি সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে না পারে তবে আমরা কথা বলবো না? আমরা সোচ্চার হবো না?' তিনি মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে মানবাধিকারকর্মী হিসেবে উপস্থাপন করে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, মোজাম্মেল হক চৌধুরী যেসব তথ্য উপস্থাপন করতেন, তাতে সড়কের নৈরাজ্য প্রায়ই উন্মোচিত হতো। কয়েক বছর ধরে তিনি যে কাজ করে যাচ্ছিলেন, তাতে তিনি তো প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু এ বিষয়গুলোও সরকার সহ্য করতে পারছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ