ঢাকা, মঙ্গলবার 11 September 2018, ২৭ ভাদ্র ১৪২৫, ৩০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

‘জালিয়াতি করে’ ফাঁসলেন নিরীক্ষক

স্টাফ রিপোর্টার : স্থানীয় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো ফেঁসে যাচ্ছেন পূর্ত বিভাগের অডিট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা। ছয় বছর আগে ঝালকাঠির ছয়টি সড়ক মেরামতের কাজ যথাযথ হওয়ার পরও জালিয়াতি করে নিরীক্ষা প্রতিবেদন দেওয়ায় অডিট কর্মকর্তা মো. শামসুল হকের বিরুদ্ধে রোববার মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। শামসুল হক বর্তমানে ঢাকায় হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে সিএও-আইএমইডি’র প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, “২০১১-২০১২ অর্থবছরে ঝালকাঠি সড়ক বিভাগের অধীনে ছয়টি সড়ক মেরামতের কাজ শেষে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়। এসব কাজ যথানিয়মে সম্পন্ন করা হয় এবং যথাসময়ে কাজ গ্রহণ করে চলতি ও চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হয়।”পরে সড়কগুলোর মেরামত কাজের নিরীক্ষা করার জন্য ঢাকা পূর্ত অডিট অধিদপ্তর থেকে শামসুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল ঝালকাঠিতে গিয়ে নিরীক্ষা করেন।
দুদকের অনুসন্ধানের কথা জানিয়ে প্রণব বলেন, “শামসুল হক নিরীক্ষাকালে সড়ক মেরামত কাজের জন্য ষ্ট্যাম্প ক্রয়ের তারিখ পাঁচের পূর্বে দুই বসিয়ে ২৫ বানিয়ে এবং সাতের পূর্বে দুই বসিয়ে ২৭ তারিখ বানিয়ে নিরীক্ষা শেষে ঢাকায় ফিরেন।“এরপর তিনি এসব কাজের বিপরীতে অবাস্তব ষ্ট্যাম্প ক্রয় ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর এবং অবাস্তব কাজ দেখিয়ে সরকারের ৬৫ লাখ ৯২ হাজার ৯৯৭ টাকা আর্থিক অনিয়ম বা আর্থিক ক্ষতির বিষয় উল্লেখ করে স্বাক্ষরবিহীন নিরীক্ষা প্রতিবেদন পূর্ত অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় দাখিল করেন।”
প্রণব বলেন, “শামসুল হক অসৎ উদ্দেশ্যে ও কারচুপির মাধ্যমে  স্ট্যাম্প কেনার তারিখ পরিবর্তন করে মনগড়া ও মিথ্যা নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করেন।”এ জন্য দন্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং ১৯৭৪ সালের ২ নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শামসুলের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি সদর থানায় শিগগির একটি মামলা করা হচ্ছে বলে জানান প্রনব।অভিযোগটি সমন্বিত বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবুল হাশেম কাজী অনুসন্ধান করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ