ঢাকা, মঙ্গলবার 11 September 2018, ২৭ ভাদ্র ১৪২৫, ৩০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় পিপাসা পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার সুপেয় পানির নামে দিচ্ছে ধোঁকা

খুলনা অফিস : বোতলজাত সুপেয় পানির নামে নগরীতে চলছে এক ধরনের ধোঁকা। পানির কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই বিএসটিআই’র গাইড লাইনে থাকা পানির মিনারেল কম্পোজিশন বোতলের গায়ে লিখছে এ কোম্পানিগুলো। আর এসব দেখে প্রতিনিয়তই হোঁচট খাচ্ছে নগরীর মানুষ। ‘পিপাসা’ পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার নামক প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, নিবন্ধনে জটিলতা এবং অতিরিক্ত টাকা না দেয়ায় তাদের নিবন্ধন দিচ্ছে না বিএসটিআই।
‘পিপাসা’ পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার। যাদের ফ্যাক্টরি পশ্চিম টুটপাড়া এবং ৯ খানজাহান আলী রোড, খুলনা। যার নেই বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন) অনুমোদন। পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত কেমিস্ট বা মাইক্রোবায়োলজিস্ট। তবুও মাসের পর মাস চলছে পানি ব্যবসা। বোতলের গায়ে রয়েছে মিনারেল কম্পোজিশন বা তাদের উৎপাদিত পানিতে কি কি উপাদান রয়েছে তার নাম এবং পরিমাণ। কিন্তু কিভাবে তারা এ তথ্য পেল। তাদের নেই কোনো পরীক্ষার প্রতিবেদন। তবুও তারা এ ধরনের তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে সাধারণ মানুষকে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বিএসটিআই থেকে এ ধরনের প্রতারণাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অপরাধের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে পানির মতো এমন একটি বিষয়ে কেন প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা বুঝি না। ভাল থাকার জন্য সুপেয় পানি টাকা দিয়ে কিনছি নাকি আমরা টাকা দিয়ে বিষ কিনছি।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আদিব জানান, বিএসটিআই’র নিবন্ধন নেই। বিএসটিআইতে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এ নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় রয়েছে জটিলতা এবং সেখানে গুণতে হয় অতিরিক্ত টাকা। আমি অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কোনোভাবে এ নিবন্ধন নেব না। ফলে এখনও আমার প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন হয়নি। আর যারা টাকা দিয়েছে তাদের কাজ আগেই হয়ে গেছে। বিএসটিআই’র গাইড লাইনে পানির মিনারেল কম্পোজিশনটি আমরা বোতলের গায়ে লিখেছি। আমাদের এর কোনো পরীক্ষা নেই।
বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন) পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, ড্রিংকিং ওয়াটার বা বোতলজাত পানির জন্য অবশ্যই বিএসটিআই থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তা না করে তাহলে সেটি বাজারজাত করেত পারবে না। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিএসটিআই’র নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হয়। এখানে কোনো ধরনের অতিরিক্ত টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের অপরাধের প্রমাণ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।
বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে, কোনো ড্রিংকিং ওয়াটার সাপ্লাইয়ের কারখানা করতে হলে তাকে ন্যূনতম ১১-১২টি শর্ত পূরণ করতে হয়। কিন্তু পিপাসা পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার প্রায় ১ বছর ধরে চললেও সে শর্ত এখনো পূরণ করতে পারিনি। আইনের আওতায় আসতে রয়েছে তাদের গড়িমসি। পানির জারের (বোতল) গায়ের স্টিকারে রয়েছে মিনারেল কম্পোজিশন চার্ট এবং আকর্ষণীয় ডিজাইন। তারপরও হরহামেশাই প্রশাসনের নাকের ডগায় বিক্রি হচ্ছে এ পানি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ