ঢাকা, মঙ্গলবার 11 September 2018, ২৭ ভাদ্র ১৪২৫, ৩০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিদেশী বিশেষজ্ঞনির্ভর শতবর্ষী ডেল্টা প্ল্যানের সুফল প্রাপ্তি নিয়ে সংশয়

# নেদারল্যান্ডসের আদলে ডেল্টা প্লান বাংলাদেশের জন্য বাস্তবসম্মত নয়
# ষাটের দশকে ভুল পরিকল্পনায় উপকূলীয় নদীগুলো মৃত্যুর প্রহর গুনছে
# বিদেশী বিশেষজ্ঞনির্ভর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার
স্টাফ রিপোর্টার : নেদারল্যান্ডের অভিজ্ঞতায় ১০০ বছরের ব-দ্বীপ বা ডেল্টা প্ল্যানের সুফল প্রাপ্তি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন দেশের বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, শেষ পর্যন্ত ডাচ টেকনোলজির উৎকর্ষে ড্যাম এন্ড ডাইক ভিত্তিক এই ল্যান্ড ক্লেইমের প্রকল্পই রাজনৈতিক উচ্চভিলাষ হয়ে উঠবে। তারা বলছেন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে রমরমা জমি ও আবাসন ব্যবসা হবে। কিন্তু সুন্দরবন, প্রাণবৈচিত্র্য, সেচ, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং উপকূলীয় অন্যান্য ব্যবস্থাপনা আর মূখ্য বিষয় থাকবে না। এছাড়া বাংলাদেশে রয়েছে সুশাসনের অভাব, পানি নিয়ে দুর্বল নীতি, নদী ও খাল খনন নিয়ে দুর্নীতি এবং অতিরিক্ত জনসংখ্যার সমস্যা।
পরামর্শ দিয়ে তারা বলছেন, দেশীয় ডেল্টা পরিকল্পনাবিদদের ঘন ঘন নেদারল্যান্ডস ভিজিট না করে বরং ডাচ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাসমূহে, পদ্মা-মেঘনা-যমুনার অববাহিকায় দীর্ঘ মেয়াদী পরিদর্শন করা দরকার, প্রয়োজন বাংলাদেশের নদীতে বিভিন্ন ঋতুতে পানিপ্রবাহ, বন্যা, নদী ভাঙন, খরা, সেচব্যবস্থা, বীজ এবং ফসলব্যবস্থা, কৃষি সাইকেল, উপকূলীয় কৃষি এবং মৎস্যভিত্তিক জীবনধারা নিবিড়ভাবে অনুধাবন করে পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসা। এই পরিকল্পনাকে সম্মিলিত পরিবেশ বিষয়ক জরিপ, অর্থনৈতিক জরিপ এবং কৃষি বিষয়ক জরিপের ফলের সঙ্গে নেদারল্যান্ডের প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করা।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে এনইসি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে নদী ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও ভূমি উদ্ধার। ২০১৪ সালে প্রকল্পটি সাজানোর কাজ শুরু হয়। প্রায় সাড়ে তিন বছরে পরিকল্পনাটির অনুমোদন পেল। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৮৮ কোটি টাকা। নেদারল্যান্ডের বাইরে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হয়েছে। ডেল্টা তহবিল গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ২০৩০ সাল নাগাদ প্রয়োজন হবে দুই লাখ ৯৭ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। শুক্রবার গণভবনে একটি অনুষ্ঠানে ডেল্টা প্লানের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
একশ’ বছরের এই ঐতিহাসিক পরিকল্পনাটি পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম গড়ে তুলেছেন। তিনি ব-দ্বীপ বা ডেল্টা প্লানের বিষয়ে বলেছেন, পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব হ্রাস করে জলবায়ু পরিবর্তন বিবেচনায় রেখে কৃষি, পানিসম্পদ, ভূমি, শিল্প, বনায়ন, মৎস্য সম্পদ প্রভৃতিকে গুরুত্ব প্রদানপূর্বক সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য একটি সমন্বিত দীর্ঘ মেয়াদি (৫০ থেকে ১০০ বছর) মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের কর্মকৌশল নির্ধারণ করা।
সরকারের এই প্লানে ত্রুটি থাকা এবং বাস্তবায়ন করার সম্ভাব্যতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, দেশীয় বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দেশের নদীগুলোকে প্রভাবশালীদের মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্র হিসেবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নদীগুলোকে রক্ষার উদ্যোগ না নিয়ে সরকার দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত নদীগুলোর জন্য আরেকটি মহাপরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে। দেশের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত না করে শুধু বিদেশী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ডেল্টা বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তা দেশের নদীগুলোর জন্য নতুন অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দেবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন এ বিষয়ে বলেন, ষাটের দশকে সবুজ বিপ্লবের নামে ভুল পরিকল্পনায় দেশে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর দেশের বেশির ভাগ উপকূলীয় নদী আজ মৃত্যুর প্রহর গুনছে। এখন আবারও বিদেশী বিশেষজ্ঞনির্ভর ব-দ্বীপ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। নেদারল্যান্ডসের ব-দ্বীপের আদলে করা ওই পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য কখনোই বাস্তবসম্মত হবে না। বরং দেশের যে নদীগুলো কোনোমতে টিকে আছে, তা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি দেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা করা। প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ করে সব শিল্পকারখানায় বর্জ্য পরিশোধন যন্ত্র সংযোজনে বাধ্য করা। শহুরে গৃহস্থালি ও হাসপাতাল বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ ও তরল বর্জ্য পরিশোধন সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের উচিত এই বিষয়ে উন্মুক্ত এক্সপার্ট বিতর্কের আয়োজন এবং মহাপরিকল্পনার প্রত্যেকটি দিক বিস্তারিত প্রকাশ করা। নদী ভাঙনের ভুক্তভোগী, নদী অব্বাহিকার কৃষক এবং উপকূলীয় জীবনধারার মানুষের ব্যাপক সার্ভেলব্ধ জ্ঞান মহাপরিকল্পনাকে সমৃদ্ধ করা, ডেল্টা প্ল্যান বিভিন্ন ইন্সটিটিউটের থিউরেটিক্যাল ডিজাইন না হয়ে বাস্তবিক ইনপুট সর্বস্ব করা। তারা বলছেন, বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান যদি উপরোক্ত বিষয়াদিকে সমন্বিত না করে উপকূলীয় শহর কেন্দ্রিক আবাসন ব্যবস্থাপনা এবং ল্যান্ড ক্লেইম ভিত্তিক আবাসন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হয়, তাহলে এই প্ল্যান কোন কাজেই আসবে না। বরং এটা ম্যানগ্রোভ বন, নদী, উপকূলীয় ফলনসহ আমাদের জীবন এবং কৃষি ব্যবস্থার ভারসাম্যতাকে ধ্বংস করবে। কারণ বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ মহীসোপান শেলো (বঙ্গোপসাগরে মেঘনা মোহনার গড় গভীরতা মাত্র ১৫-১৮ ফুট), এমনিতেই ভাটার সময় জেগে উঠে বিশাল আকারের সব চর ও ডুবো চর। বলা হচ্ছে হাতিয়া-নিঝুম দ্বীপ-ধামার চর এবং ধুলা-চরমোন্তাজ চর, কুকরি-মুকরি ক্রস ড্যমের মাধ্যমে মূল স্থল ভূমির সঙ্গে নির্বিচ্ছিন্নভাবে সংযুক্ত করা যাবে মাত্র দশ বছরের মধ্যেই। সেইসাথে এই এলাকায় তেল-গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনাও অনেক। অন্তত ৩৩ হাজার বর্গমাইল আয়তনের অবিচ্ছিন্ন ভূমি পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এমতাবস্থায় ভয় হচ্ছে ডাচ টেকনোলজির উৎকর্ষে ড্যাম এন্ড ডাইক ভিত্তিক এই ল্যান্ড ক্লেইমের প্রকল্পই রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ হয়ে উঠবে, রমরমা জমি ও আবাসন ব্যবসা হবে কিন্তু সুন্দরবন, প্রাণবৈচিত্র্য, সেচ, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং উপকূলীয় অন্যান্য ব্যবস্থাপনা আনফোকাসড হয়ে যাবে!
নেদারল্যান্ডস এবং বাংলাদেশের ডেল্টার যত অসামঞ্জস্য :
নেদারল্যান্ডস এবং বাংলাদেশের ডেল্টার মধ্যে ব্যাপক অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, নদীমাতৃক হলেও নেদারল্যান্ডস এবং বাংলাদেশের কৃষি ভিত্তিক জীবনধারা ব্যাপক ভিন্ন। নেদারল্যান্ডস উপকূলে বিস্তৃত ম্যানগ্রোভ নেই, বিস্তৃত উপকূল অসংখ্য ড্যাম ও ডাইক দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়েছে। এই ডাইকগুলো দিয়ে সাগর থেকে ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে যা দেশটির মোট আয়তনের তিন ভাগের এক ভাগ প্রায়, অর্থাৎ দেশটির ১/৩ ভাগ সমূদ্র সমতলের নীচে! ডাইকগুলো সমতলে লোনা পানির আগ্রাসন এবং স্থায়ী বন্যা প্রতিবন্ধক। এখানে ধান চাষ একেবারেই হয় না, খাদ্যাভ্যাস স্বল্প পানি নির্ভর কৃষিজাত গম ভূট্রা যব আলু দুধজাতীয় পণ্য নির্ভর। দেশটির বিস্তৃত মধ্যাঞ্চল শুধুই গবাদি পশুর সুবিশাল চারণভূমি। পুরো দেশের সমতলই আর্টিফিশিয়াল ক্যানেল নেটওয়ার্ক এর আওতায় এনে স্বল্প পানি নির্ভর কৃষি জাতের ফলন করা হয়। এই অগভীর ক্যানেলগুলোতে উইন্ডমিল ভিত্তিক সাধু পানি প্রবাহ সঞ্চালিত হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ উপকূল ম্যানগ্রোভ (সুন্দরবন) বেষ্টিত যা টাইডাল ওয়েভ নির্ভর এক মহাপ্রাণের আঁধার, যা একদিকে প্রাকৃতিক কর্মসংস্থানের আঁধার অন্যদিকে ভারত মহাসাগরীয় দুর্যোগ এবং জলোচ্ছ্বাস থেকে বাংলাদেশ রক্ষাকবচ। সুতরাং শাখা প্রশাখার ন্যায় নদীর জালবেস্টিত এই উপকূলীয় অঞ্চলে কোনো রকমের নদী শাসন এবং পানি ব্যবস্থাপনার মহাম্যান মেইড পরিকল্পনা অগ্রহণযোগ্য। এর বাইরে, বাংলাদেশে গড় বায়ু প্রবাহ নেদারল্যান্ডস এর তুলনায় খুবই কম বিধায় এখানে উইন্ড মিল নির্ভর পানি পানি প্রবাহ পরিকল্পনা কাজ করবে না। উপরন্তু বিস্তৃত সমভূমি শুধু গবাদি পশুর চারণ ভূমির জন্য ছেড়ে দিবার ডাচ পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য নিছকই উচ্চাভিলাষ।
এছাড়া বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডস এর তুলনায় কমপক্ষে ১২ গুন ঘন বসতিপূর্ণ। নেদারল্যান্ডস এর জী-ল্যান্ড এর নিচের দিকে খুব ছোট ছোট কিছু ম্যানগ্রোভ ফরেস্টকে বাঁচাতে দেশটির এই কর্নারে বাঁধ দেয়া হয়নি। যদিও ন্যাচারাল বনগুলো পুরোপুরি টিকানো যায়নি কারণ আপ স্ট্রীমের মিঠা পানির ফ্লো নিয়ন্ত্রিত। মনে রাখতে হবে গঙ্গা -কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের কারণে হিমালয়ের মিঠা পানি শুকনো মৌসুমে খুলনা-সাতক্ষীরার নদনদী হয়ে সুন্দরবন বিধৌত করে না। পানি সেচে ডাইভার্ট হয়ে যাচ্ছে। সুন্দরবন বাঁচাতে আমাদের এরকম কিছু করা লাগবে অর্থাৎ বরগুনা-পটুয়াখালীর পশ্চিম এবং পূর্বকে আলাদা করে সুন্দরবনের দিকে কোন ধরনের ম্যান মেইড ম্যানিপুলেশন করা যাবে না।
উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, মোহনায় একাধিক বাঁধ এবং মহীসোপানের শুরুর দিকে ডাইক থাকায় নেদারল্যান্ডস এর নদনদী মৎস্য শূন্য প্রায়। এখানে নদীভিত্তিক মৎস্য চাষ কোনো পেশা নয়, নাগরিকদের কেউই নদীতে মাছধরে জীবিকা চালান না। নির্দিষ্ট ফিসহ বাৎসরিক লাইসেন্স নেওয়া লাগে নদীতে শখের বসে মাছ ধরতেও, এই কাজটি কিছু ধনী লোকের শখ। সুতরাং বাংলাদেশের ব্যাপক মৎস্যজীবী মানুষের জীবনধারার বাস্তবতায় এটা একটা চরম ব্যাতিক্রম যা ডেল্টা পরিকল্পনার তাদের ডেল্টা প্ল্যানের আউটকাম এবং আমাদের ডেল্টা প্ল্যানের অপরিহার্য্য ইনপুট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ঋতু বৈচিত্র্যের ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতা, অনিয়মিত বৃষ্টি, বন্যা, শক্তিমান দেশ সমূহের তৈরি ফারাক্কা রূপী মরণফাঁদ, আন্তর্জাতিক নদ নদীর পানি প্রত্যাহার ও প্রবাহ পথের পরিবর্তন, উৎস থেকে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ হ্রাস, পলি পতন আর কূলের ভাঙনজনিত নাব্যতা হ্রাস, অতিমাত্রায় ব্যবহারের কারণে ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক পানির উৎসের গভীরতা বৃদ্ধি, সর্বোপরি সমতলের সাধু পানি অঞ্চলে সাগরের লবণাক্ত পানির আগ্রাসনসহ বহুবিধ কারণে বাংলাদেশের কৃষক দিন দিন পানিহারা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পানি আগ্রাসনে পড়ছে। স্যালাইন পেনিট্রেশন এর কারনে উপকূলীয় কৃষির স্বাভাবিক ক্যালেন্ডার বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে, সমস্যায় পড়ছে ফলনের জাত এবং বীজ ব্যবস্থাপনার সূক্ষ্ম ব্যাপারগুলো। এর বাইরে রয়েছে চাষাবাদের রাসায়নিক আগ্রাসনজনিত স্থানীয় ফলন জাতের বিলোপ। ফলে বীজ ব্যবস্থাপনা প্রাকৃতিক ক্যালামিটির বিপরীতে ন্যাচারাল রেজিস্টেন্স হারিয়ে রাসায়নিক সার কীটনাশাক ছাত্রাক নাশক হয়ে পড়ছে; যা মাটি এবং পানিকে বিষিয়ে কৃষি জমি এবং সাধু পানির অণুজীব ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, জমি দিন দিন অনুর্বর হচ্ছে। পরিবর্তিত জলবায়ুর অনিরাপদ বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যানকে কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার এই বিষয়গুলোকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
ব্রাকের গবেষক পলিন কুমার সাহা তার এক প্রবন্ধে বলেছেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমাদের ডেল্টা প্লানকে আরও সুপরিকল্পিতভাবে সমন্বিত করা প্রয়োজন। এখনকার ডেল্টা পরিকল্পনায় প্রধানত নদী শাসন ও খাদ্য নিরাপত্তাকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবসম্মত টেকসই উন্নয়নের মূলনীতি বিশ্লেষণ করলে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকেও এই প্রকল্পের আওতায় আনতে হবে। কেবল নদী খনন আর বন্দর উন্নয়ন করলে এই ডেল্টা প্লানের মূল কাজে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়ব। আমাদেরকে আরও সমন্বয় করতে হবে। আর এটা নেদারল্যান্ডস এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার বিভিন্ন শ্রেণির স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম থেকে হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ