ঢাকা, মঙ্গলবার 11 September 2018, ২৭ ভাদ্র ১৪২৫, ৩০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শেয়ারবাজার পতনে দায়ী ব্যাংকিং খাত

স্টাফ রিপোর্টার : টানা দুই কার্যদিবস পতনের কবলে শেয়ারবাজার। এর মূলে রয়েছে ব্যাংকিং খাত। ব্যাংকিং খাতের পতনে প্রভাব পড়েছে দেশের উভয় শেয়ারবাজারে। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় গতকালও দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া সিংহভাগ ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। ফলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দরপতন হয়েছে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। সূচকের পাশাপাশি কমছে বাজার মূলধন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাথে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনা কনসোর্টিয়ামের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী চীনের দুই প্রতিষ্ঠান শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ কনসোর্টিয়াম (জোট) ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে ৯৬২ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। এর মধ্য থেকে সরকারের কোষাগারে স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ ১৫ কোটি টাকা জমা দিয়েছে ডিএসই। বাকি ৯৪৭ কোটি টাকা ডিএসইর সদস্য ব্রোকারদের শর্তহীনভাবে ভাগ করে দেয়া হবে। এরপর থেকে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে ভালো কিছু আশা করতে থাকে। তারা মনে করেছিলো চীনের সাথে চুক্তির ফলে ইতিবাচক ধারায় ফিরবে শেয়ারবাজার। কিন্তু তা আর হলো না। শেয়ারবাজাকে ভোগাচ্ছে ধুঁকতে থাকা ব্যাংকিং খাত। ব্যাংকিং খাতের কারণেই কমছে সূচক আর মূলধন হারাচ্ছে শেয়ারবাজার।
গতকাল দুই বাজারেই সবকটি মূল্যসূচকের পতন হলেও ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে বাজারটিতে টানা দুই কার্যদিবস ৯শ’ কোটি টাকার উপরে লেনদেন হয়েছে। তবে এদিন লেনদেন বাড়লেও বাজারটিতে দরপতনের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ১০৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ১৭৭টি প্রতিষ্ঠান, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৬টির দাম।
এদিন বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরপতনের তালিকায় স্থান করে নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক খাত মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এদিন লেনদেনের শুরু থেকেই একের পর এক ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমতে থাকে। যার প্রভাব গিয়ে পড়ে অন্য খাতের প্রতিষ্ঠানেও। ফলে দিন শেষে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান পতনের খাতায় নাম লেখায়।
দিনের শুরুতে মূল্যসূচকের বড় উত্থানেই লেনদেন শুরু হয় ডিএসইতে। প্রথম আধঘণ্টার লেনদেনে ডিএসইএক্স ২৪ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর সূচকের ঊর্ধ্বমুখীতা কিছুটা কমলেও দুপুর ১ টাকা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সূচক ধনাত্মক থাকে। কিন্তু শেষ ঘণ্টায় সূচকটি টানা নিচের দিকে নামতে থাকায় পতনের মাধ্যমে দিনের লেনদেন শেষ হয়। ডিএসইতে এদিন ব্যাংক খাতের ৩০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২২টির। আর বাকি ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ব্যাংকসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুটি মূল্যসূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৪১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
মূল্যসূচকের পাশাপাশি কমেছে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ। দিনের লেনদেন শেষ ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। যা আগের কার্যদিবস শেষে ছিল ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ বাজারটির বাজার মূলধন কমেছে ৪৬৭ কোটি টাকা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কার্যদিবস শেষে বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত রোববার বাজার মূলধন কমে ৭৩১ কোটি টাকা। তিন দিনের ব্যবধানে মূলধন হারিয়েছে প্রায় ১২’শ কোটি টাকা।
এদিকে বাজার মূলধন ও মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৯৬৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯০০ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৬৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
টাকার অংকে ডিএসইতে আজ সর্বাধিক লেনদেন হয়েছে অ্যাকটিভ ফাইনের শেয়ার। কোম্পানিটির ৭৮ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা কেপিসিএলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকার। ৫০ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বিবিএস কেবলস। লেনদেনে এরপর রয়েছে- শাশা ডেনিম, সামিট পাওয়ার, ইফাদ অটোস, সাইফ পাওয়ার, নাহি অ্যালুমেনিয়াম, কনফিডেন্স সিমেন্ট এবং ফরচুন সুজ।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএসসিএক্স ১০ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ৩৬২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে মোট ২৩৭টি প্রতিষ্ঠানের ৪২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৩৪টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ