ঢাকা, মঙ্গলবার 11 September 2018, ২৭ ভাদ্র ১৪২৫, ৩০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গুজবের মামলায় ১২ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার দেখাল পুলিশ ॥ দু‘দিনের রিমান্ডে

রোববার দুপুরে নিখোঁজ ১২ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সংবাদ সম্মেলনের একদিন পর গতকাল সোমবার দুপুরে তেজগাঁও থানায় দায়ের করা পুলিশের কাজে বাধা প্রদান, ছাত্র আন্দোলনে গুজব সৃষ্টির অভিযোগ দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর মহাখালী এলাকার বিভিন্ন মেস থেকে ১২ শিক্ষার্থীকে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর অবশেষে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।
যদিও পুলিশ দাবি করেছে, ৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে তেজকুনিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ১২ জনকে আটক করা হয়। আটকদের অনেকেই ছাত্র আবার বেশ কয়েকজন অছাত্রও রয়েছে।
গতকাল সোমবার বেলা ৩টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের এ সব তথ্য জানান। গ্রেফতাররা হলেন তারেক আজিজ, মো. তারেক, জাহাঙ্গীর আলম, মোজাহিদুল ইসলাম, আল আমিন, জহিরুল ইসলাম, বোরহান উদ্দিন, ইফতেখার আলম, মেহেদী হাসান রাজিব, মাহফুজ, সাইফুল্লাহ ও রায়হানুল আবেদীন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটকের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ভুয়া আইডি কার্ড, স্কুল ড্রেস, ছাত্রশিবিরের বই, হাতুড়ি, প্লাস, কাটার, ছুরি, তিনটি ল্যাপটপসহ বেশকিছু জিনিসপত্র জব্দ করা হয়।
তারেক আজিজ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে আন্দোলনের সময় গুজব ছড়ানো হয়েছিল দাবি করে ডিসি মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এ আইডি থেকে গুজব ছড়ানো হয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির ওপর চোর লিখে দিয়েছিল। ধানমন্ডিতে চারজনকে ধর্ষণ করা হয়েছে, চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে, পুলিশ ঘুষ খায়, মন্ত্রী এমপি সবাই চোর ইত্যাদি লিখেছিল।’
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতার হওয়া সবাই শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত। তাদের কেউ সদস্য আবার কেউ ওয়ার্ড সভাপতি রয়েছে। জাহাঙ্গীর একজন সদস্য এবং সে সাংগাঠনিক সম্পাদক বলে দাবি করেছে।
‘পরিবার দাবি করেছে তাদের ৫ দিন আগে তুলে নেওয়া হয়’ জানতে চাইলে ডিসি বলেন, ‘পরিবার কী দাবি করলো তা জানার বিষয় না। পুলিশ তাদের গতকাল রাতে গ্রেফতার করেছে। তারা হয়ত আগে থেকে পালিয়ে ছিল। তারা তো নিজের বাসায় থাকত না, মেসে থাকত। পরিবার অনেককিছু দাবি করতে পারে। তবে আসল ঘটনা কি তা তো কেউ খুঁজতে আসে না। আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এসব শিক্ষার্থী অনুপ্রবেশ করে ভিন্ন স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিল।’
মাসুদুর রহমান বলেন, ‘৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ১২ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড পেলে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে। আমরা অনেককেই ধরেছিলাম।’জিজ্ঞাসাবাদ করে ১২ জনকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
‘যারা হেলমেট পড়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালাল তাদের কোনো খোঁজ মিলেছে কি না ‘ জানতে চাইলে ডিসি বলেন, ‘তাদেরও চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এদের কাছ থেকেও হ্যান্ডমাইক, হাতুড়ি ও ছুরি পাওয়া গেছে।’ হেলমেট বাহিনীকেও পাওয়া যাবে জানান ডিসি।
 রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে নিখোঁজ ১২ শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের সন্তানদের মেস থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে তাদের সন্তানদের ছেড়ে দেওয়া হোক। আর তাদের যদি কোনো দোষ থাকে তাহলে তাদের আদালতে তোলা হোক।
দু‘দিনের রিমান্ডে
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলার সময় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১২ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিন এ আদেশ দেন। রিমান্ড যাওয়া এই শিক্ষার্থীরা হলেন তারেক আজিজ, মো. তারেক, জাহাঙ্গীর আলম, মোজাহিদুল ইসলাম, আল আমিন, জহিরুল ইসলাম, বোরহান উদ্দিন, ইফতেখার আলম, মেহেদী হাসান রাজিব, মাহফুজ, সাইফুল্লাহ ও রায়হানুল আবেদীন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নিরু মিয়া আসামিদের আদালতে হাজির করেন সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে প্রত্যেককে দু'দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।
অন্যদিকে আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, কামাল হোসেনসহ অনেকেই রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ