ঢাকা, মঙ্গলবার 11 September 2018, ২৭ ভাদ্র ১৪২৫, ৩০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রসূতির পেটে গজ ব্যান্ডেজ হ্যান্ডস গ্লোবস্ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা: যশোরের চৌগাছায় তাহমিনা খাতুন (২৫) নামের এক প্রসূতির পেটে গজ-ব্যান্ডেজ ও হ্যান্ড গ্লোবস রেখে সেলাই করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ডা. সুব্রত কুমার বাগচী ও ডা. নাহিদ সিরাজের বিরুদ্ধে। তারা দু’জনই চৌগাছা উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হলেও ওই প্রসূতির অপারেশন করা হয়েছে শহরের পল্লবী ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
দীর্ঘ একমাস ১৬ দিন পরও রোগীর রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় গত রবিবার তারা আবারো ওই ক্লিনিকে নিয়ে গেলে তাকে ওয়াশ করে দেয়া হয়। তখনও কোন কিছু না পাওয়া গেলে শুক্রবার গাইনি কনসালট্যান্ট ডা. রবিউল ইসলাম পরামর্শ দেন ওই রোগীর পিপি করতে হবে। এজন্য তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।
তহমিনার মা ও স্বামী অভিযোগ করেছেন ওয়াস করার পর বাথরুমে গেলে মলদার দিয়ে অপারেশনের সময়ে ডাক্তারের ব্যবহৃত গ্লোবস বাথরুমে পড়ে। সেটি তারা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে দেখালে ক্লিনিকের মালিক গ্রাম্য ডাক্তার মিজানুর রহমান জোর করে রেখে দিলেও রোগীর স্বামী সেটির ছবি নিজের মোবাইলের ক্যামেরার ধারণ করে রেখেছেন। তারা আরো অভিযোগ করেছেন তাদেরকে আটকিয়ে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার দুপুরের পরে তহমিনাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন তার স্বজনরা। সেখানে গাইনি ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার গাইনি কনসালট্যান্ট ডা. রবিউল ইসলামের নিকট রোগীকে দেখানো হলে তিনি তাদের বলেন রোগীর পেটের মধ্যে আরো কিছু থেকে যেতে পারে। তার পিপি করতে হবে। এজন্য রোগীকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করতে পরামর্শ দেন তিনি। পরামর্শমত তাহমিনাকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রিলিজ করলে শুক্রবার দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে । সর্বশেষ এ রিপোর্ট লেখার সময়ে ওই রোগীকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে। শুক্রবার হওয়ায় কোন পরীক্ষা করতে দেয়া হয়নি বলে রোগীর স্বামী আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে রোগীদের ভুল চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে শহরের এই ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে।
এবিষয়ে হাসপাতালের মালিক গ্রাম্য চিকিৎসক মিজানুর রহমান প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও এ বিষয়ে রোগী এবং স্বজনদের ভিডিও আছে বললে তিনি বলেন ১ মাস ১৩ দিন আগে রোগীটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়। তখন ডা. সুব্রত বাগচী তাকে অপারেশন করেন আর ডা. নাহিদ সিরাজ ছিলেন অজ্ঞানকারী। ব্লিডিং বন্ধ না হলে একমাস ছয়দিন পর তাকে আবারো ভর্তি করলে তাকে ওয়াস করা হয়।
দুদিন ভর্তি থাকা অবস্থায় তার ছেলেটির নিউমনিয়া হয়। তাকে আবারো আলট্রাসোনো করেও কিছু পাওয়া যায়নি। কিন্তু রোগীর স্বজনরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে। তারা নিজেদের ইচ্ছায় গাইনি কনসালট্যান্ড ডা. রবিউল ইসলামকে দেখিয়েছে। শুনেছি তারা ডা.রবিউলের পরামর্শ মত যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ