ঢাকা, বুধবার 12 September 2018, ২৮ ভাদ্র ১৪২৫, ১ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

৫০ হাজার যোদ্ধাকে প্রস্তুত হতে বললেন এরদোগান

বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে আসা ইদলিবের বাসিন্দারা শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে

১১ সেপ্টেম্বর, ইয়ানি শাফাক, রয়টার্স  : সিরিয়ার ইদলিবে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও রাশিয়ান বাহিনীর হামলা মোকাবেলায় ৫০ হাজার যোদ্ধাকে প্রস্তুত হতে বলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান।

সিরিয়ায় তুরস্ক সমর্থিত ফ্রি সিরিয়ান আর্মির (এফএসএ) এসব সদস্যকে সিরিয়ার আফরিন, আজাজ, জারাবুলাস, আল-বাব এবং আল-রিও শহরে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

এর আগে থেকে সিরিয়ার আফরিনে তুরস্কের অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চের সময়ে আফরিন ও ইফ্রেটিস নদীসংলগ্ন এলাকায় তুরস্কের প্রায় ৩০ হাজার অবস্থান করছে।

এদিকে ইদলিব নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়ার পর তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তে সামরিক যান, মিসাইল, আর্টিলারি মোতায়েন করেছে। এছাড়া ইদলিবের উত্তর থেকে দক্ষিণ এলাকার মধ্যে প্রায় ১২টি পয়েন্টে তুরস্কের সেনাবাহিনী অবস্থান করছে। ইদলিব হামলা মোকাবেলার জন্য তারা সিমেন্টের বাঙ্কার তৈরি ও বুলেটপ্রুফ পোশাকে নিজেদের প্রস্তুত করছে।

সম্প্রতি সিরিয়ান সেনাবাহিনী ইদলিবে অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয়ার পর তুরস্ক এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। সিরিয়া বাশার আল-আসাদবিরোধীরা দেশটির সব অঞ্চল থেকে বিতাড়িত বর্তমানে ইদলিবে অবস্থান করছে। শহরটি বর্তমানে বাশারবিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইদলিব শহরে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ সাধারণ মানুষ বসবাস করছে। সেখানে অভিযান চালালে বেসামরিক মানুষের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটবে। তুরস্কে শরণার্থীর সংখ্যা বাড়বে, এমন আশঙ্কা সেখানে অভিযান চালানোর বিরোধিতা করছে এরদোগান সরকার।

ইদলিবে নতুন অভিযানে ৩০ হাজার বাস্তুচ্যুত

সিরিয়ার সরকারি ও মিত্র বাহিনীগুলো নতুন করে অভিযান শুরুর পর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব প্রদেশ থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সরকারি পক্ষ গত সপ্তাহে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ শুরু করার পর থেকে ইদলিবের এসব বাসিন্দারা পালাতে শুরু করে বলে সোমবার জানিয়েছে ওই এলাকায় ত্রাণ উদ্যোগের সমন্বয়রত জাতিসংঘের একটি সংস্থা; খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

সিরিয়ার বিদ্রোহীদের শেষ বড় ঘাঁটি ইদলিব পুনরুদ্ধারে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করেছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত সরকারি ও মিত্র বাহিনীগুলো। এই অভিযানের মুখে ইদলিব থেকে আট লাখ বেসামরিক বাসিন্দা পালিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবিক বিষয় সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) । এতে একুশ শতকের সবচেয়ে শোচনীয় মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ওসিএইচএ-র প্রধান মার্ক লোকক।

রাশিয়া ও ইরানের সমর্থনপুষ্ট দামেস্ক ইদলিব ও সিরিয়ার উত্তরাপশ্চিমাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ইদলিবে অস্ত্রবিরতি করা নিয়ে শুক্রবার তুরস্ক, ইরান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টত্রয়ের এক বৈঠক ব্যর্থ হয়। এরপর সিরিয়া ও রাশিয়ার যুদ্ধবিমানগুলো ফের প্রদেশটিতে বিমান হামলা শুরু করে।  

ওসিএইচএ-র মুখপাত্র ডেভিড সোয়ানসন রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রোববার পর্যন্ত সিরিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চল থেকে ৩০,৫৪২ জন বাস্তুচ্যুত হয়ে ইদলিবের অন্যান্য এলাকায় চলে গেছে। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব ও সংলগ্ন লাতাকিয়া, হামা ও আলেপ্পো প্রদেশের ছোট কয়েকটি অংশে প্রায় ২৯ লাখ মানুষের বাস। এদের অর্ধেকই সিরিয়ার অন্যান্য অংশ থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিল।   

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ