ঢাকা, বুধবার 12 September 2018, ২৮ ভাদ্র ১৪২৫, ১ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিশ্বকে বদলে দেয়া ৯/১১’র ১৭তম বার্ষিকী পালিত

৯/১১’র সেই হামলায় ধ্বংস হয় টুইন টাওয়ার

১১ সেপ্টেম্বর, এএফপি, আল জাজিরা : মঙ্গলবার ছিলো বিশ্বকে বদলে দেয়া সেই ৯/১১। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বড় সন্ত্রাসী হামলার ১৭তম বার্ষিকী। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ততম শহরগুলোর একটি নিউ ইয়র্কে অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুইটি ভবনে বিমান নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।

যাত্রীবাহী চারটি বিমান ছিনতাই করে একযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার ও ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনে হামলা চালায়। ধ্বংস হয় পাশের আরেকটি ছোট ভবনও। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে বহু মানুষ। উদ্ধার তৎপরতা চালাতে গিয়েও প্রাণ হারান অনেকে। এ হামলায় কমপক্ষে তিন হাজার লোক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকও ছিলেন। এর প্রভাব পড়ে সারা বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে। এ হামলার জন্য উগ্রবাদী গোষ্ঠী আল কায়েদাকে দায়ী করা হয়ে থাকে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এই হামলাকে ‘আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং ধৃষ্টতাপূর্ণ হামলা’ আখ্যা দেয়।

নাইন-ইলেভেনের ১৭ বছর পূর্ণ হলো গতকাল মঙ্গলবার। নিহতদের স্মরণে এবারও জানানো হয়েছে শ্রদ্ধা। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার এ রুটিনওয়ার্ক ফি বছর অব্যাহত থাকলেও আজ অবধি জানা যায়নি এর প্রকৃত রহস্য। ফলে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি কী ছিল নাইন-ইলেভেনের মনে, আর এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আক্রমণকারীরা আমেরিকাকে কী বার্তাই বা দিতে চেয়েছিলেন।

নাইন-ইলেভেনের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি রোষানলের শিকার হয়েছে মুসলমানরা। তাদের প্রতি সব সময় অভিযোগের তীর ছোড়া হয়েছে। যদিও এর পেছনে শক্তিশালী কোনো যুক্তি এখনও উপস্থাপন করা হয়নি।

এ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ডাকে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ একতাবদ্ধ হয় পশ্চিমা শক্তিগুলো। আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে তারা ক্ষমতাচ্যুত করে তালেবানদের।

অথচ আফগানিস্তানের তালেবানদের পেলে-পুষে বড় করেছিল যুক্তরাষ্ট্রই। অভিযোগ আছে, আফগানিস্তানে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তালেবানকে দুধকলা দিয়েছিল ওই সময়কার মার্কিন প্রশাসন।

আফগান যুদ্ধ শুরুর পর কথিত ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে হামলা হয় ইরাকেও। এরপর দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয় নতুন উগ্রগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট এবং সেই সূত্রে আরও যুদ্ধ চলমান রয়েছে।

আফগানিস্তানের পর ২০০৩ সালে ইরাকে আক্রমণ চালিয়ে বসে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযোগ তোলা হয়, ইরাকের তৎকালীন একনায়ক সাদ্দাম হোসেইন মজুত করছেন গণবিধ্বংসী অস্ত্র। যদিও সাদ্দাম সরকার উৎখাতের এত বছর পরও সেই অস্ত্রের ‘অ’ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কথিত এ ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ ধারাবাহিকতায় একে একে ধ্বংস করা হয়েছে ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরো অনেক দেশ এখন এ যুদ্ধের বলি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ