ঢাকা, বুধবার 12 September 2018, ২৮ ভাদ্র ১৪২৫, ১ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচন দিতে হবে

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমী -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব নূর হোছাইন কাসেমী বলেছেন, একতরফাভাবে গায়ের জোরে বহু আন্দোলন ও সংগ্রামের ফসল ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ সরকার বাতিল করে দিয়েছে। ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করার মানসিকতা আজ দেশের মধ্যে গভীর সংকট সৃষ্টি করেছে। এই মানসিকতা পরিহার করা না হলে দেশে গৃহযুদ্ধ অবধারিত। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হয়ে পড়বে অনিরাপদ। তাই কোন প্রকার টালবাহানা না করে তফসিল ঘোষণার পূর্বে চলমান সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দায়িত্ব হস্তান্তর করে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মুফতী মুনীর হোছাইন কাসেমী, অর্থ সম্পাদক মাওলানা জাকির হোছাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী নাসিরুদ্দীন খান, দফতর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গাফ্ফার ছয়ঘরি, যুব জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া কাসেমী, মাওলানা বশীরুল হাসান খাদিমানী, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মাওলানা নূর মোহাম্মাদ ও মাওলানা ওমর আলী প্রমুখ।
নূর হোছাইন কাসেমী বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন একটি পাতানো নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় উক্ত বিতর্কিত নির্বাচনটি ছিল নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। সময়মত গ্রহণযোগ্য আরেকটি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিও তিনি তখন দিয়েছিলেন কিন্ত দুর্ভাগ্য যে, তিনি তার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। ফলশ্রুতিতে পরিণতি যা হওয়ার তাই হয়েছে। আইন, বিচার ও প্রশাসনসহ দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানে আজ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নেই। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ হেন অপকর্ম নেই যা বর্তমান সরকার করেনি। সর্বত্র দুর্নীতি আর দুর্নীতি। ব্যাংক লুট, রিজার্ভে থাকা স্বর্ণ লুট, কয়লা লুট, পাথর লুটসহ সব অপকর্মই হয়েছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।
তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া জনমত প্রতিফলিত হয় না। তাই প্রত্যেক ভোটার যেন নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে। এ দাবিগুলো এখন আর কোন এক নির্দিষ্ট দলের দাবি নয়। এগুলো জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। একইসাথে নির্বাচনের দিনসহ নির্বাচনের আগে-পরে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী নিয়োগ করতে হবে।
তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেজা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে তার পছন্দমত হাসপাতালে সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ