ঢাকা, বুধবার 12 September 2018, ২৮ ভাদ্র ১৪২৫, ১ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাগমারায় অসময়ে চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফলতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কারণে এলাকায় অসময়ে ভয়াবহ বিদ্যুতের লোড শেডিং চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় ব্যাপক হারে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসী। এদিকে অভিযোগ কেন্দ্রের নির্ধারিত ফোন নম্বারে ফোন খোলা থাকলেও তা রিসিফ না করায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। 

 জানা গেছে, গত প্রায় এক মাস যাবত নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বাগমারা জোনাল অফিসের আওতায় দিনে রাতে ২৪ ঘন্টার অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। রাতের বেলা এই দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। এলাকায় গ্রীষ্মকালে সেচ কাজে ব্যবহারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এখন সেচ যন্ত্র বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের বড় ধরনের ব্যবহার কমলেও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অফিস- আদালত, কল-কারখানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সর্বসাধারণকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। সামান্য বৃষ্টি বা একটু জোরে বাতাস হলেই নাটোর পল্লী বিদ্যুতের জাতীয় গ্রীড ফল্টের অজুহাতে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। আবার আকাশ সামান্য মেঘাচ্ছন্ন হতে না হতেই একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। মাঝে মাঝে লোড শেডিংয়ের মাত্রা ব্যাপক বেড়ে যায়। তখন কেন্দ্রীয় সঞ্চালন লাইনসহ অন্যান্য লাইন মেরামতের অজুহাত দেওয়া হয়। বর্তমানে সন্ধ্যার পর এক টানা বিদ্যুৎ না পেয়ে সকল স্তরের জনসাধারণ দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বাগামারা জোনাল অফিসের বিগত দিনের ডেপুটি জেলারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ফসিউল আলম এলাকার চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতার পরিচয়ে যথেষ্ট বরাদ্দ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি এখান থেকে যাওয়ার পরপরই এলকাবাসী চরম লোড শেডিংয়ের কবলে পড়েছেন বলে এলাকাবাসী দাবি করেন। এছাড়া অফিসে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্যের একাধিক অভিযোগ পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সহ বিভিন্ন দপ্তরে থাকলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না এলাকাবাসী। এতে কতিপয় অসৎ ব্যক্তিদের দ্বারা লাঞ্চিত হচ্ছেনও অফিসের প্রগতিশীল সৎ অফিসারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগী মহল দাবি করেছেন। তাদের মতে, বাগমারা জোনাল কার্যালয়ের স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে রয়েছে, বিদ্যুৎ ইউনিটের বিপরীতে বিদ্যুতের বিল বেশি করে দেয়া, মিটার সংযোগ ছাড়াই লাইন সংযোগ দিয়ে অবৈধ বিল আদায়, মিটার ভাড়ার নামে প্রতি মাসে মাসে টাকা আদায়, অবৈধ পার্শ¦সংযোগ দেয়া, সেচ বিলে ব্যাপক কারসাজি করে বিল আদায়, নতুন সংযোগ ও মিটার প্রদানে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ প্রভৃতি দুর্নীতিতে বিদ্যুত অফিসের কথিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীরা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 এদিকে অভিযোগ কেন্দ্রের নির্ধারিত মোবাইল ফোন নম্বারে ফোন খোলা থাকলেও তা রিসিভ না করায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রের অপারেটর ফোন রিসিভ করার কথা থাকলেও তা মানা হয় না। এতে করে কোন অঘটন ঘটলে স্থানীয়রা অভিযোগ কেন্দ্রে নির্ধারিত নম্বারে বার বার ফোন দিয়ে কোন লাভ পায় না। এতে করে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগীরা আরো জানান, ইতিপূর্বে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির কারণে এই অফিসের ওয়ারিং পরিদর্শকসহ একাধিক কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত ও স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও তাদের পেতাতœারা পূর্বের স্টাইলেই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেলারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রেজাউল করিম জানান, সাবস্টেশনে সমস্যায় চাহিদার কম বিদ্যুতে পাওয়ায় লোড শেডিং হচ্ছে। এছাড়া তিনি সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি থাকার কথা স্বীকার করলেও অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ