ঢাকা, বুধবার 12 September 2018, ২৮ ভাদ্র ১৪২৫, ১ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

যে কোনো সময় ক্ষমতাসীন আ’লীগের বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার কালক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, দেশনেত্রীর শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতিতে যাচ্ছে। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা বলেছেন, দ্রুত চিকিৎসা না দেয়া হলে তার বাম পা ও হাত অবশ হয়ে যেতে পারে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার দুই দিন পার হয়ে গেলেও দেশনেত্রীর চিকিৎসার বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, দেশের জনগণ এই সরকারের পতনের অপেক্ষায় আছে। যে কোনো সময় জনগণের এই বিস্ফোরণ ঘটবে। তখন সরকারের কিছুই করার থাকবে না।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য কবীর মুরাদ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, মুনির হোসেন, আবদুল আউয়াল খান, সাইফুল ইসলাম পটু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে ছলচাতুরি চলছে এবং কালক্ষেপণ করা হচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, আমি দলের পক্ষ থেকে কাল বিলম্ব না করে তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে সুচিকিৎসার জোর দাবি জানাচ্ছি। রিজভী বলেন, দেশনেত্রীর মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আজ বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকাসহ সারাদেশে মহানগর ও জেলা সদরে প্রতীক এই অনশন হবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত । তিনি বলেন, রাজধানীতে আমরা মহানগর নাটমঞ্চ অথবা রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন প্রাঙ্গণের জন্য অনুমতি চেয়েছি। আশা করছি যেকোনো একটার অনুমতি আমরা পেয়ে যাবো। সকাল ১০টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে।
 সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনেসহ ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর, টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, বগুড়া, নাটোর, ঝালকাঠি, নরসিংদীতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে তিন শতাধিক নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতারের তালিকা তুলে ধরেন রিজভী। এর মধ্যে ঢাকায় ২৭৫ জন রয়েছেন। তিনি বলেন, মানববন্ধনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে এভাবে গ্রেপ্তারের ঘটনা পরিকল্পিত। তারা(পুলিশ) কর্মসূচি করতে অনুমতি দিলেন, শান্তিপূর্ণ একটা মানববন্ধন নেতৃবৃন্দ দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। সেটিকে বানচাল করানোর জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দমননীতি চালালো সরকার। এই ধরণের আচরণ কেনো?  দেশজুড়ে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে।
রিজভী বলেন, মানবন্ধন কর্মসূচির পর থেকে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু বকর সিদ্দিকী নিখোঁজ আছেন, তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। নিশ্চয়ই তিনি সরকারি কোনো বাহিনীর নিকটেই আছে।  আমি অবিলম্বে তাকে জনসমক্ষে হাজির করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
রিজভী বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকেও একতরফা করতে অবৈধ ভোটারবিহীন সরকার নানা নীলনকশা করেই যাচ্ছে। দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় থানায় গায়েবী মামলা দায়ের অব্যাহত রয়েছে। সরকারের নীলনকশার অংশ হিসেবে আগামী নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ও সক্রিয় নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধেও ঢালাওভাবে মামলা দেয়া হচ্ছে। দেশব্যাপী স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষকদের তালিকা করা হচ্ছে, কারা বিএনপি করে বা বিএনপি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ বেছে বেছে আওয়ামী সমর্থিত লোকদেরকে নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কার্যক্রম চলছে। মানুষের সকল অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। প্রশাসনকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করা হয়েছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বানানো হয়েছে সরকারের দলীয় বাহিনীতে, বিচার বিভাগের স্বার্ধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, নি¤œ আদালতে এখন ন্যায় বিচার উধাও হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহবান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এটা অপরিহার্য। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এসব সহিংসতার জন্য হেলমেট পরা যেসমস্ত আওয়ামী ক্যাডার’রা দায়ী তাদেরকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।সুতরাং দেশ-বিদেশের কারও দৃষ্টিকেই আর ফাঁকি দিতে পারবে না এই ভোটারবিহীন অত্যাচারী সরকার।
তিনি বলেন, গত দশ বছরের বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার দেশব্যাপী বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে, যেভাবে হত্যা গুম খুন চালিয়েছে, যেভাবে ক্রসফায়ারের নামে সাধারণ নিরপরাধ মানুষকে খুন করেছে, যেভাবে নিরাপদ সড়ক ও কোটা আন্দোলনের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন চালানো হয়েছে, মামলা দেওয়া হয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে, এখনও উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে আছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এখনও শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার চলছে, তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। কয়েকদিন আগে ১২ জন শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে গিয়ে সোমবার গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই দৃষ্টান্ত সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাসীদের দ্বারাই সম্ভব। রাষ্ট্রের মালিকানা এখন বেআইনী সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গেছে। এ অবস্থায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, হেলমেট বাহিনী ও ছাত্রলীগ দিয়ে সেই জনরোষ রোধ করা যাবে না। নেকনজরে পড়ার জন্যই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আইনানুগ কাজ না করে সরকারের কথা শুনছে। যতদিন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধ সরকারের গৃহজাত বাহিনী হয়ে থাকবে ততদিন আইনের শাসন অদৃশ্যই থেকে যাবে। জনগণের মধ্যে আওয়ামী নির্যাতনে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, যেকোনো সময় তার বিস্ফোরণ ঘটবেই। অবৈধ সরকারের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। কারণ অবৈধ সরকারের প্রধানের ‘বর্বর অহমিকার’ প্রতি ঘৃণা মিশ্রিত রোষে দেশের জনতা আজ উত্তাল। দাঁড়ানোর কোনো শক্ত জমিন তাদের নেই। তাই গাছের পাতা নড়লেও সরকার এখন চমকে উঠছে। তবে এই অবৈধ সরকারের পতনের খবর আলোর গতিবেগের ন্যায় চরম ক্ষিপ্রগতিতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই ফ্যাসিস্ট রাত্রির অন্ধকার পোহাবেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ